গণতন্ত্র স্বাধীনতা কিছুই থাকবে না

0
14
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,“আমারা সুখে নেই, প্রতিমুহুর্তে আমাদের হত্যা করা হচ্ছে, খুন করা হচ্ছে, গুম করা হচ্ছে। আপনারা জানেন নয়ন বাঙালিকে কীভাবে পুলিশ আক্রমণ করেছে। আমাদের নেতাকর্মীদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। এই সরকারের অধিনে কোন নির্বাচন হতে পারে না। সরকারের সেই নৈতিক অধিকারও নেই।”

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল পূর্বাণীতে ‘দি পলিটিক্যাল থট অব তারেক রহমান’ শীর্ষক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন,”হাসিনা সরকার নিজেদের খেয়াল খুশি মতো সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতায় আসতে পারে। এটা গণতন্ত্র নয়। নির্বাচন কমিশন কী চিন্তা করেন না যে তারা শপথ নিয়েছেন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের। কই তারাতো একবারও বলেন না যে বিরোধীদলের ওপর সকল বিধিনিষেধ তুলে নেয়া হোক। এই যদি চলতে থাকে বাংলাদেশে কোন গণতন্ত্র থাকবে না, স্বাধীনতা থাকবে না। সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই সরকারকে সরতে বাধ্য করতে হবে।”

ফখরুল আরো বলেন,“আমরা রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেছিলাম। এরপর কোন ধরনের ঘোষণা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বললেন,”রাষ্ট্রপতি আমাকে নির্বাচনকালীন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন। এটা কোন গণতন্ত্র নয়।”

তিনি বলেন,“কোথায় সেই তরুণ সমাজ যারা যুগে যুগে দেশের সংকটের সময় ভুমিকা রেখেছে। তারা জেগে উঠছে না কেন। আর দেরি করা যাবে না এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার সময় এসেছে।”

তারেক রহমান প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন,“নিজে প্রতিহিংসার শিকার হয়েও তারেক রহমান বলেন, আমি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমাদের পেছনে তাকালে হবে না সামনে তাকাতে হবে। রাজনৈতিক চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন করতে হবে। এই মুহুর্তে তারেক রহমানের দর্শনের বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

বইটির প্রকাশনা অনুষ্ঠানে এসে বিএনপি’র উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমির খসরু বলেন, “তারেকের অপেক্ষায় আছি। তবে আমরা যদি রাস্তায় না নামি তাহলে এই স্বৈরাচারি সরকারের পতন কীভাবে হবে? সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ রাস্তায় নেমেছে, আগামীকাল থেকেই ঢাকার মানুষ রাস্তায় নামুন। স্বৈরাচার সরকারকে হটান।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেন,“এই তরুণকে বইয়ে যেভাবে বর্ণনা করা হয়ে বাস্তবে তার চেয়ে পরিচ্ছন্ন। তার বক্তব্য আমি নিজেও শুনেছি। তিনি শিক্ষাকে সবার দোরগোরায় পৌছে দেয়ার জন্য যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন তা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমরা অনেক দূরে যেতে পারবো। পানির সমান বণ্টন নিয়ে তার পিতা যে পদক্ষেপ নিয়েছিলেন সেটা নিয়েও তিনি এখনো ভাবেন। আমাদের মহান প্রতিবেশি যেভাবে আমাদের নদনদী যেভাবে বন্ধ করে দিচ্ছে তাতে বর্তমানে জিয়াউর রহমানের খালকাটা কর্মসূচি গ্রহণ না করে উপায় নেই।” তিনি তারেক রহমান দ্রুত ফিরে আসবেন বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।

এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব) এর আয়োজনে প্রকাশনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ম্যাব এর সভাপতি সৈয়দ আলমগীর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান মিঞা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালিয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোস্তাহিদুর রহমান, ফেডারের সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি কবি আব্দুল হাই সিকদার,পটুয়াখালি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালিয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম শহিদুল ইসলাম, সাবেক সচিব মুশফিকুর রহমান।

Facebook Comments