কূটনীতিকদের উদ্বেগ ও হতাশা আরো বেড়েছে

0
8
Print Friendly, PDF & Email
শেষ পর্যন্ত প্রধান বিরোধী দল ছাড়াই নির্বাচন হয়ে যাওয়ায় বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বেগ ও হতাশা দুটিই বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গতকাল রবিবার দিনভর তাঁরা নির্বাচন ও ভোট পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের তুলনায় ভোটারদের কম উপস্থিতি এবং সংঘাত দেখে তাঁরা বেশ মর্মাহত। এ বিষয়ে কূটনীতিকরা নিজ নিজ দেশে প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন। শিগগির যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন ও পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থান জানাবে।
বাংলাদেশি কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের ওপর বহির্বিশ্বের চাপ আরো বাড়তে পারে। বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপরও এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের মূলে রয়েছে মানবাধিকার। ভোটাধিকার অন্যতম মানবাধিকার। প্রধান বিরোধী দলের বর্জনের প্রভাব পড়েছে ভোটারদের পছন্দের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায়। অর্ধেকেরও বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটাররা অধিকার বঞ্চিত হয়েছেন।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো আরো জানায়, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা না থাকলে বিদেশিদের নাক গলানোর সুযোগ বাড়ে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিদেশিদের তৎপরতা কেমন হবে তা নির্ভর করছে দেশের পরিস্থিতি কেমন থাকবে তার ওপর। সংঘাত, অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে বন্ধু রাষ্ট্রগুলো বাংলাদেশের বিষয়ে কথা বলবে। কারণ এ দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে উপ-আঞ্চলিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয় যেমন জড়িত, তেমনই সম্পৃক্ত এ দেশে তাদের বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ।
ঢাকায় একটি পশ্চিমা দূতাবাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশে ভোটের দিন সবাই উৎসবমুখর থাকে বলেই তাঁরা শুনেছেন। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে তাঁরা দেখেছেন যেমন আতঙ্ক তেমনি অনাগ্রহ। দূতরা বুঝতে পেরেছেন, অর্ধেকেরও বেশি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ভোটাররা অনেক আগেই এ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নির্বাচনে অংশ না নিয়ে ভোট বর্জন করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানানোয় এবং হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণায় জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয়। এসব বিষয় আগেই আঁচ করে ইইউ, যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রভাবশালী দেশগুলো নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। এরপরও পর্যবেক্ষক এসেছেন ভারত ও ভুটান থেকে। এসেছেন বিদেশি সাংবাদিকরাও।
অন্য একটি সূত্র জানায়, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হওয়ায় এর ফলে দেশে কতটা শান্তি ও স্থিতিশীলতা আসবে তা নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের মধ্যে গভীর শঙ্কা রয়েছে। বিরোধী দলের বর্জনের পরও যখন নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল, তখন এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকেই গুরুত্ব দিচ্ছিলেন তাঁরা। গতকাল ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে এখন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে বহির্বিশ্বের অবস্থান নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, তারা সংঘাত-সহিংসতার বিরুদ্ধে। কারণ সংঘাত-সহিংসতা গণতন্ত্রকে ব্যাহত করে। তারা সব দলের রাজনৈতিক অধিকার চর্চার সুযোগ দেখতে চায়। তারা মনে করে, সরকারের দায়িত্ব হলো সবাইকে অধিকার চর্চার সুযোগ দেওয়া। অন্যদিকে বিরোধী দলসহ সব রাজনৈতিক দলের উচিত সেই সুযোগ শান্তিপূর্ণভাবে কাজে লাগানো। এ ক্ষেত্রে কে কী ভূমিকা রাখে তার দিকেই দৃষ্টি রাখছে সারা বিশ্ব।
Facebook Comments