জলপাইগুড়িতে সাইকেল বোমায় ৫ জন নিহত

0
10
Print Friendly, PDF & Email

   জলপাইগুড়ি শহর সংলগ্ন বজরাপাড়ায় সাইকেলে ঝোলানো ব্যাগে রাখা বিস্ফোরক ফেটে বৃহস্পতিবার রাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ জখমের সংখ্যা ১২। ধারণা করা হচ্ছে কেউ দায় স্বীকার না-করলেও ষড়যন্ত্রের ছক দেখে ওই বিস্ফোরণে কেএলও-র হাত রয়েছে।  ঘটনার ১৫ মিনিটের মধ্যে পুলিশ গিয়ে এলাকাটি ঘেরাও করে ফেললেও রাত পর্যন্ত কাউকে  আটক করা সম্ভব হয় নি।

পুলিশ জানিয়েছে, সিল করে দেওয়া হয়েছে ভুটান ও অসম সীমানা৷ কেএলও-র উপর পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হওয়ার কারণ, বৃহস্পতিবার ছিল কামতাপুরি ওই জঙ্গি সংগঠনটির শহীদ দিবস।  ২০০১-এর এই দিনে জলপাইগুড়ি জেলাতেই অসম সীমানার কুমারগ্রামে পুলিশের গুলিতে প্রথম দুই কেএলও জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল।  সেই কারণেই দিনটিকে শহীদ দিবস হিসাবে পালন করে কেএলও।  তা ছাড়া আর দু’দিন পর ২৮ ডিসেম্বর কেএলও-র প্রতিষ্ঠা দিবস।  গোয়েন্দারা আগেই রিপোর্ট দিয়েছিলেন যে এই সময়ে নাশকতা করতে পারে ওই জঙ্গি সংগঠনটি। সেই অনুযায়ী পুলিশি সতর্কতাও ছিল।
জানা গেছে,  রাস্তার একটি কালভার্টের পাশে দাঁড় করানো ছিল একটি সাইকেল।  সাইকেলে একটি ব্যাগ ঝোলানো ছিল।  বিস্ফোরণের প্রত্যক্ষদর্শী বজরাপাড়ার বাসিন্দা শিবু ইসলাম বলেন, ‘পাড়ারই কয়েকজন সাইকেলটি দেখে ঝোলানো ব্যাগ নেড়েচেড়ে দেখছিলেন।  আমি তখন দূরে রাস্তার পাশে বসেছিলাম।  হঠাত্‍ প্রচণ্ড শব্দের সঙ্গে আগুনের ঝলক দেখলাম।  তারপরই দেখি, ওই যুবকরা পড়ে কাতরাচ্ছে।  পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।  পরে হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৩ জনের৷ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে ১২ জনকে৷ ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক৷ তাঁদের উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।  নিহতেরা হলেন, রহিদুল ইসলাম, রঞ্জন রায়, পাপ্পু রহমান ও আইনুল হোসেন ও লালমোহন দেবনাথ।  বিস্ফোরণের তীব্রতা এমন ছিল যে, দু’জনের দেহের উপরের অংশ উড়ে গিয়েছে৷ আরডিএক্স ব্যবহার করেই বিস্ফোরণ ঘটনানো হয়েছে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে  ধারণা করেছে।

Facebook Comments