মৌলবাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন ভারত-বাংলাদেশের কবি, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীরা

0
7
Print Friendly, PDF & Email

   জামায়াত ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর পাকিস্তানের পার্লামেন্টে যেভাবে রেসুলেশন পাশ হয়েছে তাঁর কড়া নিন্দা করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন এটা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ বিয়য় কিন্তু সেখানে পাকিস্তান যেভাবে নাক গলাচ্ছে তা কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বাংলাদেশ কাকে দোষী সাব্যস্ত করবে কিংবা কাকে করবে না সেটা তারাই ঠিক করবে। কিন্তু কাদের মোল্লার ফাঁসির পর তাঁকে শহীদ আখ্যা দিয়ে যেভাবে সেদেশের পার্লামেন্টে রেজুলেশন করা হল তা ঠিক কাজ হয়নি।

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভবনে সৈয়দ নৌসর আলি কক্ষে ‘সোনার বাংলা-মুক্ত ভাবনা না মৌলবাদ’ শীর্ষক এক আলোচনা চক্রে বিমান বাবু মৌলবাদকে গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করে বলেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গেলে আগে মৌলবাদকে শেষ করতে হবে। একাজে সমাজের শিক্ষক সমাজ, বুদ্ধিজীবীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

 

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখনই অস্থির হয়ে ওঠে তাঁর ঢেউ সীমান্ত পেরিয়ে এপার বাংলাতেও আসে। দেশভাগের সময় এই আঘাত এসেছে। আজ আবার সেই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকরা আজ শান্তিতে নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে গেলে গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।

 

তিনি বলেন প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অত্যন্ত সুসম্পর্ক আছে ভবিষ্যতেও এটা বজায় রাখতে হবে। দুই দেশের মধ্যে যদি এই মৈত্রী না থাকে নাহলে কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই মৈত্রীতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌলবাদ শক্তি। এখনই এই মৌলবাদকে ধ্বংস করতে না পারলে সেদেশের উন্নতির অগ্রগতি থমকে যাবে বলে মনে করেন বিমান বন্দোপাধ্যায়।

 

   এদিনের এই আলোচনা সভায় বিমান বন্দোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা কবি-সাহিত্যিক শাহরিয়র কবির, বিশিষ্ট সাংবাদিক তথা বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পদক নঈম নিজাম, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায়, বিধায়ক অসিত মিত্র, কলকাতাস্থিত বাংলাদেশি কমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি তোফাজ্জেল হোসেন, ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সমন্বয় কমিটির সভাপতি অজয় দে সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

 

   বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের অবদানের কথা উল্লেখ করে বিশিষ্ট কবি শাহরিয়র কবীর বলেন ভারতের সাহায্য ছাড়াও এই স্বাধীনতা কখনওই সম্ভব হত না। ভারত যেভাবে সাহায্য করেছিল সেই নজির ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে আছে। কিন্তু মৌলবাদের বাড়বাড়ন্তে সেই স্বাধীন বাংলাদেশে আজ অস্থির হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাশের আগুন জ্বলছে। চারিদিকে হানাহানি, দেশের সম্পত্তি নষ্ট করছে, জ্যন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারছে, বাস, ট্রেনে আগুন লাগানো হচ্ছে, লাইন উপড়ে ফেলা হচ্ছে। এমনকি পরিকল্পিত ভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন শাহরিয়র কবীর। আর এই কাজে বিএনপি’র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে জামাত ইসলাম। অবিলম্বে এই সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। তাঁর অভিযোগ ‘৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য, যুদ্ধাপরাধদের বিচারপ্রক্রিয়া বানচাল করার জন্য, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করছে, তারা বাংলাদেশকে মুসলিম রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় বলে জানান, বিশিষ্ট এই কবি-সাহিত্যিক। বিশ্ব জুড়ে মৌলবাদকে প্রশয় দেওয়ার জন্য আমেরিকাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে শাহরিয়র কবীর বলেন আসলে বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ চাষ হলে তা আমেরিকার পক্ষে সুখকর হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

   বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়। কিন্তু আজ দেশজুড়ে ফের সেই মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাঁর অভিযোগ রাজনৈতিক শক্তির আশ্রয়ে-প্রশয়ে বাংলাদেশে মৌলবাদ রাজনীতির বিকাশ শুরু হয়েছিল ১৯৭২ সাল থেকে। এই মৌলবাদ শক্তিকে ধ্বংস করতে না পারলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তিনি বলেন ব্যাংক, বীমা, শিক্ষা, হাসপাতাল সবেতেই জামাত ইসলামের মতো মৌলবাদী দলগুলি তাদের শক্তি বৃদ্ধি করছে। মৌলবাদকে ধ্বংস করতে তাদের আর্থিক ভাবে পঙ্গু করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

 

নঈম নিজাম বলেন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমানে সুসম্পর্ক বজায় আছে। তাঁর আশা ভবিষ্যতেও সেই সুসম্পর্ক বজায় থাকবে। যদিও ভারত-বাংলাদেশের বকেয়া সমস্যা সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। একাজে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একত্রে উদ্যোগী হওয়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি। নঈম নিজাম বলেন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে শেখ হাসিনার সরকারকে সাহায্য করা উচিত। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত যেভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল এবারও গণতন্ত্রের স্বার্থে নতুন করে ভারতের উচিত সেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া। কারণ বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি হলে তার অাঁচ ভারতে পড়তে বাধ্য।

 

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন ভাষা, সংস্কৃতি এক হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে কখনওই আলাদা রাষ্ট্র বলে মনে হয় না। শেখ হাসিনাকেও কখনও অন্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বলে মনে হয় না কারণ তাঁর সঙ্গে এত আবেগ জড়িয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবেই দেখে আসছি। তিনি বলেন অন্যদেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে আমাদের কখনওই নাক গলানো ঠিক হবে না। সেদেশের জনগণ কাকে নির্বাচিত করবেন, কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেবেন তা তারাই ঠিক করবেন। এ বিষয়ে ভারত নাক গলাবে না। তবে এটুকু বলা যায় আমরা চাই সেদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক।
Facebook Comments