খালেদ খান আর নেই

0
15
Print Friendly, PDF & Email

দীর্ঘদিন রোগে ভুগেছেন। একটা সময় স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারতেন না। কিন্তু তাঁর ছিল অপূর্ব প্রাণশক্তি! কখনো তিনি ভেঙে পড়েননি, হতাশ হননি; বরং নিজের মতো করে নতুন একটি জগৎ গড়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই জগতে আর থাকতে পারেননি। গত সোমবার বিকেলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এর পর থেকে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যান। বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই অবস্থা থেকে আর ফেরা সম্ভব নয়। কিন্তু স্বজনদের আশা ছিল, যদি ফেরেন। অবশেষে সবার আশা ভঙ্গ করে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটায় চিকিৎসকেরা ঘোষণা দেন, খালেদ খান (৫৭) আর নেই। বিশিষ্ট মঞ্চ ও টিভি অভিনয়শিল্পী চলে গেছেন না-ফেরার দেশে (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।) রেখে গেছেন স্ত্রী রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী মিতা হক, একমাত্র মেয়ে জয়িতাসহ অসংখ্য ভক্ত, গুণগ্রাহী।

গতকাল রাতে বারডেম হাসপাতালের হিমঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন খালেদ খান। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ জানান, আজ সকালে প্রথমে নেওয়া হবে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে। সেখান থেকে তাঁর সর্বশেষ কর্মস্থল ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস প্রাঙ্গণে। সকাল সাড়ে ১০টায় নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। জোহরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে নেওয়া হবে শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। সেখানেই তাঁকে দাফন করা হবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে খালেদ খান মালিবাগে চিকিৎসকের কাছে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে তিনি শারীরিক সমস্যা অনুভব করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তায়ই তাঁর রেসপিরেটরি অ্যাটাক হয়।
খালেদ খান ১৯৫৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের মেধাবী ছাত্র ছিলেন তিনি। ধানমন্ডির সাতমসজিদ রোডে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে (ইউএলএবি) তিনি রেজিস্ট্রার হিসেবে চাকরি করছেন। ১৯৭৫ সালে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে মঞ্চনাটকে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। মঞ্চে তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে: দেওয়ান গাজীর কিসসা, অচলায়তন, নূরলদীনের সারা জীবন, ঈর্ষা, দর্পণ, গ্যালিলিও ও রক্তকরবী। ঈর্ষা নাটকে অভিনয়ের জন্য কলকাতায়ও তিনি জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

খালেদ খান নির্দেশিত উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে রয়েছে: রবীন্দ্রনাথের মুক্তধারা, পুতুল খেলা, কালসন্ধ্যা, স্বপ্নবাজ রূপবতী, মাস্টার বিল্ডার, ক্ষুদিত পাষাণ। ১৯৮১ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে টিভি নাটকে অভিষেক হয় তাঁর। খালেদ খান অভিনীত প্রথম টিভি নাটক হলো সিঁড়িঘর। এরপর অসংখ্য টিভি নাটকে অভিনয় করেন তিনি। একাধিক নাটকে তাঁর বেশ কিছু সংলাপও জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে নব্বই দশকের নাটক রূপনগর-এ তাঁর ‘ছি ছি, তুমি এত খারাপ’ শীর্ষক সংলাপটি চলে আসে মানুষের মুখে মুখে। তাঁর অভিনীত জনপ্রিয় টিভি নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: এইসব দিনরাত্রি, তুমি কোন কাননের ফুল, রূপনগর, মফস্বল সংবাদ, লোহার চুড়ি, সকাল সন্ধ্যা।

Facebook Comments