কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করছে জাতির জন্য আরেকটি কালো দিন

0
4
Print Friendly, PDF & Email

শ্রীপুর নিউজ: ১৬ কোটি জনগণকে আরেকটি তামাশার নির্বাচন দেখার জন্য মাত্র কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করতে হবে। ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রায় ৮ কোটি মানুষ। সে তালিকায় বর্তমান মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদও রয়েছেন। যে মুহুর্তে জনগণ স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে ভোট উৎসবে মেতে থাকার কথা ছিলো, ঠিক সেই মুহুর্তে গত ৮ দিন যাবৎ অবরুদ্ধ রয়েছেন দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। অবরুদ্ধ রয়েছেন মহাজোটের মহা খল নায়ক হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি অবরুদ্ধ থেকে গলফ খেলেও নিজে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষনা দিয়েও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হচ্ছেন। হয়তো বা তামাশার নির্বাচনে বিরোধী দলের নেতাও নির্বাচিত হতে পারেন। বাংলাদেশের ৪২ বছরের ইতিহাসে একতরফা নির্বাচন এর আগেও ১৯৮৮ এবং ১৯৯৬ সালেও হয়েছে। কিন্তু সেই নির্বাচনে একটি দল অংশগ্রহন না করলেও একাধিক প্রার্থীর অংশ গ্রহণে সেসব নির্বাচনে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার পেয়েছিলো। ১০ নির্বাচনের পূর্বেই ১৫৪ জন সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিমধ্যে নির্বাচিত হয়ে ২০১৪ সালের সেরা চমক উপহার দিয়েছেন দেশ ও বিশ্ববাসীকে। একতরফা নির্বাচন হলেও প্রভাব খাটাচ্ছেন মন্ত্রী ও এমপি রা। আচরণ বিধি লঙ্ঘনের মাথা ব্যাথা না থাকলেও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে শত প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার পরেও তিনি তার নিজের গতিতেই চলছেন। বহাল তবিয়াতে প্রশাসনের ডিসি এসপিরা রয়েছেন। ইতিমধ্যে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছেন দেশবাসীর প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দেশবাসীকে নির্বাচন থেকে দূরে সরে আসার আহব্বান জানিয়েছেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এই নির্বাচন থেকে দূরে সরার আহব্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন বিদেশী কূটনৈতিকরাও বার বার চেষ্টা করেছেন সকল দলের অংশ গ্রহণে একটি সুষ্ঠ নিরপেক্ষ নির্বাচন। সেখানে তারাও ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ তোমরা যে যা-ই বল ভাই, আমার প্রধান মন্ত্রী হওয়া চাই। এই দৃঢ়তা নিয়েই লাশ ও রক্তের উপর দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫ই জানুয়ারী বিরোধী দল বিহীন তামাশার নির্বাচন। বিভন্ন জেলায় নির্বাচনী ভোট কেন্দ্রে দুর্বৃত্তরা আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। যৌথবাহিনীর অভিযানে ৭ জেলায় আটক হয়েছে ৭২ জন। তবুও হাল ছাড়েনি বিএনপি এবং ১৮ দলীয় জোট। শেষ মুহুর্তে এসে চেষ্টা করছেন ভোটারদের উপস্থিতি কমাতে ভোট কেন্দ্রে এবং জামায়াত-শিবিরও নানা রকম তৎপরতা চালাচ্ছেন ভোটারদের উপস্থিতি কমানোর জন্য। সব কিছু মিলে একটি শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশের মধ্যে চলছে বাংলাদেশ।

Facebook Comments
শেয়ার করুন