সেজদা

0
23
Print Friendly, PDF & Email

১। সেজদায়ে “এবাদত” :- ইহা শুধু মাত্র আল্লাহ পাকের জন্য নির্ধারিত, আল্লাহ পাকের ইবাদতের জন্য আদায় করা হয়। ইহার মধ্যে বেশ কিছু শর্ত রয়েছে, যাহা যথাযথ ভাবে পালন না করিলে বা শর্ত লঙ্ঘন হইলে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী তা পালন হয় না। যেমন-জায়গা পাক, জামা পাক, শরীর পাক, অযু করা, নিয়ত করা, কেবলা মুখি হওয়া এবং সেজদারত অবস্থায় তসবিহ পাঠ করা এবং দুইবার ললাট মাটিতে ঠেকানো। এই সমস্ত শর্ত পালন করা ফরজ।

২। সেজদায়ে “তাযিম” :- ইহা সম্মাণ সূচক সেজদা, যার হৃদয়ে আল্লাহ পাকের আরশ স্থাপিত তাঁদের জন্য আদায় বা পালন করা হয়। যেমন-কামেল পীর অর্থাৎ ওলী আল্লাহ। হাদিস শরীফে বর্ণিত “কুলুবুল মোমেনীনা আরশুল্লাহ্‌” অর্থ: মোমিনের হৃদয় আল্লাহর আরশ আরেফ সুফি, সাধক অর্থাৎ পীর হলেন আসল মোমিন, সেজন্য আল্লাহ্‌পাক নিজেই আসন পেতে আছেন। হাদিস শরীফে বর্ণিত “ইননাল লাহা খালকা আদামা আলা সুরাতেহী” অর্থ: নিশ্চই আল্লাহপাক আদমকে নিজের সুরতে সৃষ্টি করেছেন। এই শ্রদ্ধার সেজদার মধ্যে কোন শর্ত নেই তসবিহ পাঠ করা হয় না।

৩। সেজদায়ে “তেলাওয়াত” :- কোরআন মাজিদে সেজদার আয়াত পাঠ করার পর তা আদায় করা হয়।

৪। সেজদায়ে “সাহু” :- নামাজের মধ্যে ভূল-ভ্রান্তি হলে তা শুদ্ধ করার জন্য আদায় করা হয়।

৫। সেজদায়ে “শোকরানা” :- আল্লাহর আবদানের উপর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার জন্য আদায় করা হয়।

“ইয কালা ইউসুফু লে আবিহে ইয়া আবাতে ইন্নি রা আই তো আহাদা আশারা কাউ কাবান ওয়াশ শামসা ওয়াল আমারা রা আইতু হুম লী সাজেদীন” ——– (সুরা, ইউসুফ, আয়ত : ৪) অর্থ: যখন ইউসুফ (আঃ) নিজের পিতাকে বললেন যে আব্বাজান আমি এগারটি তারকা ও সূর্য ও চন্দ্রকে দেখলাম যে, তারা সকলেই আমাকে সেজদা করছে।

“ওয়া রাফায়া আবা ওয়াই হে আলাল আরশে ওয়া খাররু লাহু সুজ্জাদান ওয়া কালা ইয়া আবাতি হাযা তাবিলু রুয়ায়া মিন কাবলু কাদ জায়ালাহা রাব্বী হাক্কান” ———– (সুরা ইউসুফ, আয়াত : ১০০) অর্থ: হযরত ইউসুফ (আঃ) নিজের পিতা-মাতাকে সিংহাসনে বসাইলেন এবং সকলেই ইউসুফের (আঃ) শ্রদ্ধার জন্য তাঁর সামনে সেজদায় পড়ে গেলেন।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ফরমাইছেন “লা তুয়াজ্জেমুনী ফী বাইতে রাব্বী” অর্থ: তোমরা আল্লাহর ঘরে (মসজিদে) আমার তাযিম করা না। এখানে “লা তুয়াজ্জেমুনী” উল্লেখ্য করা হয়েছে যার অর্থ আমাকে তাযিম করনা। কিন্তু হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) তো এই বাক্য বলেন নাই যে, “লা তাসজুদুনী ফী বাইতে রাব্বী” অর্থ: তোমরা আল্লাহর ঘরে আমাকে সেজদা কর না। যদি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কথায় “লা তাসজুদুনী” উল্লেখ্য থাকত তাহলে সেজদার প্রসঙ্গ আসত। কিন্তু এই হাদিসে তাযিমের (শ্রদ্ধার) কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে, সেজদার কথা নয়।

Facebook Comments
শেয়ার করুন