যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট কমিটি সংলাপের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ খোঁজার তাগিদ

0
6
Print Friendly, PDF & Email

যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অচলাবস্থায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গত বুধবার রাতে বাংলাদেশ বিষয়ে ছয় দফা সুপারিশসংবলিত একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে কমিটি।

সিনেট কমিটি বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানায়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংলাপের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথ খোঁজার তাগিদ দিয়েছে কমিটি।

সিনেট কমিটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের সুরক্ষা ও পর্যবেক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি আহ্বান জানায়। এ ছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, মানবাধিকারকর্মীদের হয়রানি বন্ধ করা এবং গ্রামীণ ব্যাংকের ‘স্বাধীনতা’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে কমিটি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকোর প্রচেষ্টার প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে সিনেট কমিটি।

প্রস্তাব অনুমোদনের আগে যুক্তরাষ্ট্র সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন আলোচকরা।

কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কমিটির গতকাল বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বাংলাদেশ পরিস্থিতিসহ মোট সাতটি এজেন্ডা ছিল। ক্যাপিটল ভবনে ওয়াশিংটন সময় বুধবার দুপুর সোয়া ২টায় (বাংলাদেশে রাত সোয়া ১টা) সিনেটর রবার্ট মেনেনডেজের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। এর আগে গত ১১ ডিসেম্বর সিনেটর রিচার্ড ডারবিন, মিশেল বি এনজি ও ক্রিস্টোফার এস মারফি বাংলাদেশ বিষয়ে প্রস্তাব আনেন।

এদিকে বাংলাদেশে নির্বাচন বিষয়ে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র কেলি ম্যাকার্থি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগামী ২৪ জানুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, অবাধ, সুষ্ঠু ও জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের পথ খুঁজতে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সংলাপের উদ্যোগ দ্বিগুণেরও বেশি জোরদার করার এখনই সময়।’

কেলি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের সহিংসতাই গ্রহণযোগ্য নয়। অবিলম্বে সহিংসতা থামাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস করে, গণতন্ত্রে সব দলের স্বাধীন ও শান্তিপূর্ণভাবে মত প্রকাশের সুযোগ আছে।’

অস্থিতিশীলতাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ : যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত নির্বাচনের পথ খুঁজে পেতে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই তাদের সংলাপ প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ আশীর্বাদপুষ্ট দেশ। বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জগুলোও মোকাবিলা করা সম্ভব।

Facebook Comments