আশরাফ-ফখরুল বৈঠক

0
14
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলামের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। শনিবার রাতে রাজধানীর বনানীতে বিএনপির এক এমপির বাসায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বৈঠকের বিষয়ে দুই দলই কঠোর গোপনীয়তা রক্ষা করেছে।

জানা গেছে, সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল পূর্বানীতে একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দিয়ে সেখান থেকে বনানীর উদ্দেশে রওনা হন মির্জা ফখরুল। পরে সন্ধ্যা ছয়টা ৪০ মিনিটে বনানীর ১৬ নম্বর রোডের এ ব্লকের একটি বাসায় যান তিনি।

এর ২০ মিনিট পর একই বাসায় আসেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টা বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে রাত ৮টায় প্রথমে বের হন সৈয়দ আশরাফ। তিনি বের হওয়ার কিছু সময় পরে মির্জা ফখরুল বের হয়ে সরাসরি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান।

এদিকে শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া। এসময় তিনি মির্জা ফখরুল ছাড়াও তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মোবিন চৌধুরী।

এ বৈঠককে আনুষ্ঠানিক সংলাপের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা।

সূত্র জানায়, আলোচনার জন্য সৈয়দ আশরাফ ও মির্জা ফখরুল দুই নেত্রীর কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওমরাহ হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়ার আগে সৈয়দ আশরাফকে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করার দায়িত্ব দিয়ে গেছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এর আগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দুই দলের সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ে আলোচনা শুরুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। ব্যবসায়ীদের ওই প্রতিনিধিদল এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করেন।

এর আগে শনিবার দুপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফকে টেলিফোন করেন। তারা বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন। পরে তারা মুখোমুখি বসেন।

জানা যায়, সংলাপের আলোচ্য সূচি, সর্বদলীয় সরকারসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করে আনুষ্ঠানিক সংলাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেই দুই নেতার বৈঠক হয়। এ সময় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কাছে তাদের দাবি সংবলিত লিখিত প্রস্তাব চান। তা নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা করে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক সংলাপে বসার ইচ্ছার কথা বলেন।

দুই দলের মহাসচিব পর্যায়ে সংলাপে বসতে গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাকুঞ্জে এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুলকে বলেন। এর পরই দুই নেতা সংলাপে বসলেন। তাদের আলোচনায় দুই দলের যে ভাবনা উঠে এসেছে তা নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা করে আবারো আলোচনায়  বসবেন দুই নেতা।

এর আগে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দল রাষ্ট্রপতিকে সংলাপের আয়োজন করার অনুরোধ করেন। পরে রাষ্ট্রপতি সৈয়দ আশরাফকে সংলাপে বসার অনুরোধ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়াকে গত ২৬ অক্টোবর টেলিফোনে সংলাপের আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সময়ের পরে যেকোনো সময়ে বসার কথা বলেন। তারপর বিরোধী দলের কয়েক দফা হরতালের কারণে ভেস্তে যায় ওই যাত্রার সংলাপের প্রক্রিয়া। সংলাপে বসার জন্য দুই নেত্রীকে ফোন করেন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও মিত্র রাষ্ট্রগুলোর অনেকেই সংলাপের কথা বললেও তখন বরফ গলেনি। এবার মার্কিন সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাইয়ের বাংলাদেশ সফর ও সংলাপের তাগিদ এবং রাষ্ট্রপতির অনুরোধে সম্মতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর ফলেই দুই দলের মহাসচিব পর্যায়ে সংলাপের দ্বার উন্মুক্ত হয়।

Facebook Comments