হাস্যকর ও লজ্জাজনক নির্বাচন বানরের রুটি ভাগাভাগি!

0
8
Print Friendly, PDF & Email

বানরের রুটি ভাগের মতো আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ১২৭টিতে প্রথম কামড় বসিয়েছে। বাকি আসনের সিংহভাগও তাদের দখলে যাবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আসন ভাগাভাগির কথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন। তাই একে নির্বাচন না বলে ভাগাভাগি বলাই ভালোযাযাদি রিপোর্ট ভোটের আগেই ১৫৪ আসনে আওয়ামী লীগের মহাজয় এবং বাকি আসনে ভোটারবিহীন পাতানো নির্বাচনের প্রস্তুতিতে দেশ-বিদেশে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। পাশাপাশি একতরফা এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ উন্মত্ত সহিংসতার দিকে এগোচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হাস্যকর নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সব মহল থেকে সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের পক্ষে সংঘাতময় উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে। এ ধরনের তামাশার নির্বাচন আয়োজন করে বর্তমান নির্বাচন কমিশনও তাদের গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা জানান, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ১৫৪ জন নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে বিশ্বের নির্বাচনী ইতিহাসের সবচেয়ে লজ্জাজনক রেকর্ড। কেড়ে নেয়া হয়েছে দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষের ভোটাধিকার। পাশাপাশি গণতন্ত্রের মোড়কে স্বৈরতন্ত্র সরকার ব্যবস্থা প্রচলনের চিরস্থায়ী পথ সুগম করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে যে সংকট চলছে, সামনে তার চেয়ে আরো অনেক বড় সংকট ঘনিয়ে আসছে। সে পরিস্থিতি সামাল দেয়া প্রশ্নবিদ্ধ সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে কিনা তা নিয়েও তারা সন্দেহ পোষণ করেন। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের প্রহসনের নির্বাচনে নির্বাচিত সরকার আন্তর্জাতিক মহলেও গ্রহণযোগ্যতার সঙ্কট পড়বে। তারা বলেন, ভোটার ছাড়াই ভোট এবং ভোটারবিহীন নির্বাচন যে কেউ আশা করে না তা আন্তর্জাতিক মহলের নানা প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অনেক আগেই প্রহসনের নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর বার্তা দিয়েছে। জাতিসংঘও এ ব্যাপারে তাদের সুস্পষ্ট মতামত জানিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচনী ইস্যু থেকে দূরে সরে গেছে। ক্ষমতার লিপ্সায় আওয়ামী লীগ সরকার এতটাই বধির হয়ে পড়েছে যে তারা দেশের ১৬ কোটি মানুষের আর্তচিৎকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলের নানা হুশিয়ারিকে পাত্তা দিচ্ছে না।
কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমি দেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না, আমি চাই দেশের মানুষ সুখ আর শান্তিতে থাকুক। দেশের মানুষ দু’মুঠো ভাত খেয়ে শান্তিতে ঘুমাক। জনগণ চাইলে ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বানাবে আর না চাইলে না বানাবে।’ বঙ্গবন্ধু কন্যার এই ঘোষণার ক’দিন পরই হাস্যকর এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রাণান্ত প্রচেষ্টাকে জাতির লজ্জাজনক অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন সুধীজনরা। তারা বলছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা হিসেবে শেখ হাসিনা শক্ত হাতে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করতে পারতেন। প্রমাণ করতে পারতেন বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও দেশের আপামর মানুষের জন্য নির্দ্বিধায় ক্ষমতা ছেড়ে দিতে পারেন। তার কাছে ক্ষমতা নয়, জনসেবাই মুখ্য।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্ব নিয়েও দেশ ও দেশের বাইরে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের কোনো অথরিটি নেই; প্রধানমন্ত্রী যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছেন সব কিছু সেভাবে হচ্ছে বলে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ মানুষের এ অভিযোগ যে অসত্য নয় তা নির্বাচন কমিশনের গত কয়েকদিনের কার্যক্রমে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কমিশনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আইন না মানারও বিস্তর প্রমাণ মিলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারের নির্দেশ মানতে গিয়ে কমিশন রোববার আইন-বহির্ভূতভাবে পেছনের তারিখ দিয়ে আরো তিনজনকে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতের সংখ্যা বেড়ে ১৫৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধান অনুযায়ী, জমা দেয়ার দিন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন বিকাল ৫টা পর্যন্ত যেকোনো সময়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ছিল। কিন্তু রিটার্নিং কর্মকর্তারা রোববারও ১৩ ডিসেম্বরের তারিখ দিয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন গ্রহণ করে জাতীয় পার্টির মশিউর রহমান (রংপুর-১), শওকত চৌধুরী (নীলফামারী-৪) ও জাতীয় পার্টির (জেপি) ফখরুল ইমামকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করেছেন। ক্ষমতাসীন দলের হস্তক্ষেপে তারা এ কাজটি করতে বাধ্য হয়েছে বলে ইসি সূত্র স্বীকার করেছে।
এদিকে ১২ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ লাঙ্গল প্রতীক কাউকে না দেয়ার জন্য সিইসিকে চিঠি দেন। তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলেও চিঠিতে জানান। কিন্তু কমিশন তার চিঠি আমলে নেয়নি। উল্টো কমিশন জাপার চেয়ারম্যানের নির্দেশ অমান্যকারী প্রার্থীদের অনুকূলে লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। যা আরপিও পরিপন্থী।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোটের অনুকূল নৌকা প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রেও কমিশন আইন মানেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। আরপিও অনুযায়ী, কেউ নির্বাচনী জোট গঠন করলে তা তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে কমিশনকে জানাতে হবে। ১২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক চিঠির মাধ্যমে জোটবদ্ধ প্রার্থী হিসেবে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থীদের নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দিতে বলেন। অথচ এই দলগুলো নিয়ে যে নির্বাচনী জোট হয়েছে, তা তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে কমিশনকে জানানো হয়নি। তারপরও জোটবদ্ধ প্রার্থীদের নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসির অনৈতিক পক্ষপাতিত্বে প্রহসনের নির্বাচনে নজিরবিহীনভাবে ১৫৪টি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করলেও তারা জনগণের ‘অনির্বাচিত’। তাই তাদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের কোনো সুযোগ থাকছে না। জনগণ সেই প্রার্থীর ব্যাপারে তাদের মতামত দিতে পারছে না। হিসাব করে দেখা গেছে, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ কোটি ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬ কোটিই তাদের মতামত দিতে পারছেন না। সেখানে নতুন সরকার কী করে দাবি করবে তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার!
পর্যবেক্ষকরা এজন্য ক্ষমতাসীন দলের ক্ষমতা দখলের লিপ্সার পাশাপাশি চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটকেও দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে না আসার কারণে এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন পদ্ধতিরও যে ত্রুটি রয়েছে সে বিষয়টিও স্পষ্ট।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিএনপি সরকারের একতরফা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ছিয়ানব্বইয়ে ভোটারবিহীন নির্বাচনে ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেটা গ্রহণযোগ্য না হলে এটাকে আমরা কীভাবে গ্রহণযোগ্য বলব।’
আইনের ত্রুটির বিষয়টি উল্ল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হলেও আইনানুগভাবে ১৫৪ জনই জনপ্রতিনিধি। আইন বলবে, সেসব আসনে ১০০ ভাগ জনগণের সমর্থন আছে বলেই কেউ তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। ভোটিং সিস্টেমে এটাই আছে।’
প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচন পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার স্বপক্ষে মত দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের বিষয়ে অনেকদিন থেকেই কথা হচ্ছে। প্রফেশনাল রিপ্রেজেন্টেশনে যাবো কি না সে ব্যাপারে আলোচনা চলছে। অনেক দেশে দুই রাউন্ড আছে। ডাবল রাউন্ড বা রিকল সিস্টেম থাকলে এ সমস্যা ওভারকাম করা যায়। তবে বিষয়টি আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা মেনে নেবেন কিনা তার ওপর নির্ভর করছে।’
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন বলেন, ‘যেভাবে চলছে, তাতে তো এ-ই হচ্ছে। আমাদের রেজাল্টের জন্য ওয়েট করতে হবে না। এমন হলে গণতন্ত্র কোন দিকে যায় তা বলা মুশকিল। এতগুলো প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। এতে বেআইনি কিছু নেই, আবার গণতন্ত্রও কোনদিকে যায় সেটাও ভাবার বিষয়।’
ভোট দেয়া জনগণের অধিকার- তেমন কথা সংবিধানের কোথাও উল্লেখ না থাকলেও এটা যে নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার তাতে সন্দেহ নেই। আর বিনা ভোটে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার রয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। এ প্রসঙ্গে ছহুল হোসাইন বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে জনগণের রাইট ডিনাইড হলো কিনা দেখা দরকার। যদিও আইন তা বলে না। আমরা সিম্পল মেজরিটি গণতন্ত্রের (নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠের গণতন্ত্র) চর্চা করছি। এই অবস্থা দেখে চিন্তা করছি, একটা পরিবর্তন দরকার। কী ধরনের হবে, সেটা আলোচনাসাপেক্ষ। আলোচনা করে দেখতে হবে।’
তবে আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের কোনো পথ খোলা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আইনজ্ঞরা। তাদের ভাষ্য, প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের সমঝোতা ছাড়া দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। কেননা নির্বাচন যেভাবে হচ্ছে, তা স্থগিত কিংবা বাতিল করাও এখন কঠিন। কারণ, নির্বাচন কমিশন এখন তেমন পদক্ষেপ নিলে যারা ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন বা নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার পথে, তারা তা চ্যালেঞ্জ করবেন। তারা আদালতে যাবেন। তা নিয়ে সৃষ্টি হবে আরেক ধরনের জটিলতা। যা নিরসনে দীর্ঘ সময় লাগবে। এতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো ঘোলাটে হবে।
এদিকে ভাঁওতাবাজির নির্বাচন নিয়ে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে চলছে তীব্র সমালোচনা। ক্ষুব্ধ অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের নামে দেশে ‘তামাশা’ হচ্ছে। ‘৩০০ আসনের সংসদের অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে গেছেন- এমন আজগুবি নির্বাচন কেউ কোনোদিন দেখেনি।’
সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার নামে দেশে লুটপাটের নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, এবারের নির্বাচনে কে কোথায় প্রার্থী থাকবেন, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতবেন, নাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে আসবেন_ এসবই আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের নামে এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে!
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ভোটারবিহীন নির্বাচনের মতো প্রার্থীবিহীন এই নির্বাচন রাজনীতিকদের জন্য মোটেই সম্মানজনক হবে না। তেমনি জনগণের জন্যও এই নির্বাচন কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারবে না। সর্বসাধারণের কাছেও এই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই এ ধরনের নির্বাচনের ফলাফলকে জনগণের রায় বলা বা মেনে নেয়া কারো পক্ষেই সম্ভব হবে না।
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ সারা পৃথিবীতে উন্নয়ন ও অগ্রগতির একটি মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ ধরনের একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন সেই উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে দেশের সব অর্জনকে ম্নান করে দেবে। হাস্যকর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত ভয়ঙ্কর সহিংসতার দিকে এগোবে বলেও বলে মনে করেন ওই উপদেষ্টা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে যায়যায়দিনকে বলেন, ‘বানরের রুটি ভাগের’ মতো আওয়ামী লীগ ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫১টি আসনে প্রথম কামড় বসিয়েছে। বাকি আসনের সিংহভাগও তাদের দখলে রয়েছে। দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা এ ‘ভাগাভাগির’ কথা প্রকাশ্যেই স্বীকার করেছেন। সেখানে এটিকে ‘নির্বাচন’ না বলে ‘ভাগাভাগিই’ বলাই ভালো। মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সরে যাওয়ার ঘোষণা, নির্বাচনে অংশগ্রহণের পর তা আংশিক প্রত্যাহার এবং এরশাদের অসুস্থ হয়ে সিএমএইচে ভর্তি হওয়া_ এর পুরোটাই ‘ভাগাভাগি’ নাটকের আংশিক চিত্রায়ন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উৎসঃ  প্যারিস ভিশন

Facebook Comments