বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জাতির বিবেক

0
19
Print Friendly, PDF & Email

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বিবেক আমাদের দেশ পৃথিবীর মানচিত্রে একটি বিন্দুর মত হলেও ষোল কোটি লোকের অধ্যুষিত এ দেশে বহু দল ও বহু মতের সংগঠন রয়েছে। আমি এ সমস্ত দল মতের নাম প্রকাশ করে কাউকে ছোট বা খাট করতে চাচ্ছি না। আমি মনে করি আমাদের দেশের আমজনতা আজও বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মত বুদ্ধিবৃত্তি তৈরী হয় নি। বিবেক আছে, বিবেকের দংশন আছে, আছে বিবেক বিবর্জিত লোক।

নেশাখোর মানুষ মাতাল হয়ে যে সমস্ত কাজগুলো করে থাকে আমাদের দেশের আমজনতাও ঠিক সেই সমস্ত কাজগুলো হরদম করে থাকে। এটা ভাল কি মন্দ তা যাচাই বাছাই করার মত ফুসরত তাদের নেই। একজন কালো টাকার মালিক একজন সৎ লোকের সাথে নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করে অনায়াসে সেই কালো টাকার মালিক জয়ী হয়, এটা কেন হয়? আমি আগেই বলেছি আমাদের দেশের আমজনতা হুজুকে বাঙালী। অর্থ এবং স্বার্থের বিনিময়ে নিজের বিবেককে অন্যের কাছে বিকিয়ে দিতে কেউ নিজকে পিছিয়ে নেই। আমলা থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ এমনকি আমাদের দেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর একই চিত্র। আজ কোথায় নেই দুর্নীতি, কোথায় নেই মানবাধিকার লঙ্ঘন। বিশ্বের যে সমস্ত দেশ মানবাধিকার নিয়ে মাথা ঘামায় এবং যারা মানবাধিকার মানবাধিকার জপতে জপতে যাদের মুখে থু থু এসে যায় সেই সমস্ত দেশের মানবাধিকারের পরিণতি দেখলে গা গুলিয়ে যায়। কোন দেশে অপরাধ সংঘটিত হয় না, তা খুঁজলে হয়ত পাওয়া খুব মুশকিল হবে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের দেশের মাত্রাটা একটু বেশী। অন্যান্য দেশের সাথে পাল্লা দিয়ে আমাদের দেশে মানবাধিকার ও অপরাধ দিন দিন গাণিতিক ও জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে চাকুরী ক্ষেত্রে নেমে এসেছে অন্ধকারের অমানিশা। মেধা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চাকুরীর বেলায় দেখা যায় এক নব আবিস্কৃত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিগত কারণে অনেক মেধাবী ছাত্র তার প্রাপ্য যোগ্যতার চাকুরী সে পায় না। রাজনৈতিক নেতাদের তদবির, আমলাদের দূর্নীতি ও মধ্যস্থতাকারী এক শ্রেণীর দালালদের খপ্পরে পড়ে আছে আমাদের বাংলাদেশ। বার বার দূর্নীতির ক্ষেত্রে হেট্রিক করার পরও আমাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয় না। কী এক অদ্ভুত মরিচিকা ও কালো থাবার আড়ালে পড়ে আছে আমাদের নাম কায়স্থ সোনার বাংলাদেশ। আমাদের মুখে যদিও জোরে সোরে গেয়ে যাই সেই রবি ঠাকুরের রচিত আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি। আসলে আমাদের ভালবাসা শুধু মাত্র আমাদের মুখে, অন্তরে আছে বিষ-বাষ্প। এ বিষ-বাষ্পের ভেতর থেকে যদি আমরা বেরিয়ে না আসতে পারি তবে আমরা শুধুই মুখে মুখে গর্বিত জাতি হিসেবেই থেকে যাব। অপরদিকে, আমাদের মন এবং মানসিকতা হলো পরনিন্দা ও অপরের কুৎসা রটনা ছাড়া মনে হয় আমাদের আর কোন কাজ নেই। ব্যক্তিগত আক্রোশের বশবর্তী হয়ে আমরা এহেন গর্হিত কাজগুলো করে থাকি। যদি আমাকেও প্রশ্ন করা হয় এত দেশ দরদী এত ভাল লোক তুমি তাহলে দাও না দেশটাকে আমূল পরিবর্তন করে। কিভাবে পারব আমিও কি তাদের চেয়ে কোন অংশে কম। তাছাড়া দুই চার জন ভাল লোক হলেই যে দেশটাকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করা যাবে তা ঠিক নয়। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কর্ণেল এম. এ. জি. ওসমানি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মাওলানা ভাষানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক উনারা কি দেশ প্রেমিক ছিলেন না? উনারা শুধু দেশ প্রেমিক নয় বিশ্বের মাঝে হাতে গোনা ভাল নেতাদের মধ্যে অন্যতম। উনারাও পারেন নাই এই সোনার বাংলাকে সোনার বাংলায় রূপান্তরিত করতে।

Facebook Comments