রাজনৈতিক সংকট উত্তরণ ও জনদুর্ভোগ লাঘব প্রসঙ্গে

0
12
Print Friendly, PDF & Email

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বড় দুই দলের ইতিবাচক পদক্ষেপই পারে জনদুর্ভোগ কমাতে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আপোষহীন বিরোধী দলীয় নেত্রী তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উভয়েরই জণগণ ও দেশের স্বার্থে একটি সমান্তরাল রেখায় অবস্থান করে উভয়ের পক্ষ থেকে ছাড় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অথবা বর্তমান সংবিধানের আলোকে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। উভয় বড় দলের ঐকান্তিক চেষ্টা, সমঝোতা ও আদর্শের ভিত্তিতে এটা করা না হলে ভবিষ্যতে আমাদের দেশ ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হতে পারে। যা থেকে আমাদের দেশের বড় দুইটি দলই এ দায়ভার থেকে মুক্তি পাবে না। আমি একজন দেশের সাধারণ জনগণ হিসেবে যা মনে করি তা আমার মত করে নিম্নে কিছু তথ্য উপাত্ত্ব উপস্থাপন করলাম। এটা হয়ত নিছক মনে হলেও আমার আশা এবং দৃঢ় বিশ্বাস এটা উভয় দলেরই একবার হলেও ভেবে দেখা প্রয়োজন। প্রথমতঃ প্রধানমন্ত্রী যদি সংবিধানের বিধান মোতাবেক কঠোর না হয়ে নমনীয় ভাব দেখিয়ে সকলকে সাথে নিয়ে একটি নিরপেক্ষ, সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতেন তবে দেশ জাতি আজ এ হুমকির সম্মুখীন হতে হতো না। দ্বিতীয়তঃ সাবেক প্রধানমন্ত্রী আপোষহীন বিরোধী দলীয় নেত্রী তার নামের আগের আপোষহীন শব্দটাকে নমনীয় করে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সরকারের সাথে মিলে পরবর্তীতে যাতে একটি সুন্দর নির্বাচন পদ্ধতি বের করা যায় তার জন্য পদক্ষেপ নিলে আরও একটু ভাল হতো। বর্তমান উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য সরকারী দল ও বিরোধী দলীয় নেত্রী উভয়েই সমভাবে দায়ী। যদি বিরোধী দলীয় নেত্রী আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার যে সংলাপ সংলাপ খেলা না খেলে প্রকৃত পক্ষে সঠিক ভুমিকা গ্রহণ করতে তবে অন্ধকারের মাঝেও অনেকটা আশার আলো পাওয়া যেত। অন্য দিকে বিরোধী দলীয় নেত্রীরও প্রয়োজন ছিল সংলাপটাকে টার্গেট করে তাদের দাবী আদায়ের পথকে সুগম করে নিতে পারতেন। এখানে মজার বিষয় হলো আমাদের বাংলাদেশের বড় দুই দলের মধ্যে কিছু নেতা-নেত্রী আছেন যারা দুই নেত্রীর কাঁধে সিন্দাবাদের ভুতের মত জেঁকে বসে আছেন বলেই তাঁরা একক ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। যাই মনে করি আমার মতে বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারে যারা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এম, পি, থাকবেন তারা ¯^-c‡` বহাল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না, কেন না এতে করে নির্বাচনে তার বিরুপ প্রভাব পড়বে। বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারে যারা প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, এম, পি, থাকবেন তারা পরবর্তীতে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হিসেবেও সংসদে আসতে পারবেন না। সকল দলের মধ্য থেকে যারাই বর্তমান অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারে আসতে চায় তাদের নিয়ে একটি সুষ্ঠু সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করে দেশ, জাতি তথা দেশের আপামর জনসাধারণকে দুর্ভোগ থেকে রেহাই দেয়াই জনগণের একমাত্র দাবী। দেশ কোন দল বা গোষ্ঠির একার নয়, এটা বাংলার ষোল কোটি মানুষের। কোন দলের এমন কোন কর্মসূচী বা সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ নয় যা জনগণের ¯^v_© বা জানমালের উপর আঘাত হানে, তেমন কোন কর্মসূচী বা সিদ্ধান্ত নিলে বাংলার জনগণও তাদের সিদ্ধান্ত পরবর্তী নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জানিয়ে দেবে।

Facebook Comments