বোর ধান চাষে হতাশ কৃষক

0
13
Print Friendly, PDF & Email
কৃষক থেমে নেই। প্রচন্ড শৈত প্রবাহে ভোর থেকেই ঠান্ডা জমাট বাধা পানিতে নেমে পড়েছে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার বেলাশী গ্রামের কৃষক মরহুম জালালের ছেলে আল আমীন।
 
মঙ্গলবার সকাল ৭ টায় তার নিজ বোর ধানী জমিতে কাজ করার সময় সে প্রতিবেদকের সাথে কথা গুলো বলেছে।
 
কৃষক আল আমীন জানায়, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, টানা অবরোধ হরতাল ও বীজ, সার , কীটনাশক ও শ্রমিকের বাজার চড়ায় এক বিঘা ধানী জমিতে ধান লাগানোর শুরুতেই বিঘা প্রতি ধানের বীজ ১ বস্তা ৪০০ টাকা, চাষ-মই ২০০০ টাকা, পানির পাম্প ভাড়া এক মৌসুম ১৫০০ টাকা, ডিজেল ৬০ লিটার  ৪২০০ টাকা ,  ধানের চারা জমিতে রোপন ও পুরো মৌসুম বাছাই ২০০০ টাকা, সার কীটনাশক ১৫০০, মৌসুম শেষে ধান কাটা মাড়াই সহ ধান ঘরে উঠানো ২০০০ টাকা সহ সব মিলিয়ে ১৩৬০০ টাকা খরচ হয়। দেখা যায় বিঘা প্রতি ২০ মণ ধান হলে ৭০০ টাকায় দাম আসে  ১৪০০০ টাকা।
 
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গ্রামে গ্রামে ঘুরে মরহুম দুধু মিয়ার ছেলে জজ মিয়া, আকব আলীর ছেলে গিয়াস উদ্দিন, আহম্মদের ছেলে তমিজ উদ্দিন সহ অনেকের সাথে কথা বলে জানা যায় পেটের খুরাক যুগাতেই কৃষি কাজ তবে কোন লাভ নেই।
 
তরগাঁও ইউনিয়নরে উরুন গ্রামের মরহুম আ: বারিকের ছেলে কৃষক ফোরকান বলে জমিতে ধান লাগাতে হবে তাই লাগাই, ধানে কোন লাভ নেই। শুধু ঘরের ভাত জুটে। ক্ষর পেলে গরু পালন করা যায় এমন একটি সুবিধার কথাও জানালেন তিনি। 
 
ভিন্ন আঙগীকে কথা বলেন কাপাসিয়া ইউনিয়নের পাবুর গ্রামের আঃ মজিদের ছেলে কৃষক আওলাদ হোসেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে এসেছি এবং প্রশিক্ষনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তুলনামূলক ভাবে আগের চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন করে নিজের ঘরের ভাত খাইলাম আর বড় কথা গরু পালি তারও খরের ব্যবস্থা করলাম । লোকে বলে বর্তমানে খরের দাম স্বর্নের চাইতেও বেশী।
 
একই গ্রামের আফাজ উদ্দীনের ছেলে কৃষক  শাহজাহান জানান, চলতি মৌসুমে সে তার আট বিঘা জমিতে ইরি ২৮ ধানের চারা (জালা) রোপন করে আশা করছে প্রতি বিঘাতে ১৮ থেকে ২০ মন ধান উৎপাদিত হইবে, তা থেকে নিজের এক বছরের খাবারের ধান রেখে বাকি ধান বিক্রী করে দিবে। তাছাড়া আট বিঘা ক্ষেতের খর বিক্রী করলে চাষাবাদের খরচের টাকা উঠে আসবে।
 
উপজেলা উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আহাম্মদ আলী এ বিষয়ে বলেন  কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন পাবুর ব্লকের এবারের লক্ষমাত্রা ২১০ হেক্টর জমিতে ৮০০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হবে বলে আশাবাদী।
Facebook Comments