‘ভোটারের সংখ্য। চেয়ে সাংবাদিকদের সংখ্যা বেশি’

0
4
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধ ও ভোট বর্জনের ঘোষণা এবং প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে খুলনার তিনটি আসনে ভোট গ্রহণ চলছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক থাকায় কেন্দ্রগুলোতে উপস্থিতি ছিল কম।
সকাল আটটায় ভোট গ্রহণ শুরু হলেও সোয়া আটটার দিকে নগরের প্রাণকেন্দ্র বি কে ইউনিয়ন ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে গিয়ে কোনো ভোটারের উপস্থিতি দেখা যায়নি। কেন্দ্রের সামনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি।
নগরের সরকারি সিটি কলেজে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা চারটি। এ চারটি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৩৫টি। সকাল আটটা ৩৫ মিনিটে চারজন নারী ভোটার প্রথম এই কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। নয়টা চার মিনিটে সিটি কলেজের নিচতলার একটি কেন্দ্রে অসিত কুমার সরকার নামের একজন পুরুষ ভোটার প্রথম ভোট দেন। সকাল নয়টা ১২ মিনিটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিজানুর রহমান এই কেন্দ্রে ভোট দিতে যান। এর পাঁচ মিনিট আগে যুবলীগ-ছাত্রলীগের ২৫-৩০ জন কর্মী সিটি কলেজে গিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ালে ফটোসাংবাদিকসহ ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত সাংবাদিকেরা তাঁদের ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় একজন ভোটার হাসতে হাসতে বলেন, ‘ভাই, ভোটকেন্দ্রে ভোটারের চেয়ে সাংবাদিকের সংখ্যাই বেশি।’
ভোট দিতে গিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত রাতে শহরে বিরোধী দলের কর্মীরা ব্যাপক বোমাবাজি করেও ভোটারদের কেন্দ্রে আসা ঠেকাতে পারেনি। সকালে শীতের কারণে ভোটার উপস্থিতি কম হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতি বেড়ে যাবে।’ তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে নগরীর রূপসা চরবসতি এলাকায় গিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে হুমকি দিয়েছেন। এতে সাধারণ ভোটারেরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। হুমকি সত্ত্বেও অনেক ভোটারই ভোট দিতে কেন্দ্রে যাচ্ছেন।
খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী থানা) আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী লীগের পদত্যাগী নেতা খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র মনিরুজ্জামান খান। এ আসনটি শ্রমিক-অধ্যুষিত। খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে মোট দুটি কেন্দ্র। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা দুই হাজার। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার শরিফুজ্জামান জানান, সকাল আটটা থেকে ১০টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৫৫টি।
নিউজপ্রিন্ট মিলে র্যাব-৬-এর কার্যালয় থাকায় ভোটারের চেয়ে র্যাবের কড়াকড়িই বেশি চোখে পড়েছে। মীরেরডাঙ্গা আইআরআই ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা এক হাজার ৫০৯। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত এই ভোটকেন্দ্রে ১৮৮টি ভোট পড়েছে বলে জানান প্রিসাইডিং কর্মকর্তা কামরুজ্জামান ।
ব্যতিক্রম ছিল খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাট) আসনের ভোটকেন্দ্রগুলো। এ আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দুপুর ১২টায় বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা-চক্রাখালি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিসাইডিং অফিসার জানান, এই কেন্দ্রের ভোটার সংখ্যা তিন হাজার ৭০০। এর মধ্যে এক হাজার ৩০০ জন ভোটার ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটারের ৩৫ শতাংশ।

Facebook Comments