দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুই নেত্রীর জন্যই জনগণ ‘রেড এলার্ট’ বার্তা

0
7
Print Friendly, PDF & Email

শ্রীপুর নিউজ: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন দুই নেত্রীর জন্যই জনগণ ‘রেড এলার্ট’ বার্তা দিয়েছে। প্রধান বিরোধী দল ছাড়া একতরফা এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ যেমন সাড়া পায়নি, ঠিক তেমনি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণকে নির্বাচন প্রতিহত করার আহ্বান জানালেও জনগণ নিশ্চুপ থেকেছে। তারা ভোট দিতেও যায়নি, বাধাও দেয়নি।কথায় কথায় ‘জনগণ সঙ্গে আছে’ বলে দম্ভোক্তি প্রকাশ করলেও জনগণ যে দুই নেত্রীর সঙ্গে নেই তাও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এ নির্বাচনের মাধ্যমে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৪টি ভোটকেন্দ্রে কোনো ভোটার ভোট দিতে আসেননি। ওইসব কেন্দ্রে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থক কি নেই? অবশ্যই আছে। কিন্তু তারাও ভোট কেন্দ্রে যায়নি। তার মানে সেখানে হাসিনার আহ্বান ব্যর্থ। আবার জনগণের বাধার কারণে যে ভোটাররা ভোট দিতে আসেননি তাও নয়। অন্যদিকে অনেক কেন্দ্রে দেখা গেছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটার ভোট দিয়েছেন। তাদের উপস্থিতি ছিল স্বত:স্পুর্ত। সেখানে জনগণ কিন্তু নির্বাচন প্রতিহত করতে চেষ্টা চালায়নি। বরং তারা ভোট দিতে না এসে নিজের ঘর-সংসারে নীরব সময় কাটিয়েছে। তার মানে সেখানে খালেদার আহ্বানও ব্যর্থ।

এছাড়া নাশকতার ঘটনায় ১৮ জেলায় ৪শ ভোটকেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু এসব নাশকতার ঘটনায় কোনোভাবেই সাধারণ মানুষ জড়িত নয়। প্রতিটি কেন্দ্রেই গুটিকয়েক দুর্বৃত্ত এসব নাশকতা চালিয়েছে। এক্ষেত্রেও খালেদা হাসিনা ব্যর্থ। কারণ হাসিনার যে কোনো মূল্যে নির্বাচন সফল করার ঘোষণা সেখানে ব্যর্থ। আবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে খালেদার নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণাও ব্যর্থ। কারণ সেখানে জনসম্পৃক্ততা ছিল না।

এমন অবস্থায় বলাই যায়, এ নির্বাচনে জনগণ তাদের ‘পাওয়ার’ দেখিয়েছে। যার ফলে দুই দলই ভেতরে ভেতরে জ্বলছে। নির্বাচনে বেশি ভোট না পড়ায় আওয়ামী লীগ জ্বলছে, অন্যদিকে নির্বাচন প্রতিহত না করতে পেরে বিএনপি বেশি জ্বলছে।

আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছিল, নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হবে। কিন্তু নির্বাচনের দিন ভোটারদের অনুপস্থি তা পুরোপুরি প্রমাণ করতে পারেনি। কারণ নির্বাচনের সুষ্টূ পরিবেশ ছিল না বলেই সারাদেশের জনগণের মাঝে ভোটের আমেজ দেখা যায়নি। হয়তো ভোটের প্রতিযোগিতা ছিলনা বলেই ভোট অবাধ হয়েছে। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।

অন্যদিকে বরাবরের মতো বিএনপি বলেছে, জনগণ প্রহসনের নির্বাচন বর্জন করেছে। কিন্তু ভোট কেন্দ্রে কিংবা ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে নির্বাচন প্রতিহত করতে বিএনপির নেতাকর্মীদের দেখা যায়নি। তাদেরকে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের উপরই নির্ভর করতে হয়েছে। তাদের দলের নেতাকর্মীরাও যেন নির্বাচনটি কোনভাবে অনুষ্ঠানের পক্ষেই ছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দলের দাবিই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। অর্থাৎ জনগণের কাছে এ নির্বাচন সফলও নয়, প্রহসনও নয়। এটা দুই দলের দুই নেত্রীর জেদের একটা ‘ফসল’। আর জনগণের টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়।

এ পরিস্থিতিতে কেউ কেউ বলছেন, এ নির্বাচনের মাধ্যমে দুই নেত্রীই জনগণের কাছে পরাজিত হয়েছেন। দুই নেত্রীর কাছেই জনগণ তাদের ‘রেড এলার্ট’ বার্তা দিয়ে দিয়েছেন। এখন তারা তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে জনগণের আশা-আকাংখার বিভিত্তে সামনের করণীয় নির্ধারণ করবেন।

Facebook Comments
শেয়ার করুন