আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ পাওলো কাসাকার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্তর্জাতিক মানের, বলছে ওয়াশিংটন টাইমসও

0
7
Print Friendly, PDF & Email
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের যে বিচার কাজ সম্পন্ন করছে তার বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক যেকোন যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার সাথে তুলনীয়। বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে হওয়া বিচারগুলোর মানকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশে একাত্তরে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া, এমনটি দাবি করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন টাইমস।
 
 
বুধবার পত্রিকাটিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে এ কথা বলা হয়।
 
 
‘বাংলাদেশ ওয়ার ক্রাইমস রিক্যুয়ার জাস্টিস’ (বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধের বিচার করা জরুরি) শিরোনামের নিবন্ধটি পত্রিকাটির অনলাইনে প্রকাশিত হয়। নিবন্ধটি লিখেছেন পাওলো কাসাকা। তিনি কাসাকা সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক।
 
 
বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ ট্রাবুন্যাল বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করছে না-এমন প্রচারণা সম্পর্কে পশ্চিমা দুনিয়াকে সতর্ক করে দিয়ে নিবন্ধটিতে বলা হয়, “এধরনের প্রচারণার শিকার হওয়া উচিত নয় পশ্চিমা দুনিয়ার। বস্তুত, সম্প্রতি কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, ইরাক কিংবা রুয়ান্ডার মত দেশগুলোর মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচারে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোর নীতি, প্রক্রিয়া, ফলাফল ও অভিজ্ঞতার সাথে বাংলাদেশকে তুলনা করলে তাতে দেখা যাবে, বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল বেশ তুল্যমূল্য। বরং আন্তর্জাতিক এসব ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ার মানকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল।”
 
 
এছাড়া তাতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে পরিচালিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) গণহত্যার বিষয়টি তুলে ধরা, মানবাধিকার রক্ষা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে যারা পদ্ধতিগতভাবে লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশিকে হত্যা, ধর্ষণের সংঘবদ্ধ আয়োজন করেছে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতেই এই ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
 
 
নিবন্ধকার বলেন, “এই বিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে সবসময় সমালোচনা হবে, কিন্তু এই বিচারকে এগিয়ে নিতে গঠিত ট্রাইব্যুনাল সুষ্ঠু আছে। কাজেই বাংলাদেশের জনগণের জন্য যতক্ষণ তা অর্জিত হচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের উচিত এ বিচার কাজ চালিয়ে যাওয়া।”
 
 
এতে বলা হয়, “এই ট্রাইব্যুনাল যখন তাদের কাজ শুরু করে তখন অনেকেই তাদের সততার সাথে বিরোধিতা করেছিল। বিরোধিতাকারীরা ট্রাইব্যুনালকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে, ট্রাইব্যুনাল বেশ এগিয়ে গেছে। বর্তমানে তারা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা মনে করছে, ট্রাইব্যুনাল তাদের কাজটি সততার সাথে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছে।”
 
 
নিবন্ধকার কাসাকা বলেন, “মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্টিফেন জে. র‍্যাপ যুদ্ধাপরাধ ইস্যুটি ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি তিন দফা বাংলাদেশ সফর করেন। স্টিফেন বলেছেন, আইসিটির কৌঁশুলী ও বিচারকদের সদিচ্ছার প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমি মনে করি, ন্যায় বিচারের জন্য তাদের এই সদিচ্ছাই যথেষ্ট।”
 
 
স্টিফেনের এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নিবন্ধটিতে বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে দাবি করে বলা হয়, “এটুকু বলা ঠিক যে, বিশেষভাবে ইরাকসহ (যারা সেখানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযান অনুসরণ করেছে) বিশ্বব্যাপী পরিচালিত ট্রাইব্যুনালগুলোর সাথে ইতিবাচকভাবেই তুলনা করে দেখছে আইসিটি।”
 
 
সম্প্রতি গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়ায় ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্ন জটিল হয়ে ওঠে, এ প্রসঙ্গে নিবন্ধে কাসাকা বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করি। তবে এ ঘটনায় অপরাধ হোক বা না হোক, অভিযুক্ত অপরাধী আইনের অধীনে অনুমোদিত সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ারই যোগ্য। সেদিক থেকে আমার অবস্থান তাহলে অবশ্যই হ্যাঁ-ই হবে।”
 
 
নিবন্ধটির লেখক হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে যারা গণহত্যা চালিয়েছিল বলে অভিযুক্ত হয়েছে তাদেরকে যারা সমর্থ দিচ্ছেন, দুর্ভাগ্যজনক হল, তারা এই বিচার প্রক্রিয়াকে পথচ্যুত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ফলে এতে করে এই সমর্থনকারীরা বিচার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত সদস্য এবং আদালতে স্বাক্ষীদাতাদের টার্গেট করে গুপ্তহত্যাসহ নাগরিকদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে সন্ত্রাসী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে।”
 
 
নিবন্ধকার আরো বলেন, “আমি সম্প্রতি ট্রাইব্যুনালটির একজন কৌঁশুলির সাথে বৈঠকে ছিলাম। ঐ কৌঁশুলি বলেছেন, তাকে বেশ কয়েকজন হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তিনি আমাকে জানিয়েছেন, এসব হুমকি ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপকভাবে। তারপরও তিনি তার কাজ থেকে সরে যাবেন না।”
 
 
নিবন্ধটিতে জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রমানের একটি বিবৃতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেন কাসাকা বলেন, “১২ ডিসেম্বর এক বিবৃতিতে শফিকুর রহমান বলেছিলেন, যদি কাদের মোল্লাকে ফাঁসি দেয়া হয়, তবে এর ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হবে।”
 
 
কাসাকা বলেন, “তাতে মনে হয়েছিল নিশ্চয়ই জামায়াতের সমর্থকরা কাদের মোল্লার দণ্ডমুক্ত করার চেষ্টা করবেন, কিংবা তাকে স্বল্প শাস্তির পক্ষে চেষ্টা চালাবেন। এই প্রচেষ্টা ও প্রচারণা শুধু বাংলাদেশের সীমিত ছিল না, পশ্চিমা দুনিয়ায়ও তারা লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করেছেন নেতিবাচক প্রচারণায়। রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েছেন এই নিরপরাধী, এমন একটা প্রপাগান্ডাই তারা চালিয়েছেন।”
 
 

এর জন্য তারা বিশেষভাবে ক্যাম্পেইন লবিও ঠিক করে। যাদের মধ্যে রয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এমনই দাবি করেন নিবন্ধটির লেখক কাসাকা। পরিশেষে তিনি নিবন্ধটিতে বলেন, “একাত্তরে বর্বরতাকারী পাকিস্তান এখনো বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে আস্তানা গাঁড়তে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Facebook Comments