খালেদা জিয়া আগামী দিনের যে ২০টি কর্মসূচি তুলে ধরেছেন

0
7
Print Friendly, PDF & Email

আজ বিকেলে শুলশানের হোটেল ওয়েস্টিনের বলরুমে বিএনপি চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৮ দলীয় প্রধান বেগম খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে আগামী দিনের যে ২০টি কর্মসূচির সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেছেন সেটি হুবহু কালের কণ্ঠের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এতো কিছু সত্বেও আজ আমি আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে আবারও কথা দিচ্ছি, আমরা কখনো আওয়ামী লীগের এসব অপকর্মের পুনরাবৃত্তি বা অনুসরণ করব না। আমি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করি যে, বঞ্চিত ও উৎপীড়িত দেশবাসী অচিরেই তাদের ভোটাধিকার ফিরে পাবে। দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং ভোটের মাধ্যমে তারা তাদের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবে।
সেই আস্থা থেকেই আমি আগামী দিনে আমাদের কর্মসূচির একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা আজ আবারো তুলে ধরতে চাই :

(১) বাংলাদেশের মুসলমান – হিন্দু-বৌদ্ধ- খ্রিস্টান, পাহাড়ের মানুষ সমতলের মানুষ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই মিলে আমরা গড়ে তুলব জাতীয় ঐক্য, অখণ্ড জাতীয় সত্ত্বা।

(২) নির্ভেজাল গণতন্ত্রই হবে আমাদের রাষ্ট্রপরিচালনার পদ্ধতি। সবার অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে শানিত্মপূর্ণ পন্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের একটা স্থায়ী রূপরেখা নির্ণয় করা হবে।

(৩) সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা কঠোর হাতে দমন করা হবে।

(৪) দুর্নীতি, দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতির ধারা সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে। মেধা ও যোগ্যতাই হবে মূল্যায়নের মাপকাঠি।

(৫) নির্বাচন পদ্ধতির যুগোপযোগী সংস্কার এবং সংসদে শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধিত্ব এবং মেধাবী, যোগ্য ও দক্ষ নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

(৬) বিরোধী দলকে যথাযথ গুরুত্ব ও মর্যাদা দেওয়া হবে।

(৭) ক্ষমা, ঔদার্য, মহানুভবতা ও যুক্তিশীলতা দিয়ে নির্ধারিত হবে বিরোধী দলের প্রতি আচরণ।

(৮) সমঝোতার ভিত্তিতে হানাহানি ও সংঘাতের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা হবে।

(৯) দেশের সব মতের কৃতী ও মেধাবী নাগরিকদের রাজনীতি, সরকার পরিচালনা ও জাতীয় ক্ষেত্রে অবদান রাখার সুযোগ
সৃষ্টি ও এর জন্য উপযুক্ত কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

(১০) সকল দেশের বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব আরো জোরদার করা হবে।

(১১) জাতীয় ও আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতি ও নিরাপত্তা জোরদার করার নীতি ও কৌশল গ্রহণ করা হবে।

(১২) বিচার বিভাগ ও সংবাদ-মাধ্যমের স্বাধীনতা সুনিশ্চিত করা হবে।

(১৩) জনপ্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে দলীয়করণমুক্ত করে দক্ষ ও কার্যকর করা হবে।

(১৪) সুশাসন  ও আইনের শাসন নিশ্চিত করা হবে।

(১৫) স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা হবে।

(১৬) পরিকল্পিত ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে।

(১৭) নারী শিক্ষা, নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নকে আরো প্রসারিত করা হবে।

(১৮) ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম জোরদার করা হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে। একমাত্র নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশি প্রফেসর ড. মুহম্মদ ইউনূসকে যথাযথ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা হবে।

(১৯) সবার মিলিত চেষ্টায়, তরুণদের কর্মশক্তিকে কাজে লাগিয়ে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব হ্রাস করে গড়ে তোলা হবে একটি কর্মমুখর সমাজ।

(২০) বিদ্যুৎ, জ্বালানি, খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, শিল্প-বাণিজ্য, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সুনির্দষ্টি কর্মপরিকল্পনা আগামীতে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে বিশদভাবে তুলে ধরব।

Facebook Comments