সংখ্যালঘুদের বাড়ি মন্দিরে শিবিরের হামলা, আগুন

0
10
Print Friendly, PDF & Email

একাত্তরে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করার দায়ে আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাত থেকে তাণ্ডব শুরু করে জামায়াত-শিবির। গতকাল শুক্রবারও বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালিয়েছে তারা। জামায়াত-শিবির সরকারি ও ব্যবসায়িক স্থাপনা, যোগাযোগব্যবস্থা, সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে হামলা, আগুন দেওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

 

সাতক্ষীরা ও নীলফামারীতে সংখ্যালঘু বেশ কয়েকজনের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয় মন্দির। কক্সবাজার ও খুলনায় আগুন দেওয়া হয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে।

 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারীকাটি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নির্মল চন্দের বাড়ি ভাঙচুর করে আগুন দেয়। রাত ১২টার দিকে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাজারে শহীদ মিনার ভাঙচুর করে জামায়াত-শিবির। একই সময়ে চন্দন দেবনাথের দোকান সুলভ বস্ত্রালয়, সোনা ব্যানার্জির স্টুডিওসহ অন্তত ১৫টি দোকানে আগুন দেয়। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আগরদাড়ি গ্রামের গোপাল হালদার, আগরদাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাপস আচার্য ও তাঁর ভাই কাঞ্চন ঘোষাল, মিলন সরকার, বিকাশ রায়, নিরঞ্জন চৌধুরী, সাতানী গ্রামের ডা. অমল সমাদ্দার, ঝাউডাঙ্গা বাজারের অলোক ঘোষের মুদি দোকান, শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের নবকুমার মজুমদারসহ ওই এলাকার ৫০টি পরিবারের বাড়িও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়েছে ব্যাংদহা বাজারের নিমাই ঢালী ও তরুণ ঢালীসহ তিনজনের দোকানে। কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল কুমার ঘোষসহ দলের ওই এলাকার বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িঘর ও দোকান ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। এ সময় ভাঙচুর করা হয় দামোদর মন্দির।

 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দেবহাটা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফার বাড়ি পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় আরো অন্তত ২০টি বাড়িঘর ও দোকানে আগুন দেওয়া হয়। গতকাল সকালে গাজীরহাটে মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ ঘোষের ওষুধের দোকান ও দোতলা বাড়িসহ ১০টি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানোর পর আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান দাবি করেছেন, এসব ঘটনায় তাঁদের দলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারী জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত কাচারী বাজারে তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা। তারা দোকানে দোকানে লুটপাট চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে পুড়ে যায় অন্তত ৫০টি দোকান। এরপর একই ইউনিয়নের বেলতলী বাজারে ১৫টি দোকান ভাঙচুর করে চলে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা শ্যামচরণ রায়ের বাড়িতে পেট্রল ঢেলে অগি্নসংযোগ করে। এসব ঘটনায় আহত হয় ১৫ ব্যক্তি। তাদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র রায় (৩০) ও স্কুলশিক্ষক স্বরণী কান্ত রায়ের (৩৫) অবস্থা গুরুতর। ইউনিয়নের দুবাছুড়ি গ্রামের একটি মন্দিরে ভক্তদের পিটিয়ে আহত করা হয়।

 

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নতুন বাজারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের দোকান ভাঙচুর ও আগুন দেয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। কক্সবাজারের খুরুশকুল ও টাইম বাজারের হিন্দু সম্প্রদায়ের পাড়ায় ঢুকে বাড়িঘরে আগুন দেয়।

 

তথ্য:কালের কন্ঠ ১৪ ডিসেম্বর

Facebook Comments