আরো দাম কমার শঙ্কায় দ্রুত বিক্রি ভারতীয় পেঁয়াজের ব্যাপক দরপতন

0
8
Print Friendly, PDF & Email

ভারতীয় পেঁয়াজে সয়লাব দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। অবরোধের মধ্যে মহাসড়কে পেঁয়াজভর্তি বিপুল ট্রাক আসা এবং ট্রাকভাড়া অনেক কমে আসায় পেঁয়াজে বাজার সয়লাব হয়েছে। এদিকে ভারত সরকার রপ্তানি মূল্য টনপ্রতি এক হাজার ১৫০ ডলার থেকে হঠাৎ করে ৮০০ ডলার এবং গত শুক্রবার সাড়ে তিন শ ডলারে নির্ধারণ করায় বেশি দামে কেনা আমদানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন। দাম আরো কমে যাওয়ার ভয়ে তাঁরা দ্রুত বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। এক বছরের মধ্যে পাইকারি বাজারে এটি পেঁয়াজের সর্বনিম্ন দাম।

এদিকে ঢাকার পেঁয়াজের আড়ত শ্যামবাজারেও দাম কমে গেছে। সেখানে গতকাল ভারতীয় পেঁয়াজ প্রতি কেজি সর্বনিম্ন ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গতকাল রবিবার পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে ভারতীয় নাসিক জাতের কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ২৮-৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই দিন আগে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫০ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ আসায় বাজার থেকে মিয়ানমার, চীন ও পাকিস্তানের পেঁয়াজ উধাও হয়ে গেছে।

খাতুনগঞ্জ কাঁচা পণ্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস কালের কণ্ঠকে জানান, হরতাল-অবরোধের সময় এর আগে দিনে এক-দুটি ট্রাক প্রবেশ করলেও গত তিন দিনে ১১০টি পেঁয়াজভর্তি ট্রাক প্রবেশ করেছে। সুতরাং পেঁয়াজে সয়লাব হওয়ায় বাজারে দামে ধস নেমেছে। ২৮ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে।

মহাসড়কে যৌথ বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তার কারণে স্থলবন্দর থেকে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের গাড়ি আসতে শুরু করে। বিগত সপ্তাহের শুরুতে ট্রাক আসা বেড়ে যাওয়ায় দাম কমতে শুরু করে।

কাঁচা পণ্যের ব্যবসায়ী ও এইচ এল করপোরেশনের কর্ণধার মো. আবসার উদ্দিন কালের কণ্ঠকে জানান, মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বাড়ায় ট্রাকভাড়া এক লাখ টাকা থেকে কমে ৬০ হাজার টাকায় নেমেছে। এর সঙ্গে ভারত রপ্তানিমূল্য টনপ্রতি ৩৫০ ডলারে নির্ধারণের ঘোষণায় বেশি দামে স্টক করা কিছু ব্যবসায়ী বিপাকে পড়েছেন। নতুন দামে পণ্য বাজারে না আসার আগেই পেঁয়াজ দ্রুত বিক্রি করে দিচ্ছেন।

জানা যায়, ভারত সরকার পেঁয়াজের রপ্তানিমূল্য এক হাজার ১৫০ ডলারে নির্ধারণের পরই দেশের বাজার চড়া হতে শুরু করে। পাইকারি বাজারে রেকর্ড দামে কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়। গত ১৬ ডিসেম্বর ৮০০ ডলারে নির্ধারণের পর বাজার নিম্নমুখী হতে শুরু করে। এ অবস্থায় ১৩০ টাকার পেঁয়াজ ৮০ টাকায় নেমে আসে। গত ২০ ডিসেম্বর হঠাৎ করেই রপ্তানি মূল্য ৩৫০ ডলারে নেমে আসায় বাজারে ধস নামে।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড ও ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে পেঁয়াজ একেবারে সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে নিশ্চিত। তবে এ জন্য দিনেরবেলায় নগরে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলে বাজার সহনীয় করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত রপ্তানিমূল্য ৩৫০ ডলার নির্ধারণ করলেও ভারতের বাজারে এর দাম আরো অনেক কম। কম দামেই দেশের ব্যবসায়ীরা বুকিং দিচ্ছেন। ফলে সামনে দাম আরো কমার শঙ্কায় বেশি লাভের আশায় গুদামজাত করা কিছু ব্যবসায়ী হুড়োহুড়ি করে বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ঢাকার শ্যামবাজারের নবীন ট্রেডার্সের মালিক নারায়ণ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, দাম পড়ে যাওয়ায় প্রতি ট্রাকে ব্যবসায়ীদের চার-পাঁচ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি ৭২ টাকা পড়তার (খরচসহ দাম) পেঁয়াজ শেষ পর্যন্ত ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি জানান, তিন দিন আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭৫-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গতকাল সন্ধ্যায় ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

Facebook Comments