তারা গাছেরও খাবেন, তলারও কুড়াবেন —– সুরঞ্জিত

0
9
Print Friendly, PDF & Email

শ্রীপুর নিউজ:দশম সংসদে একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করায় জাতীয় পার্টির নেতাদের সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।

শুক্রবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “মাত্র দশম সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হলো। এর মধ্যেই মন্ত্রিত্বের তদ্বির শুরু হয়ে গেছে। আমি শুনেছি বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা বলেছেন- তারা সরকারেও থাকবেন, বিরোধীদলেও থাকবেন।

“অর্থাৎ তারা গাছেরটাও খাবেন, তলারটাও কুড়াবেন।”

বিএনপিবিহীন ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৩৩টি আসন পেয়ে দশম সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসাবে আবিভূর্ত হয়েছে জাতীয় পার্টি।

গত ৭ জানুয়ারি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা ঐকমত্যের সরকার চাই। জাতীয় পার্টি সরকারের সাথেও থাকতে পারে, বিরোধী দল হিসেবেও থাকতে পারে। এক্ষেত্রে আইনগত ও সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই।”

বৃহস্পতিবার নতুন সাংসদদের শপথের পর দলের আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কিশোরগঞ্জ ৩ আসনের নির্বাচিত সাংসদ মুজিবুল হক চুন্নুও একই কথা বলেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, পার্টির অধিকাংশ সদস্যই এ মত পোষণ করেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী দলের গুরুত্ব তুলে ধরে সুরঞ্জিত বলেন, “গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থায় ভিজিলেন্স অপরিহার্য। যে গণতন্ত্রে ভিজিলেন্স নেই, তা অটোক্রেসির রূপ নেয়। যে কোনো গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থায় বিরোধী দল সেই দায়িত্ব ‍পালন করে।”

নবম সংসদের শেষ সময়ে দীর্ঘদিন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী হয়ে থাকা এই আওয়ামী লীগ নেতার ভাষায়, “আমাদের সবারই যার যার দায়িত্ব পালন করতে হবে। ঐকমত্যের সরকারের নামে আমরা যেন কাঁঠালের আমসত্ত্ব না বানাই।”

নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের দিকে ইংগিত করে সুরঞ্জিত বলেন, “তিনি (খালেদা) বলেছেন জামায়াতের সাথে তার জোট অস্থায়ী এবং জোটসঙ্গী হিসেবে জামায়াতকে রাখা না রাখার ক্ষেত্রে যে কোনো সময় তিনি মত বদলাতে পারেন।

“যদি তিনি মত বদলাতেই পারেন, তাহলে বিলম্ব কেন? ত্যাগ করুন জামায়াতকে। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসুন।”

সম্প্রতি দিনাজপুর ও যশোরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের এই জৈষ্ঠ নেতা। অতীতে এ ধরনের ঘটনার বিচার না হওয়ায় সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি।

সুরঞ্জিত বলেন, “এর দায় থেকে আমরাও মুক্ত নই। ২০০১ সালে যখন হামলা হলো, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা গ্রহণের পরই যদি এর বিচার করতো, তাহলে এই দিন দেখতে হতো না।”

এ ধরনের হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনতে নতুন আইন প্রণয়ন এবং ট্রাইব্যুনাল গঠন করারও দাবি জানান তিনি।

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটে বঙ্গবন্ধু অ্যাকাডেমী আয়োজিত এ আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে জাসদ ঢাকা মহানগরের নেতা মীর আক্তার হোসেন, সাম্যবাদী দলের নেতা হারুন চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস এবং বঙ্গবন্ধু একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির মিজি বক্তব্য দেন।

Facebook Comments
শেয়ার করুন