চলছে জামায়াতের হরতাল ॥ সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সহিংসতা ॥ গতকাল নিহত ১৩ ,আজ এই পরযন্ত ০২ জন নিহত

0
10
Print Friendly, PDF & Email

সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের ব্যাপক সহিংসতা ঘটেছে গতকাল। কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের পর এসব ঘটনা ঘটলো। এতে আওয়ামীলীগ ও জামায়াত শিবিরের কর্মীসহ নিহত হয়েছে অন্তত ১৩ জন। আজকে নিহত দুই জন।


একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকর করার প্রতিবাদে গতকাল শনিবারও দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস হামলা ও নাশকতার ঘটনা ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবির। এসব ঘটনায় গতকালও ঝরে গেছে ১৩টি প্রাণ।

 

নীলফামারীতে বিনা উসকানিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা করায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও পুলিশের তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে ৬ জন নিহত হন। সংঘর্ষে টুপামারী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী (৫০), যুবলীগকর্মী ফরহাদ হোসেন (২৮) ও লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক (৩০) নিহত হন। গুরুতর আহত আওয়ামী লীগকর্মী লেবু মিয়া ও ছাত্রলীগকর্মী মুরাদ হোসেনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে তাদের মৃতু ঘটে। অবশ্য জামায়াত শিবির দাবি করেছে তাদের ১ জন মারা গেছে।

 

অপরদিকে গতকাল শনিবার নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি অফিস জ্বালিয়ে দিতে গেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ৬ জন। এদেরকে নিজেদের কর্মী দাবি করেছে শিবির। নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিক ৫ জনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- রাসেল (৩২), শিবিরকর্মী সাইফুল ইসলাম (১৯), মতিউর রহমান সজীব (১৭), রায়হান (২২) ও আবদুস সাত্তার (২৮)।

 

আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে এই হরতাল। হরতালের শুরুতেই লালমনিরহাটে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে  (দুই) শিবিরকর্মী নিহত হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, রাস্তা অবরোধ ও ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে।

রোববার জামায়াতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাফির বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, পাটগ্রাম উপজেলা ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম(২৫) ও শিবিরকর্মী আব্দুর রহিম(২২)। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও তিনজন।

পাটগ্রাম থানার সহকারী উপ পরিদর্শক(এএসআই) আশরাফুল আলম জানান, সকালে একটি ট্রাকসহ বেশ কয়েকটি যানবাহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে জামায়াত শিবিরকর্মীরা। এতে বাধা দেয়ায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল ও গুলি ছুড়ে পিকেটাররা। জবাবে পুলিশও রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও গুলি ছোড়ে। এতে আব্দুর রহিম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। শিবির সভাপতি গুলিবিদ্ধ হয়ে পাটগ্রাম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

এদিকে, পাটগ্রাম থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোহরাব হোসেন জানান, দুইজনকে আহত অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা মারা গেছে কি না তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

। এদিকে হরতালের শুরুতেই রবিবার ভোরে রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় পুলিশসহ অন্তত ১২জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নগরীর দেবিসিং পাড়া ও কানাইমারিতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে।

রাজধানীর ডেমরা মৃধাবাড়ি এলাকায় একটি ঝটিকা মিছিল করেছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা।পুলিশ ফাঁকা গুলি করলে মিছিলটি ছত্র ভঙ্গ হয়ে যায়। এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে একটি ঝটিকা মিছিল করেছে শিবিরকর্মীরা।

চাঁদপুরে তিনটি গাড়িতে আগুন, সিরাজগঞ্জে কোনাইগাতি ও বাওইতাপাড়ায় বেইলি ব্রিজের পাটাতন খুলে ফেছেলে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা।

সিলেটে এক আওয়ামী লীগকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অফিস, যানবাহন, পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন দেওয়াসহ নানা ধরনের নাশকতা ঘটিয়েছে জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা।

 

 

 

Facebook Comments