কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর

0
8
Print Friendly, PDF & Email

undefined
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpufvv

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpufv

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।
 

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার আগে কাদের মোল্লা একাধিকবার জানতে চেয়েছেন, ‘জাতিসংঘের কোনো চিঠি আসেনি?’ তার ভরসা ছিল, তাকে বাঁচাতে জাতিসংঘ ও দু’একটি পশ্চিমা দেশ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। এতে করে সরকারের সব আয়োজন ভণ্ডুল হয়ে যাবে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ১০ ও ১২ ডিসেম্বর তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া কারাগারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘ইসলাম জিন্দা হোতা হ্যায়, হর কারবালা কি বাদ’_ আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি ইসলামের কথা বলেছেন। কিন্তু যখনই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন তার অবস্থা হয়েছে গায়ে চুন পড়া জোঁকের মতো।কাদের মোল্লার ফাঁসি যেভাবে কার্যকর
 
সূত্র জানায়, প্রথম দিকে কাদের মোল্লাকে বেশ দৃঢ় মনোবলের মনে হলেও শেষের দিকে ভেঙে পড়তে থাকেন। তার স্বজনেরা দুই দফায় দেখা করার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের উপদেশ দিয়েছেন মিলেমিশে থাকার জন্য। সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়েও মৌখিক পরামর্শ দিয়েছেন। নাতিকে ব্যারিস্টারি শিক্ষা দেওয়ার কথা বললেও পরিবারের কাউকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়ার কথা একবারও বলেননি।১০ ও ১২ ডিসেম্বর_ দু’রাতেই আইজি প্রিজনসহ পদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে দেখা করতে যান। ১০ ডিসেম্বর কাউন্টডাউন শুরু হয়। উচ্চপর্যায়ে কিছু পরামর্শও মেলে। এ সময়েই খবর ছড়িয়ে পড়ে, চেম্বার বিচারপতি বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ডের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক আদেশ নেই। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে কাদের মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা সবুজ কাগজে হাতে লেখা আবেদনের ওপর বিচারপতির লিখিত নির্দেশ নিয়ে হাজির হন। এতে কোনো সিল ছিল না। সর্বোচ্চ আদালতের প্যাডও ব্যবহার করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কারা কর্তৃপক্ষ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যায়। তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেন, যাতে তার কাছ থেকে চেম্বার বিচারপতির কাছে আসামিপক্ষের যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। একটি সূত্র জানায়, কারা কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এবং ফাঁসির দণ্ড স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কেউ কেউ এ সময় বলেন, লিখিত ও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়া দণ্ড কার্যকর করা হলে আদালত অবমাননা এবং এমনকি খুনের দায়ে পড়ার শঙ্কা ছিল। গণমাধ্যমে বিষয়টি ততক্ষণে ব্যাপকভাবে প্রচার হয়ে যায়।
 
একটি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করে। এ সময় আদালতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করার কথা বলা হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে আইজি প্রিজনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ফাঁসির মঞ্চের কাছে চলে যান। এর ১৫ মিনিট পর ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে কনডেম সেল থেকে শনাক্ত করে নিয়ে আসেন ফাঁসির মঞ্চে।
 
৮ নম্বর সেল থেকে আনুমানিক ২০ গজ দূরেই ফাঁসির মঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১৫ মিনিট ফাঁসির সব আয়োজন চূড়ান্ত। কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাদের মোল্লাকে ফাঁসির কথা জানিয়ে রায়ের খসড়া পড়ে শোনানো হলো। এ সময় কাদের মোল্লা কারা কর্তৃপক্ষকে বলেন, ‘আমার আইনজীবীরা আসবেন। তাদের সঙ্গে কথা শেষ হয়নি।’ কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আপনার শেষ ইচ্ছার কথা বলতে পারেন। কাদের মোল্লা তখনই নিশ্চিত হন, তার সময় ফুরিয়ে আসছে। তিনি খুব নিচু স্বরে বললেন, ‘মায়ের পাশে যেন আমার কবর দেওয়া হয়।’ ৯টা ২৫ মিনিটে কারা কর্তৃপক্ষ তওবা পড়ানোর জন্য কাদের মোল্লার কাছে কারা মসজিদের ইমামকে পাঠায়। কাদের মোল্লা বলেন, ‘আমার কোনো মাওলানা লাগবে না। আমি নিজেই তওবা পড়তে পারব।’ ফের প্রথা অনুযায়ী কারা মসজিদের ইমাম কাদের মোল্লাকে তওবা পাঠের বিষয়টি উপস্থাপন করেন। তখনও কাদের মোল্লা তার সিদ্ধান্তে অনড়। শেষ পর্যন্ত ইমামের সাহায্য ছাড়াই কাদের মোল্লা তওবা পাঠ করেন।৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধান জল্লাদ শাহজাহানসহ চার জল্লাদকে নিয়ে কনডেম সেলে যান কারাগারের একজন কর্মকর্তা। ওই সময় কাদের মোল্লা কনডেম সেলে নামাজ পড়ে বসে ছিলেন। এরপর জল্লাদ কাদের মোল্লাকে কালো রঙের যমটুপি পরান। এ সময় তিনি ছিলেন নির্বিকার। ৯টা ৫৯ মিনিটে একাত্তরের এ ঘাতককে কনডেম সেল থেকে ফাঁসির মঞ্চ লাগোয়া খোলা জায়গায় আনা হয়। মুখ দেখা না গেলেও তার অবয়ব দেখে মনে হচ্ছিল  কিছুটা ইতস্তত করছেন তিনি। কাদের মোল্লার পরনে ছিল কয়েদির পোশাক। পা ছিল খালি। মাথায় যমটুপি। ৯টা ৫৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের সময় ফাঁসির মঞ্চের দিকে নেওয়া হয় কাদের মোল্লাকে। ঠিক ১০টায় তাকে তোলা হয় মঞ্চে। গলায় পরানো হয় ফাঁসির রশি। এরপর প্রধান জল্লাদ শাহজাহান কাদের মোল্লার উদ্দেশে বলেন, ‘দুই পা একসঙ্গে করেন।’ এর পরই কাদের মোল্লা বলেন, ‘জেল সুপার আছেন?’ ১০টা ১ মিনিট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কারা রীতি অনুযায়ী জেল সুপার হাত থেকে একটি লাল রুমাল মাটিতে ফেলেন। রুমালটি মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফাঁসির মঞ্চের হ্যান্ডেলটি পেছনের দিকে টান দেন জল্লাদ। সঙ্গে সঙ্গে কাদের মোল্লার কাঠের পাটাতনটি সরে যায়। ঝুলে পড়েন কাদের মোল্লা।
 
ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কাদের মোল্লার মরদেহ দেখেছেন এমন একাধিক ব্যক্তি সমকালকে জানিয়েছেন, মৃতের জিহ্বা অনেকটাই বের হয়ে পড়ে। নাক দিয়ে বের হয়ে আসা রক্তে শরীর ভিজে যায়। কারা সূত্র জানায়, মিনিট বিশেকের মতো ঝুলে থাকার পর শাহজাহানসহ ?ছয় জল্লাদ তার মরদেহ নিয়ে আসেন। এরপর চিকিৎসক কাদের মোল্লার মরদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করেন।
 

– See more at: http://www.deshebideshe.com/details_news.php?n_id=22824&&n_category=51#sthash.NCUaHPQu.dpuf

সর্ববৃহৎ পতাকার রেকর্ডের অধিকারী হচ্ছে বাংলাদেশ
Facebook Comments