সমাবেশের অনুমতি মেলেনি এবারও সরকারের অবরোধ

0
5
Print Friendly, PDF & Email

গত বছরের ১২ মার্চের পূর্বাপর ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে এবারও। সেই দিনের বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় বিরোধী জোটের ডাকা ‘ঢাকা চলো’ কর্মসূচির আগে আগে সারা দেশ থেকে আন্তজেলা বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ঢাকায়ও সেদিন যান চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের সেই উদ্যোগ ‘সরকারি অবরোধ’ আখ্যা পেয়েছিল। খালেদা জিয়া ঘোষিত এবারের ঢাকামুখী ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে ঘিরেও একই ধরনের অবস্থা তৈরি হয়েছে।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ আগামীকাল রবিবার ঢাকার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে। এ কর্মসূচির আগে গতকাল শুক্রবার ঢাকার পথে কোনো বাস ছাড়েনি বিভিন্ন জেলা থেকে। দক্ষিণের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে লঞ্চ ছাড়েনি। কোনো কোনো স্থান থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা কয়েকটি লঞ্চ পুলিশ মাঝপথ থেকে ফেরত পাঠিয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ঢাকায় কিছু যান এলেও আজ শনিবার সকাল থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের বাস ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল নয়াপল্টনে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি ঢাকা মহানগর পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, যেখানে গণজমায়েতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে, সেখানে ব্যাপক সহিংসতা ঘটতে পারে বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ১৮ দলীয় জোটকে গণজমায়েতের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন জেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বিষয়ে জেলা বা কেন্দ্রীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা বলছেন, গাড়ি চালালে পুলিশ রিকুইজিশন করে নিতে পারে- এই আশঙ্কার কারণে তাঁরা শনিবার সকাল থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার উদ্দেশে কোনো গাড়ি চালাবেন না। এদিকে বাস ও লঞ্চ যাতে ছাড়তে না পারে সে জন্য কোনো কোনো জেলার টার্মিনালে কড়া পাহারা বসিয়েছে পুলিশ ও ছাত্রলীগ। অন্যদিকে নৌপরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ঘন কুয়াশাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়ে সব লঞ্চ ঘাটে ভিড়িয়ে রাখছেন। কোথাও কোথাও জেলা প্রশাসকরা গাড়ি বন্ধ রাখতে মালিকদের চাপ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। নাশকতা ও পুলিশি ঝামেলা এড়াতে অনেক পরিবহন মালিক নিজে থেকেই বাস না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাস মালিক ও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, শনিবার ও রবিবার ঢাকা শহরের ভেতরে বাস চলাচল করলেও বাইরের কোনো জেলা থেকে ঢাকায় কোনো বাস আসবে না।
ঢাকামুখী যাত্রীর ভিড় থাকলেও গতকাল চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, বাগেরহাট, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, পিরোজপুর ও ঝিনাইদহ থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো বাস ছাড়েনি। ভোলার বোরহানউদ্দিন থেকে শুক্রবার বিকেল ৪টায় এমভি সাদিম নামের একটি লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আরো যাত্রী নেওয়ার জন্য বিকেল ৫টায় গঙ্গাপুর ঘাটে যায়। পুলিশ ওই লঞ্চটিকে ঘাটে ভিড়তে না দিয়ে মাঝনদী থেকেই তা আবার বোরহানউদ্দিন ঘাটে ফেরত পাঠিয়েছে। বিকেলের পর থেকে দক্ষিণের জেলা ভোলা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর থেকে লঞ্চও ছেড়ে আসেনি ঢাকায়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রিকুইজিশনের ভয়ে বেশির ভাগ মালিক তাঁদের গাড়ি রাস্তায় বের করছেন না। সে কারণেই শুক্রবার বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় গাড়ি আসা অনেক কম ছিল। শনিবার সকাল থেকে রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বাইরের জেলাগুলো থেকে ঢাকায় কোনো গাড়ি আসবে কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।’ ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘বিএনপির সমাবেশ ঘিরে গাড়ি বন্ধ রাখার জন্য ওপর থেকে কোনো নির্দেশনা পাইনি। তবে পুলিশের রিকুইজিশন ভয়সহ নানা কারণে শুক্রবার গাড়ি চলাচল কমে গেছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ভয় কাটবে না।’ ঢাকার সায়েদাবাদ আন্তনগর বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশের কথা আমি শুনতে পেয়েছি। তবে সরকারের কাছ থেকে লিখিত কোনো কাগজ পাইনি। গাড়ি ভাঙচুর ও নাশকতার ভয়ে মালিকদের বড় অংশই এ দুই দিন গাড়ি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জেনেছি।’
সমাবেশে নাশকতার আশঙ্কা : বিএনপির পক্ষ থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল গণজমায়েতের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডিএমপির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ঢাকা মহানগর ও নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে’ এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বুধবার সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল ডিএমপি কার্যালয়ে গিয়ে কমিশনারের কাছে গণজমায়েতের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন। গতকাল ডিএমপির উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা মহানগর ও নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে গণজমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যেখানে গণজমায়েতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে, সেখানে ব্যাপক সহিংসতা ঘটতে পারে। ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ ১৮ দলীয় জোটকে গণজমায়েতের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
গতকাল বিকেলে ডিএমপির মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঢাকা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ২৯ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে গণজমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। গোয়েন্দা তথ্য আছে, ২৯ ডিসেম্বরের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে নাশকতাকারীরা আসবে। এসব নাশকতাকারী দেশের বিভিন্ন এলাকায় গাছ কাটা, বোমা হামলা, বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, এমনকি বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত। গোয়েন্দা তথ্যমতে, তারা ঢাকায় এসেও নাশকতা চালাতে পারে। নাশকতাকারীরা ইতিমধ্যে রাজধানীতে আসতে শুরু করেছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীতে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে। আর এসব তথ্য পেয়েই গণজমায়েতের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’ নয়াপল্টন ছাড়া অন্য এলাকায় সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেভাবে আবেদন করা হলে কর্মসূচির ধরন, প্রেক্ষাপট ও নাশকতার আশঙ্কা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
চট্টগ্রাম থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে ঢাকামুখী যান চলাচল গতকালই অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। আজ থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ আন্তজেলার ৬০টি দূরপাল্লার রুটে গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন মালিক সংগঠনের নেতারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন মালিক সমিতির কয়েকজন নেতা জানান, চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলা, কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন রুটে মালিক সমিতির কাছে বিএনপি-জামায়াত জোটের নেতারা ঢাকায় যাওয়ার জন্য শতাধিক গণপরিবহন (বাস) ভাড়া চেয়েছিলেন। কিন্তু মালিকরা গাড়ির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় একটি বাসও ভাড়া দেননি।
মালিক সমিতির নেতা গোলাম রসুল বাবুল বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘বিএনপির কর্মসূচিতে ভাড়ায় গিয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিদগ্ধের শিকার হলে এর দায়ভার কে বহন করবে? তাই মালিকরা বাধ্য হয়ে রাস্তায় গাড়ি নামাতে সাহস করছেন না।’
বরিশাল প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার পর বরিশাল থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। মহাসড়কে নাশকতাসহ ঘন কুয়াশায় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার আশঙ্কায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. আফতাব হোসেন। এ ছাড়া রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল থেকে ঢাকার সব লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। লঞ্চে নাশকতা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হঠাৎ তল্লাশি অভিযান শুরু করার পর লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে এটা করা হয়েছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাজশাহী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম রবি বিষয়টি স্বীকার করেছেন। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন অভিযোগ করে বলেন, সরকার ইচ্ছা করেই ঢাকামুখী বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।
আমাদের রংপুর অফিস জানায়, মহাসড়কে নাশকতার আশঙ্কায় রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে ঢাকাগামী বাস বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন। চালকরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাস চালাতে অস্বীকৃতি জানালে গতকাল সন্ধ্যা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রংপুর বিভাগীয় সমিতির সভাপতি আক্তার হোসেন বাদল বলেন, দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধের সঙ্গে শ্রমিক ইউনিয়ন ও শ্রমিক ফেডারেশনের কোনো হাত নেই। চালকরা নিজেরাই বন্ধ করে দিয়েছেন।
বিএনপির জেলা আহ্বায়ক মোজাফ্ফর হোসেনের অভিযোগ, সরকার শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের দিয়ে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছে। এরপরও রংপুর থেকে অন্তত ১০ হাজার নেতা-কর্মী ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে বলে জানান তিনি।
আমাদের ভোলা প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে ছাড়লেও বিকেল থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো লঞ্চ ছাড়েনি ভোলার খেয়াঘাট থেকে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. ফারুক মিয়া জানান, গতকাল রাতে লঞ্চযোগে কয়েক শ নেতা-কর্মী ঢাকায় রওনা হওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়েও বিকেল থেকে কোনো লঞ্চ না ছাড়ায় তারা যেতে পারেনি। বিকেল ৪টার আগে কিছু লঞ্চ ঢাকার উদ্দেশে ছাড়লেও নদীতেই সেগুলো আটকে দেয় পুলিশ।
আমাদের ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকেই ঢাকামুখী বাস এবং বিকেলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। লঞ্চঘাটে ও বাস টার্মিনালে মহড়া দিচ্ছে ছাত্রলীগ। ঝালকাঠি-ঢাকা রুটের সুন্দরবন লঞ্চের ঘাট সুপারভাইজার মো. হানিফ হাওলাদার জানান, মালিকপক্ষের নির্দেশে বিকেল ৫টায় লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
আমাদের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জেলার ওপর দিয়ে ঢাকাগামী বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে হঠাৎ করেই ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, জেলা বাস মালিক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. হান্নান বলেছেন, যাত্রী কম থাকায় লোকসান গুনে ঢাকার উদ্দেশে কোনো গাড়ি ছাড়বেন না তাঁরা। অন্যদিকে ভাণ্ডারিয়া থেকে শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে কোনো লঞ্চ ও বাস ছেড়ে যায়নি। পুলিশি হস্তক্ষেপে ঢাকামুখী যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। লঞ্চ ছাড়তে বাধা দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ জানিয়েছে, ওপরের নির্দেশে তারা এ কাজ করেছে।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, শুক্রবার এ জেলা থেকে ঢাকাগামী সব নৈশ কোচ চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন মালিকরা। জেলা পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান জানান, ঢাকার সমাবেশকে ঘিরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করায় নিরাপত্তার অভাবে তাঁরা আগেই শনিবার রাত থেকে বাস চলাচল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
আমাদের বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাট থেকে ঢাকাসহ দূরপাল্লার বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। সম্প্রতি বিভিন্ন সড়কে জামায়াত-শিবিরের নাশকতায় যানবাহন ভাঙচুরের মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার ভোর থেকে শ্রমিকরা দূরপাল্লার সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। শ্রমিক নেতারা জানান, যানবাহনে নাশকতাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এ ধর্মঘট চলবে।
আমাদের চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, জেলা থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা বলছে, প্রশাসন নিষেধ করায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে একাধিক পরিবহন শ্রমিক বলেন, শুক্রবার সকাল ১১টার পর থেকে ঢাকাগামী কোচ চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বাস-ট্রাক সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম জেনারেল ইসলাম বলেন, মৌখিকভাবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকাগামী কোচ চলাচল বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশ্য চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসাইন বলেছেন, ঢাকাগামী গাড়ি চলাচলের ব্যাপারে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। যাত্রী সংকটে লোকসানের ভয়েও মালিকপক্ষ গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে পারে।
খুলনা অফিস জানায়, গতকাল রাত সাড়ে ৮টার দিকে খুলনা থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটের বাস বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষ। হানিফ পরিবহনের একজন কাউন্টার ব্যবস্থাপক জানান, ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় তাঁরা বাস বন্ধ রেখেছেন।
মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, কোনো ধরনের পূর্র্ব ঘোষণা ছাড়াই শুক্রবার মেহেরপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী সব বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া জানান, গতকাল সন্ধ্যা থেকে বগুড়া থেকে ঢাকাগামী সব ধরনের যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর আগে মোটর মালিক-শ্রমিকরা একটি গোপন বৈঠক করে এ সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি কেউ স্বীকার করেনি।

Facebook Comments