১৬ দিন পর গুলশান অফিসে খালেদা জিয়া

0
10
Print Friendly, PDF & Email

অবশেষে নবম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাসভবন থেকে বের হতে পারলেন। এর আগে বেশ কয়েকবার বের হওয়ার চেষ্টা করলেও তাকে বের হতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপির দাবি বেগম জিয়াকে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছিল।

অবশেষে শনিবার রাত সাড়ে ৭টায় ১৬ দিন অতিবাহিতের পর, ১৭ তম দিন শেষে গুলশানের রাজনৈতিক অফিসে এসেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সর্বশেষ গত ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বড়দিন উপলক্ষে গুলশান কার্যালয়ে এসেছিলেন তিনি।

শনিবার রাত রাত ৭ টা ৪০ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লী জুনের বৈঠকে বসেছেন।

বিএনপির পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে মাহবুবুর রহমান, উপদেষ্টা ড. ওসমান ফারুক, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. সানাউল্লা মিয়া।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আসা উপলক্ষে আইনশ্ঙ্খৃলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। সাদা পোশাকধারী পুলিশসহ মোট ৪০ জন আইনশ্ঙ্খৃলা বাহিনীর সদস্য কার্যালয়ের চারপাশে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কার্যালয়ের সামনে ডিবির ঠ-১১.৬০৬৬ একটি গাড়ি সন্ধ্যা ৭টা থেকে মোতায়েন রাখা হয়েছে।

নির্বাচন ঠেকানোর ঘোষণা দিয়ে গত ২৪ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় ‘মার্চ ফর ডেমোক্রেসি’ ঘোষণা করেন বিএনপি নেতা খালেদা জিয়া। তারপর বিরোধীদলীয় নেতার নিরাপত্তা জোরদারকে কারণ দেখিয়ে ২৬ ডিসেম্বর ওই বাড়ির সামনে পুলিশ-র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নেয়। তখন থেকেই বাইরে বের হতে পারেননি বেগম জিয়া।

২৯ ডিসেম্বর ‘গণতন্ত্র অভিযাত্রা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চাইলে তাকে বাধা দেয়া হয়। সেদিন বাড়ির প্রধান ফটকে খালেদা জিয়া বলেন,“রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।”দলীয় নেতারাও তার সঙ্গে দেখা করতে যেতে বাধা পান।

অবরুদ্ধ অবস্থায় অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা, যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আলবার্ট কোনসে ও কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন গুলশানের বাড়িতে গিয়ে খালেদার সঙ্গে দেখা করেন।

নির্বাচনের পর গত ৮ জানুয়ারি বিরোধীদলীয় নেতার বাসার সামনে থেকে পুলিশের অতিরিক্ত পাহারা সরিয়ে নেয়া হয়। তখন পুলিশের বক্তব্য ছিল, নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিরোধীদলীয় নেতার বাড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারা বাড়ানো হয়েছিল। ঝুঁকি কমে যাওয়ায় তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন খালেদা জিয়া। সেই সাথে সমঝোতার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বানও রয়েছে তার।

Facebook Comments