ঢাকায় ভোটার উপস্থিতি খুব কম, ককটেল বিস্ফোরণ ও গুলি।

0
7
Print Friendly, PDF & Email

সারা দেশের মতো ঢাকার আসনগুলোতে আজ রোববার সকাল আটটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বেলা ১১টা পর্যন্ত বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিল খুব কম। কিছু কেন্দ্র তো একেবারেই ফাঁকা।

ঢাকা-৭ আসনের এস কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশের সামনেই সাতটি ককটেল ফাটানো হয়।

ঢাকা-১৮ আসনে সকালে আব্দুল্লাপুরে মালেকাবানু উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে ২০-২৫টি ককটেল বিস্ফোরণের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের শতাধিক গুলি ছোড়ে।

ঢাকা-৪ আসনে সকালের দিকে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি কম ছিল। বেলা ১১টার পর ভোটার সংখ্যা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষদের ভোট দিতে দেখা গেছে। এই আসনে সবচেয়ে বেশি ভোটার শ্যামপুর মডেল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে। ভোটার সংখ্যা ১০ হাজার। সেখানে চার কেন্দ্রে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪০০ ভোট পড়েছে।

ঢাকা-৫ আসনে (ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কদমতলী) দনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দুটি কেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত ৬৩টি ভোট পড়েছে। এই দুটি কেন্দ্রে মোট ভোটার চার হাজার ৪৯৮ জন। এই আসনে মোট ভোটার চার লাখ ১০ হাজার ৩৬২। মোট ভোটকেন্দ্র ১৪৫টি। দুজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবদুস সোবহান ও লিটন কুমার সরকার জানান, শীতের সকাল হওয়ায় উপস্থিতি কম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়বে। এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাবিবুর রহমান মোল্লার পক্ষে নয়জন পোলিং এজেন্ট রয়েছেন। অন্য প্রার্থীদের কোনো এজেন্ট নেই।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্যামপুরের সরাই এলাকায় অনির্বাণ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের সামনে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ হয়েছে। এতে একজন আনসার সদস্যসহ দুজন আহত হন। অন্যজন ভোটার বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাত্ক্ষণিকভাবে তাঁদের কারও নাম জানা যায়নি। আহত আনসার সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সন্দেহভাজন একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে  স্থানীয় লোকজন।

অনির্বাণ প্রি-ক্যাডেট স্কুল কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৮৫৯ জন।

ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে ঢাকা-৬ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে। তবে ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। কবি নজরুল সরকারি কলেজে প্রথম ভোটটি পড়ে আটটা ৫৫ মিনিটে। নয়টা ১০ মিনিট পর্যন্ত এই কেন্দ্রে চারজন ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রিসাইডিং অফিসার এস এম শাহনেওয়াজ। একই আসনের বাহাদুর শাহ পার্ক এলাকায় ঢাকা গভর্নমেন্ট মুসলিম হাইস্কুলে দুটি কেন্দ্র মিলিয়ে মোট নারী ভোটার দুই হাজার ৩৪৮ ও পুরুষ ভোটার দুই হাজার ৫৫১ জন। এই কেন্দ্রেও ভোটার উপস্থিতি কম। নাশকতা ঠেকানোর জন্য সূত্রাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে।

নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটার উপস্থিতি না থাকলেও কম বয়সি (১৮ বছরের নিচে) বেশ কয়েকজন কিশোরকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তারা ভোটকেন্দ্রের ভেতরেও যাচ্ছে না, আবার সেখান থেকে চলেও যাচ্ছে না। লাইনে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে।

জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশ করার শর্তে একজন জানায়, ‘আমাদের ভাইয়া এখানে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছে।’ বলেই সে ছুটে পালিয়ে যায়।

নবাবপুর সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট তিনটি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্র-১-এর মোট ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৫২ জন। সকাল সাড়ে ১০ পর্যন্ত এ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মোট ২৯টি। কেন্দ্র-২-এর মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ৪৬৫ জন। ভোট পড়েছে মোট ২৯টি। কেন্দ্র-৩-এর ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৬৫৯টি ভোট। এখন পর্যন্ত মোট ভোট পড়েছে ৫৭টি।

কেন্দ্রের কর্তব্যরত প্রিসাইডিং অফিসার গোলাম মর্তুজা প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত থেকে এখানে দায়িত্ব পালন করছি। এখনো কোনো সমস্যা হয়নি। লাইনে ভোটার নয় এমন অল্প বয়েসি কিশোরেরা কেন দাঁড়িয়ে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হয়তো ক্যামেরায় যাতে তাদের ছবি দেখানো যায়, তাই তারা লাইনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এদের কাউকে ভোট দিতে দেওয়া হবে না।

ঢাকা-৭ আসনে আজিমপুর গার্লস স্কুল কেন্দ্রে সকাল আটটা ৪০ মিনিটে কয়েকজন ভোটার দেখা গেছে। একই আসনে এস কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাতটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

পুরান ঢাকার কবি নজরুল ইসলাম কলেজ কেন্দ্রের ছবি। ছবি: মনিরুল আলম।ঢাকা-১৫ আসনে (মিরপুর-কাফরুল) কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, কিছুসংখ্যক ভোটার ভোট দিতে এসেছেন। কাফরুলের হাজী আশরাফ আলী হাইস্কুলে মোট সাতটি কেন্দ্র। সকাল আটটা ৪০ মিনিটে ৭৩ নম্বর কেন্দ্রে গিয়ে একজন ভোটারও দেখা যায়নি। একই স্কুলের ৭৪ নম্বর কেন্দ্রে পৌনে নয়টায় একজন ভোটারও দেখা যায়নি। তবে নয়টার দিকে ৬৯ নম্বর কেন্দ্রে কয়েকজন ভোটার এসেছেন বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার। সকাল সোয়া আটটায় মধ্য পীরেরবাগের ফুলকি নার্সারি স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, পুরো চত্বর ফাঁকা। সেখানে মাত্র একটি ভোট পড়েছে।

বেলা ১০টা ৫০ মিনিটে মিরপুরের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের একটি কেন্দ্রে (৪৭ নম্বর কেন্দ্র) গিয়ে দেখা যায়, ভোটার উপস্থিতি একেবারেই হাতেগোনা। কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, তাঁর কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ১৯। ওই কেন্দ্রের পাঁচটি বুথে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর বুথে মাত্র একটি ভোট পড়েছে। বাকি চারটিতেও দু-একটি করে ভোট পড়েছে।

এর আগে সকাল ১০টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানেও প্রায় একই চিত্র। ওই বিদ্যালয়ে ৮৮ নম্বর কেন্দ্রে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে মোট ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ৫৮৯ জন। তবে তখন পর্যন্ত সেখানে মাত্র ২৫টি ভোট পড়েছে। একই চিত্র কাফরুলের মনিপুর উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের শাখা-৩-এ।

ঢাকা-১৬ আসনে মিরপুর সেনানিবাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা দুই হাজার ২৪৪। শুরু থেকে পৌনে দুই ঘণ্টায় সেখানে ৪৮টি ভোট পড়েছে।

ঢাকা-১৭ আসনের বনানী মডেল স্কুল কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ওই কেন্দ্রের মাঠে শিশুসহ অনেক নারীরা বসে আছেন। তবে তাঁরা কেউই ভোটার না। তাঁরা সবাই বনানীর কড়াইল বস্তির বাসিন্দা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের লোকজন তাঁদের ভোট দিতে নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে।

ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এঁদের ভোটার হিসেবে নেওয়ার জন্য আমাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। তবে তাঁদের ভোটার আইডি কার্ডের সঙ্গে ভোটের তালিকা মিলছে না।’

৪৯ নম্বর কেন্দ্রে তিন নম্বর কক্ষে কর্তব্যরত পোলিং অফিসাররা জানান, বেলা ১১টা পর্যন্ত একটি বুথে মাত্র একটি ভোট পড়েছে। সব বুথেই ২-৩টি করে ভোট পড়েছে।

মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার দুই হাজার ৭০২।  বেলা পৌনে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে মোট নয়টি। পাঁচটি বুথের মধ্যে দু-তিনটি বুথে কোনো ভোটই পড়েনি। প্রিসাইডিং অফিসার জানান, যাঁরা আসছেন, তাঁদের সঙ্গে ভোটের তালিকা মিলছে না।

ঢাকা-১৮ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাহারা খাতুন ও বিএনএফের প্রার্থী আতিকুর রহমান নাজিম। সিভিল এভিয়েশন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটার প্রায় আট হাজার। দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬৭৮টি ভোট পড়েছে। কাউলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটার সাড়ে সাত হাজার। এ সময় পর্যন্ত ভোট দিয়েছেন মাত্র ২৩ জন। কেন্দ্রগুলোতে বিএনএফের কোনো এজেন্ট ছিল না।

সকালে আবদুল্লাপুরে মালেকাবানু উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের পাশে ২০-২৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় নির্বাচনবিরোধীরা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ শটগানের শতাধিক গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, যৌথ বাহিনী ও র্যাবের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে আবদুল্লাপুরে টঙ্গী ব্রিজের গোড়ায় চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বাসে চড়ে পালিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত। পুলিশ এ সময় ২০-৩০টির বেশি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এদিকে উত্তরার নওয়াব হাবিবুল্লাহ কলেজ কেন্দ্রে মোট ১৮টি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ১৩৪ ভোট পড়ে। এখানে মোট ভোটার সাড়ে আট হাজার।

Facebook Comments