সুপ্রিম কোর্ট ও প্রেসক্লাব এলাকায় তাণ্ডব সংঘর্ষ হামলায় নিহত ২

0
8
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, আতঙ্ক ও উত্তেজনায় গতকাল রবিবার রাজধানী ঢাকায় চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে অচল হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ব্যাপক চাপের মুখে বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীদের রাজপথে দেখা না গেলেও রাজধানী ছেয়ে গিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিপুল উপস্থিতিতে। বেশ কিছু এলাকায় বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের দমনে পুলিশের সঙ্গে সক্রিয় ছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও।
শহরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে কঠোর অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই ঘটেছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও হতাহতের ঘটনা। মালিবাগের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে একজন শিবিরকর্মী এবং কমলাপুর রেলস্টেশনে তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণে রেলের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। গতকাল সকাল থেকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ছিল দৃশ্যত ফাঁকা। তবে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে। বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ, মোটরসাইকেলে আগুন ও বার অ্যাসোসিয়েশনের ছাদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় লাঠি হাতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিছিল করেছে। নয়াপল্টনের সমাবেশকে কেন্দ্র করে গত শনিবার রাত থেকে গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
মালিবাগে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে শিবিরকর্মী নিহত : গতকাল সকালে মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার বায়তুল আজিম শহীদী জামে মসজিদের গলিতে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। নিহত মনসুর প্রধানিয়াকে (২২) নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে শিবির। এ ছাড়া এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। শিবিরকর্মীরা ঘটনাস্থলে কমপক্ষে ১৫টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ পাল্টা গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচ-ছয়জনকে আটক করে।
চৌধুরীপাড়ার কাঁচাবাজার এলাকার মোবাইল ফোন রিচার্জের ব্যবসায়ী স্বপন মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সংঘর্ষ হয়। এরপর দুপুর ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মনসুরকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপুরা থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা এ ঘটনা সম্পর্কে কালের কণ্ঠকে জানান, জামায়াত-শিবিরের মিছিল থেকে হঠাৎ পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। ১৫-২০টি ককটেল ছুড়ে মারে। তাদের হামলায় রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন, কনস্টেবল হাতেম আলী, ওহিদুজ্জামানসহ পাঁচজন আহত হয়েছে। গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহত হওয়ার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
জানা গেছে, নিহত মনসুর রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ড শিবিরের সভাপতি ছিলেন। তিনি বনানীর সিটি ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মনসুরের বড় ভাই মাঞ্জুর প্রধানিয়া আশিক জানান, তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের মুন্সিরহাট এলাকায়। রাজধানীর আশকোনা এলাকায় তাঁদের বাসা। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে মনুসর ছিলেন তৃতীয়।
কমলাপুরে বোমায় রেলের নিরাপত্তাকর্মী নিহত : গতকাল বিকেলে কমলাপুরে তল্লাশির সময় শিবিরকর্মীদের ব্যাগে রাখা বোমা বিস্ফোরণে আবুল কাশেম (৩০) নামে রেলওয়ের নিরাপত্তী বাহিনীর (আরএনবি) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে বোমা বহনকারী আমিনুল ইসলাম (২২) ও আলম (২৩)। তাদের আটক করা হয়েছে। ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, আবুল কাশেম কমলাপুর রেলওয়ের দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ওই এলাকায় সন্দেহভাজন দুজনকে দেখে তাদের গতিরোধ করেন। তিনি দুজনের কাছে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করার চেষ্টা করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ব্যাগে থাকা বোমা বিস্ফোরিত হয়। এতে কাশেমের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। ওসি আরো জানান, আরএনবি ও জিআরপি পুলিশ দুই বোমা বহনকারীকে আহতাবস্থায় আটক করেছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ওসি আব্দুল মজিদ বলেন, ‘আলমের বাড়ি কুমিল্লা এবং আমিনুলের বাড়ি জামালপুরে। তারা দুজন শিবিরকর্মী। নাশকতার জন্য তারা বোমা নিয়ে কমলাপুরের এসেছিল।’ ঘটনার পরপরই রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি নিহতের পরিবারকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান এবং আটকে সহায়তাকারী চার আরএনবি সদস্যকে পুরস্কারের ঘোষণা দেন। নিহত কাশেমের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসেদপুর থানার উজানি গ্রামে। তিনি এক কন্যাসন্তানের জনক।
সুপ্রিম কোর্ট এলাকা উত্তাল : সকাল ৯টা থেকে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের ভেতরে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় ফটকের বাইরে সড়কে অবস্থান করছিল অর্ধশতাধিক পুলিশ। প্রস্তুত ছিল জলকামান। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ জলকামান দিয়ে তাঁদের পিছু হটিয়ে দেয়। বিকেল ৩টা পর্যন্ত থেমে থেমে তাঁরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিপত্তি ঘটে বিকেল ৩টা ২১ মিনিটে। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের গেটের ভেতর থেকে স্লোগান দিচ্ছিল। হঠাৎ করেই সরকারদলীয় কর্মীরা লাঠিসোঁটা হাতে মিছিল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়। এ  মিছিল থেকে আইনজীবীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আওয়ামী লীগ কর্মীদের এ হামলার মুখে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পিছিয়ে যেতে থাকে। সেখান থেকে তাঁরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। তখন পুলিশ কিছুটা দূরে সরে গিয়ে অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ কর্মীরা লাঠিসোঁঠা হাতে মূল গেট খুলে একযোগে ভেতরে ঢুকে পড়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের ধাওয়া দেয়। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী রেহানা পারভীন, সিমকি ঈমাম এবং আরো কয়েকজন আইনজীবী রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হন। শাহাবুদ্দিন নামে সরকারদলীয় এক কর্মীও আহত হন। এরপর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা পিছু হটে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে যান। এ সময় সেখানে দাঁড় করিয়ে রাখা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে ভেতরে আশ্রয় নেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এর কিছুক্ষণের মধ্যে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। সরকার সমর্থকরা হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ঢুকে আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নেয়। আর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা ভবনের বিভিন্ন তলায় অবস্থান নেন। এরই মধ্যে বিএনপিপন্থী এবং সরকার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনই সুপ্রিম কোর্ট ভবনের ভেতরে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। সরকারদলীয় কর্মীরা নিচে আর বার অ্যাসোসিয়েশনের তিন তলার ছাদ থেকে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও কর্মীরা সরকারদলীয় কর্মীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার-টেবিল ভেঙে ছুড়ে মারে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বার অ্যাসোসিয়েশনের ছাদের ওপর থেকে যারা ইট-পাথর ছুড়ছে, তাদের অনেকেই আইনজীবী নয়। বেশির ভাগ বয়সে তরুণ। তারা সরকারবিরোধী স্লোগানের পাশাপাশি বার অ্যাসোসিয়েশনের ছাদে চেয়ার-টেবিলের ভাঙা অংশ ও কাগজে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে ব্যাপক হট্টগোল। একপর্যায়ে সরকারদলীয় নেতা-কর্মীরা সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিভিয়ে ফেলেন। বিকেল ৪টার দিকে রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হাসানের নেতৃত্বে আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে পুলিশের একটি দল। পুলিশ বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
প্রেসক্লাবের ভেতর-বাইরে বিক্ষোভ : গতকাল সকাল থেকেই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশ ব্যারিকেড দেয়। সকাল ৯টার দিকে প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থী সাংবাদিকরা সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তাঁদের বিক্ষোভ-সমাবেশ থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার একপর্যায়ে আওয়ামী লীগের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের  নেতা-কর্মীরা বাইরে থেকে ইটপাটকেল ছুড়লে সমাবেশটি পণ্ড হয়ে যায়। পরে আওয়ামী লীগপন্থী সাংবাদিকদের আরেকটি সমাবেশ চলাকালে সেখানেও হামলা হয়। এতে একজন সাংবাদিকের মাথা ফেটে যায়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের ছোড়া ইটের আঘাতে ওই সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের নেতা-কর্মীরা সকাল থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল ‘বন্ধ গণমাধ্যমের খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ।’ দুপুর ১২টার দিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় সমাবেশ থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়। এই পরিস্থিতিতে মিছিল থেকে সমাবেশে ইটপাটকেল ছুড়লে সাংবাদিক নেতারাও পাল্টা ইটপাটকেল ছোড়েন। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে এই অবস্থা চলতে থাকে। একপর্যায়ে বিএনপি-জামায়াতপন্থী সাংবাদিক নেতারা প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, প্রেসক্লাব কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে ব্যবহার কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সাংবাদিক ও প্রেসক্লাবের সদস্যদের জন্য এটি একটি অরাজনৈতিক ও নিরপেক্ষ জায়গা। এ চত্বরকে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহার করা অনৈতিক। এর মাধ্যমে জাতির কাছে নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়। যাঁরা দলীয় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রেসক্লাবকে ব্যবহার করছেন, তাঁরা এর বিরোধী পক্ষকে প্রতিবাদ জানানোর সুযোগ করে দিচ্ছেন। এরপর পৌনে ১টার দিকে প্রেসক্লাবের ভেতরে ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি শাবান মাহমুদসহ আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকরা একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। ঠিক তাঁদের পাশেই সরকারবিরোধী স্লোগানে মুখর ছিল বিএনপিপন্থী সাংবাদিকদের আরেক অংশ। এ সময় ইকবাল সোবহান চৌধুরীর পাশে দাঁড়ানো মফিজুল ইসলামের মাথায় এসে একটি ইটের টুকরো পড়লে তাঁর মাথা ফেটে যায়।
এদিকে বিএনপি-জামায়াতের সাংবাদিকদের সঙ্গে যারা বিক্ষোভ করে তাদের বেশির ভাগ বহিরাগত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, এখানে যাঁরা এসেছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই আমাদের সঙ্গে সংহতি জানাতে এসেছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন।
শিক্ষকদের প্রতিবাদ : বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, ‘গণতন্ত্রের অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করতে যাওয়ার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের শিক্ষকদের বাধা দিয়েছে যুবলীগ ও আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের কর্মীরা।
গতকাল দুপুর ২টা ২০ মিনিটে প্রেসক্লাবের কাছে কদম ফোয়ারার সামনে তারা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়। এতে চার নারী শিক্ষকসহ আহত হয়েছেন সাতজন শিক্ষক। শিক্ষকদের ওপর এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আজ সকাল ১১টায় অপরাজেয় বাংলায় প্রতিবাদ সমাবেশ করবেন শিক্ষকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিএনপির কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে পতাকা হাতে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে শিক্ষকদের একটি দল নয়াপল্টন অভিমুখে রওনা দেয়। কদম ফোয়ারার সামনে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। সেখানে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষকদের কথাকাটাকাটি হয়। পুলিশের বাধার মুখে সেখানেই রাস্তার মাঝখানে শিক্ষকরা বসে পড়েন। এ সময় যুবলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান দুর্জয়, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ নাজমুলের নেতৃত্বে কর্মীরা লাঠি নিয়ে শিক্ষকদের দিকে এগিয়ে আসার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা তাঁদের প্রতিহত করেন। একপর্যায়ে কিছু আওয়ামী লীগের কর্মী এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে।
সেখানে উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে ছিলেন অধ্যাপক আবদুর রশীদ, অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, অধ্যাপক লায়লা নূর ইসলাম, শিক্ষক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, সিদ্দিকুর রহমান, তাহমিনা আক্তার, গোলাম রব্বানী ও সাবরিনা শাহনাজ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যহারের বিষয়ে নিন্দা জানাচ্ছি। জড়িতদের অতিদ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। এর প্রতিবাদে আগামী ১ জানুয়ারি মানববন্ধন করা হবে।’
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গণতন্ত্র অভিযাত্রার প্রতিবাদে সারা দিন ক্যাম্পাসে জড়ো হয়েছিল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া হলের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলো ছিল তাদের দখলে।
রাজধানীর পথে পথে তল্লাশি, হয়রানিতে মানুষ : সমাবেশ উপলক্ষে গতকাল বিভিন্ন সড়ক,  মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সতর্ক অবস্থান নিয়ে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় নিরাপত্তাব্যবস্থার কড়াকড়িতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। গতকাল মতিঝিল, পল্টন, নয়াপল্টন, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড়, শাহবাগ, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়। এ ছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির  কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও এর আশপাশের এলাকা ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর বাইরে ঢাকার সব প্রবেশমুখে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি। এসব জায়গায় রাজধানীমুখী মানুষ ও যানবাহনে ব্যাপকভাবে তল্লাশি চালানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেখানে অবস্থান নেয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের  নেতা-কর্মীরা।
ককটেলের বিস্ফোরণে আহত : গতকাল পৃথক ঘটনায় ককটেল বিস্ফোরণে ছাত্রসহ চারজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় দুপুর ১টার দিকে দুই স্কুলছাত্র ও একটি কারখানার কর্মচারী দুলাল (২৫) আহত হন। এ ছাড়া নবাবপুর রোডে সুমন (২৫) নামে এক যুবক ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন।

Facebook Comments