আওয়ামী লীগ-বিএনপি তরুণদের বিভ্রান্ত করছে

0
10
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সুবিধাবাদী রাজনীতি করে তরুণ সমাজকে বিভ্রান্ত করছে। তরুণ-তরুণীরা জামায়াতকে কখনো দেখেছে আওয়ামী লীগের পাশে, কখনো বা বিএনপির সঙ্গে। এ কারণে যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

একুশে টেলিভিশনের টকশো ‘একুশের রাত’-এ নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীর এ কথা বলেন।

 

মঞ্জুরুল আলম পান্নার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক পিয়াস করিম ও অধ্যাপক মেসবাহ কামাল।

 

নূরুল কবীর বলেন, প্রতিদিন টিভিতে দেখছি তরুণরা ছাত্রশিবিরের ব্যানারে কাদের মোল্লার জন্য লড়াই করছে। এটা তো হওয়ার কথা না। স্বাধীন দেশে তরুণরা স্বাধীনতাকে ভালোবাসবে, এর চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশকে গড়ে তুলবে এটাই স্বাভাবিক। তাদের তো কোনো অবস্থায়ই জামায়াতকে সমর্থন করার কথা না।

 

নূরুল কবীর বলেন, আমাদের ইতিহাসবিদ, অধ্যাপক ও সাংবাদিকরা তরুণ-তরুণীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কী ছিল সেটা পরিষ্কার করতে পারেননি। আজকের আওয়ামী লীগের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির সঙ্গে তো নাই-ই। মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল এখানে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক একটা সাম্যতা গড়ে তোলার জন্য। পাকিস্তানিরা বাঙালি জনগোষ্ঠীকে সাম্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত করেনি। বিভিন্নভাবে আমাদের নিপীড়ন করেছে। আজকের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের যে রাজনীতি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি তার সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপিরও নেই। কাদের মোল্লার ফাঁসি দিলেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন হয়ে গেল না। এ কথা যারা বলে বাংলাদেশকে তারা ডিসসার্ভিস করে। এতে যে কারণে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালি সূর্য সন্তানরা আত্দাহুতি দিয়েছিল, নিপীড়ন সহ্য করেছিল তাদের অপমান করা হয়।

 

তিনি বলেন, কাদের মোল্লার বিচার হওয়ায় আমি আরও খুশি হতাম যদি আমার ভেতরে অস্বস্তি না থাকত। অস্বস্তিটা এই জায়গায়- যে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, যারা এখানে নিরস্ত্র মানুষের বাড়িতে আগুন দিয়েছে, ধর্ষণ করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিয়ে তাদের হত্যায় সহযোগিতা করেছে তারাই আজ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় এমন একটা জায়গায় এসে পৌঁছেছে। তাদের ক্যাম্পেইন বা সরকারের দুর্বলতার কারণে হোক দু-একটা জিনিস জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে। অপপ্রচার চালাতে তারা সফল হয়েছে। এত বছর পরে বিচারটা হচ্ছে- এখানে এই কোর্ট মানবে কি মানবে না- এটা নিয়ে বিতর্ক হবে কেন? রিভিউ হবে কি হবে না- এটা নিয়ে বিতর্ক হবে কেন? কসাই কাদের কিংবা কাদের মোল্লা এক কিনা- এগুলো নিয়ে বিতর্ক থাকবে কেন? এই বিতর্ক থাকত না যদি সরকার বিএনপিকে মোকাবিলা করতে মাঝেমধ্যে এই কাদের মোল্লার দলের সঙ্গেই সংলাপ-টংলাপ না করত। শেখ হাসিনা ও কাদের মোল্লা একসঙ্গে হাসতে হাসতে বেরিয়ে আসছেন এ ছবি পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। খালেদা জিয়া ও কাদের মোল্লা হাস্যোজ্জ্বলভাবে একসঙ্গে বসে মিটিং করছেন এটাও মানুষ দেখেছেন।

 

আওয়ামী লীগ কিংবা বিএনপি কোনো দিন কি সেই ছবি মুছে ফেলতে পারবে? যে সমাজে এ রকম সুবিধাবাদী রাজনীতি হয়, আজ যার বন্ধু ছিলেন কাল তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিয়েছেন- এখানে মানুষের প্রশ্ন থাকবেই। এটা আওয়ামী লীগ বোঝে না তা নয়। তাদের উচিত ছিল আরও সচেতন হওয়া।

 

আগামী নির্বাচন নিয়ে দুই দলের সমঝোতা প্রসঙ্গে নিউ এজ সম্পাদক বলেন, দুই দলের মধ্যে দুটি ডায়ালগ হয়েছে। জন কেরি এটা নিয়ে খুব আশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু দুই ডায়ালগে কোনো কথাই হয়নি। আওয়ামী লীগ বলেছে, ‘আমরা একটা আলোচনা শুরু করতে পারি যদি তোমরা এ আন্দোলনকে প্রত্যাহার কর।’ বিএনপি বলেছে, ‘আমরা আলোচনাটা শুরু করতে পারি যদি তোমরা প্রথমে আমাদের নেতা-কর্মীদের মুক্তি দাও এবং নির্বাচনের যে শিডিউল তৈরি হয়েছে সেটাকে বাতিল কর।’ সুতরাং, জন কেরি আর বান কি-মুনের কথায় এখানে কিছু হবে না। এখানে পরস্পরকে এনগেজ করার আর জায়গা আছে বলে মনে হয় না। একপক্ষ রাস্তায় আন্দোলন-সংগ্রাম করবে, আরেক পক্ষ যতক্ষণ পারে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে নিপীড়নমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর মধ্য দিয়ে জয়-পরাজয় নিশ্চিত হবে।

Facebook Comments