ফাঁন্দে পড়িয়া বগা—

0
16
Print Friendly, PDF & Email

বহুল আলোচিত অপেক্ষার প্রহর সহ্য করতে না পেরে অবশেষে তড়িঘড়ি করে শেষ হতে যাচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন! নির্বাচনী আমেজ সাধারণ আম-জনতা কতটুকু পেয়েছে তা হয়ত সঠিক মানদন্ডে বিচার করা যাবে না। তবে হলফ করে বলা যায় সংশ্লিষ্ট সকল মহলই এটি নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন ও হতবাক। রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ও সংবিধানের দোহাই আর যাই হোক এ নির্বাচনে মানুষের স্বত্বস্ফুর্ত অংশগ্রহণ একদিকে যেমন ছিল না, অপরদিকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক অবরোধের কারণেও মানুষের ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও ভোট দিতে পারেনি। বিষয়টা এটি নয়। মূল বিষয় হচ্ছে সাবেক সেনাপ্রধান ও সফল রাষ্ট্রপতি হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জনমত জরিপের দিক থেকে ৩য় স্থানে অবস্থানে করেও এবারের নির্বাচনে তাঁর ভূমিকা ছিল বৈরীতামূলক। এরশাদ সাহেব কি করবেন? কি সিদ্ধান্ত নিবেন? নির্বাচন করবেন, কি করবেন না এটি ছিল সকলের কাছে কুয়াশাচ্ছন্ন। নির্বাচন না যাওয়া, মনোনয়ন প্রত্যাহার ইত্যাদি বিষয়গুলো থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি ধুম্রজালের মধ্যে আটকা পড়েছিলেন। শেষের দিকে এরশাদ সাহেব চিকিৎসার কারণে হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়টিও ছিল কৌশলগত। তিনি স্ব-শরীরে এসে আবার শপথ নিলেন কিন’ তিনি সাংবাদিকদের সামনে আসলেন না। বিষয়টি মজার হলেও এমন নয়তো ফাঁন্দে পড়িয়া বগা—। পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে এরশাদ সাহেব কুট কৌশলের মাধ্যমে নির্বাচন বৈতরণী পাড় হয়েছেন।

আমাদের দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষপট দিন দিন তৈরী হচ্ছে জটিল থেকে জটিলতর। কেউ ইচ্ছে করে ছাড় দিতে নারাজ। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল আলোচনার কথা বললেও বর্তমান সরকারী দলের পক্ষ জানিয়ে দেয়া হয়েছে, জামাতের সঙ্গ পরিত্যাগ করে সমঝোতা বা আলোচনা করতে। বি. এন. পি. কি জামাতকে ছেড়ে দিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে পারবে। এদিক দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ফাঁন্দে পড়িয়া বগা।

তাই দল, মত, জাতি ধর্ম, বর্ণ বৈষম্য বিভেদ ভুলে সকলে এক কাতারে এসে নতুন বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে আসি। সুদূর প্রসারী চিন্তা চেতনা দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। আমাদের কাঁধ থেকে সিন্দাবাদের ভুতকে সরিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাই। এছাড়া আর কোন পথ খোলা আছে বলে আমার জানা নেই। আল্লাহ আমাদের সকলের মঙ্গল করুন।

Facebook Comments