স্বাধীনতাবিরোধীদের প্রতিক্রিয়া দেখে বিস্মিত ভারতের প্রাক্তন সেনাপ্রধান

0
9
Print Friendly, PDF & Email

ভারতের প্রাক্তন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল শঙ্কর রায় চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যারা কাজ করেছেন তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। কিন্তু এই বিচারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এটা দেখে সত্যিই আমরা খুব আশ্চর্য হচ্ছি। এতে বোঝা যাচ্ছে, ওই সময় অনেকেই সেদেশটি স্বাধীন হোক সেটি চাননি। আজ সোমবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বিজয় দিবস’ পালন অনুষ্ঠানে প্রাক্তন সেনাপ্রধান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ কথা বলেন।

তবে প্রাক্তন সেনা প্রধান মনে করেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল আছে এবং থাকবে। আর এইসব ঘটনা প্রবাহেও ওই সম্পর্কে কোন প্রভাবও পড়বে না।

প্রতি-বছরের মত এ বছরও একইভাবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় শাখা। তবে এবার বাংলাদেশ থেকে আসা মুক্তিযুদ্ধাদের মনে ছিল আরো বেশি খুশি এবং তৃপ্ততা। আজ সকালে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে ছিল বানার্ঢ্য সব আয়োজন। বিজয় দিবসের দিনে বিশেষ অতিথি হয়ে ফোর্ট উইলিয়ামে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আগত ৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা। উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় শাখার প্রধানরা।

এদিন সকালে ফোর্ট উইলিয়ামের মূল ফঠকের পাশে তৈরি বিজয় স্তম্বে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন বাংলাদেশ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা এবং ভারতের তত্কালীন ও বর্তমান সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের পক্ষে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন সাবেক লে. কর্ণেল জাফর ইমাম (বীর বিক্রম) এবং মেজর জেনারেল আবুল কালাম মহম্মদ হুমায়ুন কবীর। ছিলেন ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইষ্টার্ণ কমান্ডার জে. এফ. আর. জ্যাকব। সবশেষে শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করেন সেনা বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল দলবীর সিং, নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান অতুল খান্না এবং বিমানবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান আর.কে.শর্মা।

এরপর সেনাবাহিনীর মাঠে আয়োজিত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সম্বলিত একটি প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি দলটি। মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগত প্রতিনিধি দলে সব মিলিয়ে ৮২ জন সদস্য রয়েছেন।

এদিকে বাংলাদেশের ‘বিজয় দিবস’ এবং কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় কার্যকর করায় কলকাতার একাডেমি অফ ফাইন আর্টে ভাষা চেতনা সমিতি এবং কলকাতার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি পড়ুয়ারা দুটি পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এছাড়াও কলকাতার বাংলাদেশ উপদূতাবাসেও সারা দিনই মহান এই দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত হয় নানা অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড।

Facebook Comments