আলটিমেটাম, না মানলে অসহযোগ আন্দোলন

0
4
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আগামীকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। টানা ৮৩ ঘণ্টার অবরোধ শেষ হওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বিরোধীদলীয় নেতার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান সোহেল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে গতকাল রবিবার এ তথ্য জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে দেশের চলমান সংকট ও সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে খালেদা জিয়া দেশবাসীর উদ্দেশে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরবেন।
জানা গেছে, খালেদা জিয়া তাঁর বক্তব্যে বিতর্কিত ও একতরফা নির্বাচন বাতিল এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে সবার অংশগ্রহণে নতুন নির্বাচনী তফসিলের দাবি জানিয়ে একটি সময়সীমা বেঁধে দিতে পারেন। ওই সময়সীমার পর থেকে শুরু হতে পারে অসহযোগ আন্দোলন। একই সঙ্গে সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে নির্বাচনে অসহযোগিতা ও একতরফা নির্বাচন ঠেকাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দেবেন তিনি। নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেবেন ভোটকেন্দ্রভিত্তিক ‘দুর্গ’ গড়ে তুলতে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গত কয়েক দিনের ভাষণের জবাব এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে ১৮ দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন।
 
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের বিষয় নিয়ে খালেদা জিয়া সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন। বিএনপি সমর্থক বুদ্ধিজীবীদেরও পরামর্শ নিচ্ছেন। আজ সোমবার দলের কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে গুলশানের বাসভবনে বৈঠক করে তিনি বক্তব্য চূড়ান্ত করবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, আন্দোলন পরিকল্পনা মোতাবেক চলছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্যে আন্দোলন দানা বাঁধছে এবং তা আরো তীব্রতর হবে। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। আর সে কারণে আন্দোলন থমকে দাঁড়িয়েছে- এ কথা বলব না। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশপ্রেমিক, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে অত্যন্ত সজাগ। অতীতে তারা দেশের মানুষের পাশে থেকেছে। নানা দুর্যোগে মানুষের পাশে থেকে কাজ করেছে। এবারও তারা তাদের পরিধির মধ্যেই কাজ করবে।’
বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক নেতা কালের কণ্ঠকে জানান, বিরোধীদলীয় নেতার আন্দোলনের মাঠে নামার কথা রয়েছে। তবে তাঁর মাঠে নামার পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। আগে সেই পরিস্থিতি তৈরি এবং দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তা ছাড়া সরকার সমাবেশ আয়োজনেরও অনুমতি দিচ্ছে না যে বিরোধীদলীয় নেতা সেখানে যোগ দেবেন।
পাঁচ কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক : যুক্তরাজ্যসহ পাঁচটি দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে গতকাল বৈঠক করেছেন বিএনপির দুই নেতা। গুলশানের হোটেল হ্যারিটেজে দুপুর ১টা থেকে বিকেল পৌনে ৩টা পর্যন্ত স্থায়ী ওই বৈঠকে কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন, নেদারল্যান্ডসের হাইকমিশনার গার্বেন ডি ইয়ং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার গ্রেগরি এ উইলক, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত লি ইয়ুন-ইয়ং ও যুক্তরাজ্য হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। আর বিএনপির পক্ষে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকের পর বিএনপি নেতারা এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। তবে সাবিহ উদ্দিন আহমেদ টেলিফোনে বলেন, এটি ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি।
সূত্র মতে, বিএনপি কেবল কূটনীতিক নয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে। তারা মনে করছে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্য নয়, তা আন্তর্জাতিক মহলকে বোঝাতে তারা সক্ষম হচ্ছে। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। তাদের ধারণা, প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকারকে আরো বেশি চাপ দেবে। সেই সঙ্গে আন্দোলন জোরদার করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে এবং তা ৫ জানুয়ারির আগেই।

Facebook Comments