যুক্তরাষ্ট্র চায় জামায়াতকে ছাড়ুক বিএনপি

0
7
Print Friendly, PDF & Email

জামায়াত-শিবিরের সঙ্গ ত্যাগ করুক বিএনপি- এটা এখন যুক্তরাষ্ট্রও চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তিনি বলেন, ‘অবশেষে পরিস্থিতি দেখে ড্যান মজিনা (যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত) আমায় বলেছেন, বিএনপির উচিত জামায়াতের সংস্পর্শ থেকে বেরিয়ে আসা।’
গতকাল শুক্রবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ‘হিংসা দমন আর বিশ্বকে পাশে টানাই চ্যালেঞ্জ হাসিনার’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াত সম্পর্কে এ ধরনের নেতিবাচক উক্তি সাম্প্রতিক অতীতে আমেরিকার কাছ থেকে শোনা যায়নি বলেই জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিতে ঝোলানো এবং আপৎকালীন ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে জঙ্গিমুক্ত করা- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আগামী ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের বাকি পর্বটুকু সাঙ্গ করার দিকে হাঁটছেন আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি ভোট বয়কট করায় ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টিতে ইতিমধ্যেই একজন করে প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গেছেন। এর মধ্যে ১৩২ জন আওয়ামী লীগের, বাকি পাঁচজন তাদেরই জোট শরিক। এরপর সরকার গড়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু হাসিনার সামনে এখনো দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রথমটি, দেশজোড়া হিংসা ও অশান্তি বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলায় রাশ টানা। দ্বিতীয়টি, বিরোধীশূন্য নির্বাচনে অসন্তুষ্ট পশ্চিম বিশ্বের আস্থা ফেরানো।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, আপাতত তা নিয়েই চলছে যুদ্ধকালীন তৎপরতা। দুটি বিষয় নিয়েই কৌশল রচনা চলছে। গতকালই নিরাপত্তাবিষয়ক সর্বোচ্চ পর্যায়ের কমিটির বৈঠকে স্থির হয়েছে, যেসব জেলায় জামায়াত শক্তিশালী, আগামী কয়েক সপ্তাহ সেখানে অভিযান চালাবে নিরাপত্তা বাহিনী। আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক অসীম উকিলের কথায়, ‘এই হিংসা-নাশকতার সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। বঙ্গবন্ধুর ঘাতক ও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে এই হিংসায় প্রশ্রয় দিচ্ছেন খালেদা জিয়া। সংবিধান অনুযায়ী ২৪ জানুয়ারির আগে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। মাঝের এই সময়টুকুতে জামায়াতের দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সময়টুকু আমাদের চাই।’ এই ‘চূড়ান্ত ব্যবস্থা’র মধ্যে রয়েছে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে ব্যবধান তৈরি করা, সামরিকভাবে জামায়াতের হিংসাত্মক আন্দোলন দমন করা, সামাজিকভাবে গোটা দেশ থেকে তাদের বিচ্ছিন্ন করার মতো কৌশলগুলো।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের কথায়, ‘জামায়াত-বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ দ্বিতীয় পাকিস্তান অথবা আফগানিস্তানে পরিণত হবে।’ সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট, বগুড়ার মতো কিছু জেলায় ইতিমধ্যেই পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরু হয়েছে। এরপর রংপুর, সুনামগঞ্জ, রাজশাহীতেও এই অভিযান হবে।
আনন্দবাজারের প্রতিবেদন জানায়, বহির্বিশ্বে কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার কাজটিও চলছে। তার কিছুটা সুফল পাওয়া গেছে বলেও মনে করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। তাঁর সঙ্গে গত বুধবার বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। জামায়াতকে নরমপন্থী মুসলিম সংগঠন হিসেবে তুলে ধরে সামাজিক পরিসরে তাদের জায়গা করে দেওয়ার পক্ষে আগাগোড়া সওয়াল করেছে হোয়াইট হাউস। একাত্তরের যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষ নেওয়া আমেরিকা বরাবরই বিএনপি-ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগের। সামপ্রতিক ঘটনাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস হিসেবেও ব্যাখ্যা করেছে আমেরিকা। এহেন ওবামা প্রশাসনের সুরও কিছুটা নরম করেছে বলে দাবি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সমপ্রতি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নিয়ে সরব হয়েছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিং। ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাংলাদেশ সরকার চাইছে, পশ্চিম বিশ্বকে বোঝানোর প্রশ্নে নয়াদিলি্ল আরো বড় ভূমিকা নিক। বাংলাদেশে সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ও কোমর বেঁধে নেমেছে। মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানাচ্ছেন, ‘সমস্ত তথ্য ও নথি জোগাড় করে আমরা শ্বেতপত্র প্রকাশ করছি। সেখানে জামায়াতের হিংসা ও নাশকতার সমস্ত রেকর্ড থাকবে। সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন করার চেষ্টা করছেন হাসিনা, আর তা বানচাল করতে বিএনপি-জামায়াত জোট কিভাবে ষড়যন্ত্র করছে, থাকবে সে কথাও।’
প্রতিবেদনের শেষ অংশে বলা হয়, তালেবান ও পাক-সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে জামায়াতের যোগাযোগের বিষয়টিকেও মার্কিন কর্তাদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ইনুর কথায়, ‘আশির দশক থেকে ধাপে ধাপে প্রায় সাত হাজার জামায়াত নেতা ও জঙ্গিকে আইএসআই আফগানিস্তানে পাঠায় তালেবানের কাছে প্রশিক্ষণের জন্য। ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল জামায়াতের বেশ কিছু নেতার। এরাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্রমশ জঙ্গি ঘাঁটি গড়ে তুলেছে

Facebook Comments