মুক্তির অপেক্ষায় ৭১ নিয়ে হিন্দি ছবি “বাস্টার্ড চাইল্ড”

0
12
Print Friendly, PDF & Email

 

 

 

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী উপজীব্য করে মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রত নির্মাণ করেছেন হিন্দি চলচ্চিত্র ‘বাস্টার্ড চাইল্ড’।

কিন্তু চলচ্চিত্রটি সেন্সরবোর্ডে আটকে দেয় ভারত সরকার। আটকে দেওয়ার কারণ হিসেবে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড জানায়, ছবিটির টাইটেলে ‘বাস্টার্ড’ শব্দটি থাকায় তাদের আপত্তি। ভারত সরকারের আপত্তির প্রেক্ষিতে শিরোনাম পরিবর্তন না করার আবেদন করেন নির্মাতা মৃত্যুঞ্জয়।

পরে মৃত্যুঞ্জয় দেবব্রতের আবেদন পুনর্বিবেচনা করে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড ছবিটির শিরোনাম অপরিবর্তিত রেখে ছাড়পত্র দিয়েছে।

ছবির নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, তাড়াতাড়ি ছবিটি ভারত-বাংলাদেশে মুক্তি দেয়া হবে।

চলচ্চিত্রটির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাইমা সেন, পবন মালহোত্রা, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত ও ভিক্টর ব্যানার্জি। ছবিটি সম্পর্ক নির্মাতা মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রায় দুই লাখ নারীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তাদের বরণ করতে হয় অমানবিক যন্ত্রণা। সেই সব নির্যাতিত নারীদের জীবনের অমোঘ সত্যের প্রতিধ্বনি হয়েছে আমার ছবিতে।’

বলিউডে ছবিটি মুক্তির সম্ভাব্য তারিখ ছিল ২৭ ডিসেম্বর। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের আপত্তির মুখে সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়।

এদিকে ছবিটি মুক্তির নতুন তারিখ এখনো ঠিক করেননি পরিচালক মৃত্যুঞ্জয়। তিনি জানিয়েছেন, খুব শীঘ্রই মুক্তি দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।

‘বাস্টার্ড চাইল্ড’ ছবির কাহিনী মূলত তিনটি অংশে বিভক্ত- একটি শিশু জন্ম নেয় এক নারীর গর্ভে। কিন্তু সেই নারী কোনোদিন প্রবেশ করেননি দাম্পত্য জীবনে। সামাজিকতার বেড়াজালে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকে পিতৃহীন সেই শিশুটি। সাধারণ মানুষের কাছে সে পরিচিতি লাভ করে ‘জারজ সন্তান’ হিসেবে।

এভাবে পার হয়ে যায় তার শৈশব-কৈশোর। এভাবে এগিয়ে যেতে থাকে ছবির কাহিনী। এছাড়া ছবির শেষ অংশে দেখানো হয়েছে যুদ্ধের পরে নাড়ীর টানে মানুষের ঘরে ফেরার প্রতিচ্ছবি।

অভিনেত্রী রাইমা সেন ‘বাস্টার্ড চাইল্ড’ সম্পর্কে বলেন, ‘পাকিস্তানি আর্মিদের লালসার শিকার হয়ে বাংলাদেশের অসংখ্য নারী গর্ভধারণ করেন। পরবর্তীতে অনেকেই গর্ভপাত ঘটান। কিন্তু যারা অনাগত সন্তানকে পৃথিবীতে এনেছেন, তাদের পরিণতি কী হয়েছিল, সেসব নিয়েই এই ছবিটি।’

Facebook Comments