মোবাইল চুরি যাওয়া ও প্রতিকার প্রসঙ্গে

0
23
Print Friendly, PDF & Email

বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে যোগাযোগ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন এক বিরাট সফলতার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্বল্প সময়ে পৃথিবীর এক প্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে এক মূহুর্তে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব। এ মোবাইল ফোন ব্যবহার ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোন সুনিদির্ষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে অনেক সময় অনাকাঙ্খিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এ মোবাইল ফোনে ব্যবহৃত সীম/রীম সঠিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন না থাকার কারণে অনেক সময় অপরিচিত নম্বর হতে অনেককে জীবনে মেরে ফেলার হুমকী,চাঁদা প্রদানসহ বিভিন্ন প্রকার টোপ ফেলা হয়। অনেক সময় ঐ সমস্ত সীম/রীমের রেজিস্ট্রেশন না থাকায় সীম/রীম ব্যবহৃত ব্যক্তির সঠিক পরিচয় পর্যন্ত পাওয়া যায় না। আবার একই ব্যক্তি রেজিস্ট্রেশন ব্যতিত বহু সীম/রীম ব্যবহার করে থাকে। এরই ফলে একই ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে সীম/রীম পরিবর্তন করে অপকর্মগুলো করে থাকে। যদি প্রতিটি সীম/রীম সঠিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেজিস্ট্রেশন করা থাকত তবে সেক্ষেত্রে সীম/রীম ব্যবহৃত ব্যক্তি কোন প্রকার অনাকাঙ্খিত ফোন কল করার পূর্বে তার পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার কারণে ঐ কাজগুলো হতে বিরত থাকত। বর্তমানে যে সমস্ত সীম/রীম সঠিক রেজিস্ট্রেশন নেই,সেই সমস্ত সীম/রীমগুলি বাতিল করে সঠিক পরিচয়পত্রসহ পুনরায় রেজিস্ট্রেশন করানো মোবাইল কোম্পানীগুলোর একান্ত প্রয়োজন বলে সকল মহলে বদ্ধমূল ধারণা। সন্ত্রাসীরা এই সীম/রীমের মাধ্যমে তাদের সহযোগীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নানাবিধ অপকর্মগুলো করে থাকে। এদের মধ্যে চুরি,ছিনতাই,ডাকাতি,গুম,হত্যা,ধর্ষণ,হুমকী,চাঁদাবাজীসহ বিবিধ কাজ সম্পন্ন করে যাচ্ছে নির্বিঘ্নে। সীম/রীমের সঠিক রেজিস্ট্রেশন থাকলে এবং সীম/রীম হতে কথাগুলো মোবাইল কোম্পানীগুলো এক মাস পর্যন্ত রেকর্ড করে রাখার ব্যবস্থা করলে এই সমস্ত ঘটনাগুলো হতে অনেকাংশে পরিত্রান পাওয়া যেত। এছাড়া সরকারী ভাবে গ্যাজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে মোবাইল সম্পর্কিত বিষয়ে সঠিক নীতিমালা প্রণয়ন করা একান্ত জরুরী।

একজন মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী অনেক শখ ও অর্থের বিনিময়ে একটি মোবাইল সেট ক্রয় করার পর চুরি করে নিয়ে যায়। এই চুরি করা মোবাইল সেটগুলো কথিত চোরেরা অন্যত্র যৎসামান্য টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। অন্যদিকে মোবাইল সেট হারিয়ে ব্যবহারকারী তার সেটে,সীমে/রীমে সংরক্ষিত নাম্বারগুলো হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারকারী প্রয়োজন ক্ষেত্রে একটি মৃত্যুর খবর পর্যন্ত তার নিকটতম আত্মীয়-স্বজনদের দিতে পারেন না। তাই চুরি যাওয়া মোবাইল সেট ক্রয়/বিক্রয়ের ক্ষেত্রে খরিদকৃত মেমোসহ সেটের সাথে রক্ষিত প্রয়োজনীয় যাবতীয় সামগ্রী ব্যতিত ক্রয়/বিক্রয় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা একান্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট সকল মহলের ধারণা। মোবাইল সেট ক্রয়/বিক্রয়ের ক্ষেত্রে হোন্ডা,গাড়ী ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়/বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যেমন ক্রেতা বিক্রেতার নামসহ বিক্রয়নামা দলিল এবং তিনজন চিহ্নিত স্বাক্ষীর প্রয়োজন হয়,তেমনি মোবাইল সেট বিক্রয়ের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন নাম্বারসহ বিক্রয়নামা দলিল সম্পাদনপূর্বক ক্রয়/বিক্রয় করার নির্দেশ জারী করা একান্ত জরুরী। অনেক সময় আই. এম. ই. আই. নাম্বারের মাধ্যমে এবং মোবাইল ট্রেসারের মাধ্যমে চুরি যাওয়া সেট উদ্ধার করা সম্ভব হলেও সেটা বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার এবং প্রশাসনিক ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে চুরি যাওয়া মোবাইল সেট উদ্ধার করাও সম্ভব হয় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ভাবে তেমন কোন সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই হারিয়ে যাওয়া সেট আর উদ্ধার করাও সম্ভব হয় না। তাই পুরাতন জিনিষপত্র কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ জনগণ একটু সচেতন হলে এবং পুরাতন জিনিষ ক্রয়/বিক্রয়ের ক্ষেত্রে একটু সজাগ হলে অনেকটা সুফল পাওয়া যেত। বর্তমান পেক্ষাপটে সঠিক নীতিমালা ও এক শ্রেণীর লোলুপ ব্যক্তিদের প্ররোচনার কারণেই এই চুরিগুলো হতে সাধারণ জনগণ পরিত্রাণ পাচ্ছেন না। তাই চোর থাকে ধরা ছোয়ার বাইরে এবং চুরি যাওয়া সেটটিও উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। মোবাইল চোরদের বিরুদ্ধে বিচারিক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করার বিধান করা হলে সামগ্রীক ভাবে এ ক্ষেত্রে বিরাট সাফল্য আসবে বলে সকলের ধারণা। গত রমজানের ঈদের পূর্বে শ্রীপুর থানায় কম করে হলেও প্রায় একশতটি মোবাইল সেট চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় বিগত ০৫-০৮-২০১৩ ইং তারিখে আই. এম. ই. আই. নাম্বারসহ একটি অভিযোগ দায়ের করা হলেও সংশ্লিষ্ট আই. ও. এ পর্যন্ত কোন প্রকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই। তাই উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় এনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সুফল ভোগ করার সুযোগ সকলেই সমভাবে ভোগ করুক এই প্রত্যাশায়।

Facebook Comments