আমার একটা দুঃখ রয়ে গেল – সুচিত্রা প্রসঙ্গে ববিতা

0
9
Print Friendly, PDF & Email

মহানায়িকাকে সামনাসামনি না দেখার আফসোস রয়ে গেল বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক জনপ্রিয় নায়িকা ববিতার। যিনি সুচিত্রাকেই নিজের অভিনয় আইডল হিসেবে নিয়েছিলেন। মহানায়িকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি কালেরকণ্ঠ অনলাইনের কাছে ব্যক্ত করলেন সেই খেদটুকুও।

মহানায়িকা সুচিত্রা সেন জোত্স্নার ফুল হয়ে সুভাশিত করেছেন এই রুপালী ক্যানভাসকে। তিনি খুব সুক্ষ্মভাবে নিজের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্যকে আজো একইভাবে ধরে রেখেছেন। বিশ-ত্রিশ বছর আগে সুচিত্রাকে দর্শক যেভাবে দেখেছিলেন ঠিক আজো দর্শক একই রকম সুচিত্রাকে দেখছে। ভবিষ্যতেও দেখবে। এটা কিন্তু একটা সাংঘাতিক ব্যাপার। অভিনেত্রী হিসেবে তিনি শুধুমাত্র অভিনয়কে সমৃদ্ধ করেন নি বাংলা চলচ্চিত্রের পরিধিকেও বিস্তৃত করেছেন। ছড়িয়ে দিয়েছেন বহির্বিশ্বেও। তার একেকটা ছবি মানেই একেকটা ইতিহাস। নিজের অভিনয় শৈলী দিয়ে নিজেকে এতটা উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে, আমার মনে হয় না ভারতের আর কোনো অভিনেত্রী সেখানে পৌঁছাতে পারবে।
 
আমার অভিনয়ে আসার পেছনে সুচিত্রা সেনের বড় একটা ভূমিকা রয়েছে। ছোটবেলায় যশোরে থাকতাম। মুসলিম পরিবারগুলো তো খুব একটা কনজারভেটিভ হয়, সিনেমা হলে যাওয়া যাবে না, দেখা যাবে না, এইসব তো থাকেই। তবে আমার মা খুব সংস্কৃতিমনা ছিলেন। তিনি বলতেন, তোমরা লেখাপড়া করো, কবিতা আবৃত্তি করো, নাচ গান সব করো। এমনকি বলেও ফেলেছেন সুচিত্রা সেনের মতো হতে হবে। তখন সুচিত্রা সেনের ছবিগুলো ঐখানের হলগুলোতে সপ্তাহে সপ্তাহে মুক্তি পেত। আমরা সপরিবারে সিনেমা দেখতে যেতাম। আর বাড়িতে এসে সুচন্দা আপা আয়নার সামনে দাড়িয়ে ঘাড় বাঁকা করে সুচিত্রা সেনের মতো অভিনয় করার চষ্টো করতেন। আমি আড়াল থেকে লুকিযে লুকিয়ে দেখতাম আপা কি করে। ভাবতাম আপা কেন এমন করে। আমাকেও ওটা করতে হবে। তার মানে সুচিত্রা সেন আমাদের পরিবারের ভেতরে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন। আমার অভিনয়ের ব্যাপারে বলবো যে, সুচিত্রাসেনই আমার আইডল। আমরা যারা চলচ্চিত্র প্রেমী সুচিত্রা সেন আমাদের হৃদয়ে চিরকাল থাকবেন।
 
আমি খুব প্রাউডফিল করি, সুচিত্রা সেন আমাদের বাংলাদেশের মেয়ে। আমি যখন সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে কাজ করার জন্য কলকাতায় গিয়েছি তখন মানিকদাকে বলতাম মানিক দা আপনি এতবড় একজন পরিচালক আপনার ছবিতে উত্তম কুমার অভিনয় করেন কিন্তু সুচিত্রা সেন নেই কেন? তিনি খুব মিস্টি একটা হাসি দিয়ে বলেছিলেন, ‘হ্যা, ওনাকে নিতে হলে আমাকে আলাদা করে গল্প লিখতে হবে।’ তখন আমি ওনার সাথে দেখা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আর দেখা করা হয়ে উঠেনি। ফলে আমার একটা দুঃখ রয়ে গেল যে আমি ওনাকে সামনা সামনি কখনো দেখতে পারি নি।

সুচন্দা আপা একাত্তুরের সময়ে জহির ভাইয়ের সাথে কলকাতায় শুটিং করতে গিয়েছিলেন তখন তিনি সুচিত্রাসেনের বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছিলেন। সামনাসামনি অনেক কথা বলেছেন, অনেক গল্প করেছেন তাঁরা। চা নাস্তা খেয়েছেন। এই দুঃখটুকুই আমার রয়ে গেল। যাহোক উনি যেখানেই থাকুক ওনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। উনি সুখে থাকুন

Facebook Comments