বাংলাদেশের সাফারি পার্ক

0
15
Print Friendly, PDF & Email
সাফারি পার্কের মূল ফটক
অ-অ+

একদিন সকালে ছোটমামা বললেন, চল তোদের ঘুরিয়ে আনি।

কোথায়?

সাফারি পার্কে।

সাফারি পার্ক! আমি তো অবাক। টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে সাফারি পার্ক দেখেছি অনেক। আমি জানি, সাফারি পার্কে পশু-পাখিরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়। মানুষ নিজে গাড়ির খাঁচায় বন্দি হয়ে তাদের দেখে আসে। এমন সাফারি পার্ক আমাদের দেশেও হয়েছে। নতুন হয়েছে। গাজীপুরে।

মামার কথায় আমরা জলদি জলদি রেডি হয়ে গেলাম। শুনেছি এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাফারি পার্ক এটা। দেখে নাকি শেষ করতে পারব না। সকাল ৯টার সময় পার্কে থাকতে পারলে ভালো হতো। যা-ই হোক, আমি, আবরার আর মিতালি_আমাদের তিন ভাইবোনকে নিয়ে রওনা দিলেন মামা। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পেঁৗছে গেলাম পার্কে। আমরা ক্যামেরা আনিনি। তাই ম্যাকাও পাখির সঙ্গে ছবি তুলতে পারিনি। পার্কে ঢোকার মুখেই রয়েছে একটা ম্যাপ। ম্যাপ দেখে নিলে পার্ক দেখা সহজ হয়। আমরা ম্যাপটা আগে দেখে নিলাম। ডিসকভারি চ্যানেলের ওরা যেভাবে গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে পশু-পাখি দেখে, আমরাও তেমনি একটা গাড়িতে উঠলাম। প্রথমেই আমরা গেলাম ‘টাইগার রেস্টুরেন্টে’। এখানে চা খেতে খেতে বাঘের গর্জন শোনা যায়। বাঘ দেখা যায়। তবে সবাই চা খাওয়ার বদলে বাঘ দেখাতেই বেশি ব্যস্ত। চায়ের দিকে কারো মন নেই। আমরাও অন্য কিছু খেতে চাইলাম না। তারপর গাড়িতে করে গেলাম বাঘের রাজ্যে। গাড়িতে ওঠার পর গাইড আমাদের বারবার বলে দিয়েছেন গাড়ির জানালা না খুলতে। আমরা ইতিউতি তাকিয়ে সিংহ খুঁজলাম। কিন্তু সিংহ দেখতে পেলাম না। ভাগ্য ভালো না থাকলে সিংহ দেখা যায় না। এরপর আমরা ভালুকপাড়া, হরিণের আস্তানা, জেব্রাদের জায়গাসহ আরো অনেক জায়গায় বেড়াতে গেলাম। আরো দেখলাম হাতি। মিতালি তো হাতির পিঠে উঠবেই উঠবে। ওর সঙ্গে আমরাও উঠলাম। এরপর আমরা গেলাম পাখির রাজ্যে। ম্যাকাও পাখি দেখলাম। কী সুন্দর! ম্যাকাওর মতো আরো অনেক সুন্দর পাখি আছে। ইচ্ছা করলে ম্যাকাও পাখিকে যে কেউ আদর করতে পারে এখানে। আমিও করেছি। টিয়া পাখিও দেখেছি অনেক। আর গেলাম হাঁসের বাগানে। অনেকগুলো হাঁস ওখানে। সাদা-কালো হাঁস তো ছিলই, আরো অনেক রঙের হাঁস ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কুমির, শকুন, এমু, উটপাখিও দেখলাম। এগুলো অবশ্য চিড়িয়াখানাতেই দেখেছি। তবে চিড়িয়াখানার চেয়ে এখানে দেখে ভালো লাগল। আর দেখেছি ময়ূর। অজগর দেখেছি। এখানে একটা প্রজাপতি পার্কও হচ্ছে। আর হচ্ছে অবজারভেশন টাওয়ার। অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন আর ডাইনোসরও দেখেছি আমরা! অবশ্য ওগুলো সত্যিকার ছিল না। সিমেন্টের বানানো ভাস্কর্য। এমন অনেক প্রাণীর ভাস্কর্য দেখেছি সেখানে।

দেখতে দেখতে কখন যে বিকেল হয়ে গেল জানি না। দুপুরে অবশ্য মামা আমাদের চিকেন বিরিয়ানি খাইয়েছেন। তবু বিকেলে খিদে পেয়ে গেল। সন্ধের আগে আগে সাফারি পার্ক থেকে বেরিয়ে এলাম আমরা। মনোযোগ দিয়ে সবটা ঘুরে দেখতে পারিনি। পারব কেমন করে, পার্কটা যে অনেক বড়।

ফাইয়াজুর রহমান, পঞ্চম শ্রেণী

রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর, ঢাকা।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

কোথায় : গাজীপুর

কিভাবে যেতে হবে : বাসে করে যেতে হবে গাজীপুরের বাঘের বাজার। সেখান থেকে সিএনজি অটোতে করে সাফারি পার্কের গেটে

প্রবেশ মূল্য : বড়দের জন্য ৫০.০০ টাকা, ছোটদের জন্য ২০.০০ টাকা

সাফারি বাস : বাঘ আর সিংহের রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাফারি পার্কের ভেতরেই বাসের ব্যবস্থা আছে। বাসভাড়া বড়দের জন্য ১০০.০০ টাকা আর ছোটদের জন্য ৫০.০০ টাকা করে

এ ছাড়া ক্রাউন ফিজেন্ট অ্যাভিয়ারি ১০.০০ টাকা, ধনেশ অ্যাভিয়ারি ১০.০০ টাকা, প্যারট অ্যাভিয়ারি ১০.০০ টাকা

কখন খোলা : সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত

খাবার : বাইরে থেকে খাবার নেওয়ার নিয়ম নেই। ভেতরে রেস্টুরেন্ট আছে।

সাপ্তাহিক ছুটি : মঙ্গলবার

 

– See more at: http://www.kalerkantho.com/feature/ton-ton-tin-tin/2013/12/20/32491#sthash.FUGeLYys.dpuf

একদিন সকালে ছোটমামা বললেন, চল তোদের ঘুরিয়ে আনি।

কোথায়?

সাফারি পার্কে।

সাফারি পার্ক! আমি তো অবাক। টিভিতে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে সাফারি পার্ক দেখেছি অনেক। আমি জানি, সাফারি পার্কে পশু-পাখিরা মনের আনন্দে ঘুরে বেড়ায়। মানুষ নিজে গাড়ির খাঁচায় বন্দি হয়ে তাদের দেখে আসে। এমন সাফারি পার্ক আমাদের দেশেও হয়েছে। নতুন হয়েছে। গাজীপুরে।

মামার কথায় আমরা জলদি জলদি রেডি হয়ে গেলাম। শুনেছি এশিয়ার সবচেয়ে বড় সাফারি পার্ক এটা। দেখে নাকি শেষ করতে পারব না। সকাল ৯টার সময় পার্কে থাকতে পারলে ভালো হতো। যা-ই হোক, আমি, আবরার আর মিতালি_আমাদের তিন ভাইবোনকে নিয়ে রওনা দিলেন মামা। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পেঁৗছে গেলাম পার্কে। আমরা ক্যামেরা আনিনি। তাই ম্যাকাও পাখির সঙ্গে ছবি তুলতে পারিনি। পার্কে ঢোকার মুখেই রয়েছে একটা ম্যাপ। ম্যাপ দেখে নিলে পার্ক দেখা সহজ হয়। আমরা ম্যাপটা আগে দেখে নিলাম। ডিসকভারি চ্যানেলের ওরা যেভাবে গাড়িতে করে ঘুরে ঘুরে পশু-পাখি দেখে, আমরাও তেমনি একটা গাড়িতে উঠলাম। প্রথমেই আমরা গেলাম ‘টাইগার রেস্টুরেন্টে’। এখানে চা খেতে খেতে বাঘের গর্জন শোনা যায়। বাঘ দেখা যায়। তবে সবাই চা খাওয়ার বদলে বাঘ দেখাতেই বেশি ব্যস্ত। চায়ের দিকে কারো মন নেই। আমরাও অন্য কিছু খেতে চাইলাম না। তারপর গাড়িতে করে গেলাম বাঘের রাজ্যে। গাড়িতে ওঠার পর গাইড আমাদের বারবার বলে দিয়েছেন গাড়ির জানালা না খুলতে। আমরা ইতিউতি তাকিয়ে সিংহ খুঁজলাম। কিন্তু সিংহ দেখতে পেলাম না। ভাগ্য ভালো না থাকলে সিংহ দেখা যায় না। এরপর আমরা ভালুকপাড়া, হরিণের আস্তানা, জেব্রাদের জায়গাসহ আরো অনেক জায়গায় বেড়াতে গেলাম। আরো দেখলাম হাতি। মিতালি তো হাতির পিঠে উঠবেই উঠবে। ওর সঙ্গে আমরাও উঠলাম। এরপর আমরা গেলাম পাখির রাজ্যে। ম্যাকাও পাখি দেখলাম। কী সুন্দর! ম্যাকাওর মতো আরো অনেক সুন্দর পাখি আছে। ইচ্ছা করলে ম্যাকাও পাখিকে যে কেউ আদর করতে পারে এখানে। আমিও করেছি। টিয়া পাখিও দেখেছি অনেক। আর গেলাম হাঁসের বাগানে। অনেকগুলো হাঁস ওখানে। সাদা-কালো হাঁস তো ছিলই, আরো অনেক রঙের হাঁস ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কুমির, শকুন, এমু, উটপাখিও দেখলাম। এগুলো অবশ্য চিড়িয়াখানাতেই দেখেছি। তবে চিড়িয়াখানার চেয়ে এখানে দেখে ভালো লাগল। আর দেখেছি ময়ূর। অজগর দেখেছি। এখানে একটা প্রজাপতি পার্কও হচ্ছে। আর হচ্ছে অবজারভেশন টাওয়ার। অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইন আর ডাইনোসরও দেখেছি আমরা! অবশ্য ওগুলো সত্যিকার ছিল না। সিমেন্টের বানানো ভাস্কর্য। এমন অনেক প্রাণীর ভাস্কর্য দেখেছি সেখানে।

দেখতে দেখতে কখন যে বিকেল হয়ে গেল জানি না। দুপুরে অবশ্য মামা আমাদের চিকেন বিরিয়ানি খাইয়েছেন। তবু বিকেলে খিদে পেয়ে গেল। সন্ধের আগে আগে সাফারি পার্ক থেকে বেরিয়ে এলাম আমরা। মনোযোগ দিয়ে সবটা ঘুরে দেখতে পারিনি। পারব কেমন করে, পার্কটা যে অনেক বড়।

ফাইয়াজুর রহমান, পঞ্চম শ্রেণী

রূপনগর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর, ঢাকা।

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক

কোথায় : গাজীপুর

কিভাবে যেতে হবে : বাসে করে যেতে হবে গাজীপুরের বাঘের বাজার। সেখান থেকে সিএনজি অটোতে করে সাফারি পার্কের গেটে

প্রবেশ মূল্য : বড়দের জন্য ৫০.০০ টাকা, ছোটদের জন্য ২০.০০ টাকা

সাফারি বাস : বাঘ আর সিংহের রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাফারি পার্কের ভেতরেই বাসের ব্যবস্থা আছে। বাসভাড়া বড়দের জন্য ১০০.০০ টাকা আর ছোটদের জন্য ৫০.০০ টাকা করে

এ ছাড়া ক্রাউন ফিজেন্ট অ্যাভিয়ারি ১০.০০ টাকা, ধনেশ অ্যাভিয়ারি ১০.০০ টাকা, প্যারট অ্যাভিয়ারি ১০.০০ টাকা

কখন খোলা : সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত

খাবার : বাইরে থেকে খাবার নেওয়ার নিয়ম নেই। ভেতরে রেস্টুরেন্ট আছে।

সাপ্তাহিক ছুটি : মঙ্গলবার

Facebook Comments