গাজীপুর-টাঙ্গাইল সড়ক : যান চলাচলের অনুপযোগী : ১৪ মাস ঝুলে আছে সংস্কার কাজের অনুমোদন

0
9
Print Friendly, PDF & Email

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করার কারণে সড়কটির শতাধিক স্থানে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তাই প্রচ- ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া বেহাল সড়কের কারণে ঢাকা-জয়পুর-টাঙ্গাই রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। জানা গেছে, সড়কটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ২০১২ সালে দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু দীর্ঘ ১৪ মাস অতিক্রম হলেও বিভিন্ন অজুহাতে সংস্কার কাজের চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে না যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সূত্রে জানায়, গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়কের। প্রতিদিন ছোট-বড় কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে। এ রুটে যাতায়াত করে বিপুলসংখ্যক মানুষ। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি সংস্কার না করার কারণে বেহাল অবস্থার তৈরি হয়েছে। তাই ২০১২ সালে নভেম্বরে জয়দেবপুর-মির্জাপুর-টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। সড়ক ও জনপথ বিভাগ দরপত্রের মূল্যায়ন শেষে সর্বনিম্ন দরদাতার পক্ষে সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়। কিন্তু বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এখন কার্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়নি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী সংবাদকে বলেন, এই সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া দরপত্র আবেদনের দুবছর আগেও ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। তাই এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোতি না পাওয়ায় দরপত্রের প্রায় ১৪ মাস পরও শুরু করা যায়নি গাজীপুর-টাঙ্গাইল সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ। একের পর এক কমিটি গঠন ও তার সুপারিশের পরও কোন কূলকিনারা হচ্ছে না সড়কটির। এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় কাজের ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সওজ সূত্রে জানায়, গাজীপুর-টাঙ্গাইল সড়কের কাজ শুরুর আগে সেখানে সর্বশেষ কখন কি কাজ হয়েছে গত বছর ২১ জুলাই এক চিঠির মাধ্যমে তা সওজ এর কাছে জানতে চেয়েছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। তাই দরপত্রের প্রথম দফার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দ্বিতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ায়। পরে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে ওই সড়কে গত তিন বছর কি ধরনের কাজ হয়েছে এবং কাজে কোন দুর্নীতি বা অনিয়ম ছিল কি-না সে সম্পর্কে জানাতে গত ৪ ডিসেম্বর সড়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব একেএম বদরুল মজিদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এরই মধ্যে দরপত্রের দ্বিতীয় দফার মেয়াদও শেষ হয়ে গেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তৃতীয় দফায় মেয়াদ বাড়ায়। অবশেষে তদন্ত কমিটি বিগত তিন বছরে কাজের বিবরণ তুলে ধরে কাজের গুণগত মান বজায় না রাখায় তিনজন কর্মকর্তাকে দায়ী করে গত ৯ জানয়ারি চারটি সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন জমা দেয়।

সুপারিশে উল্লেখিত সড়কটিকে একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক আখ্যায়িত করে বলা হয়, পরবর্তী বর্ষা এবং সড়কটির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় সুষ্ঠু যানবাহন চলাচলের লক্ষে অতিদ্রুত মেরামত কাজ হাতে নেয়া প্রয়োজন। দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সড়কের উন্নয়ন ব্যয় বেড়ে যাবে ইঙ্গিত দিয়ে সুপারিশে আরও বলা হয়, দ্রব্যমূল্য ও আনুষঙ্গিক ইনপুটের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় সওজের বিভিন্ন কাজের রেট সিডিউল আপডেট করা হচ্ছে। যা শীঘ্রই সম্পন্ন হবে। এতে কাজ সম্পাদনের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এ বিবেচনায় সড়কটির মেরামত কাজ সম্পাদনের জন্য দরপত্রের কাজের বিভিন্ন দফার ওপর সংশোধন আনয়নপূর্বক কাজটি সম্পাদনের ব্যবস্থা নিলে উল্লেখযোগ্য সরকারি অর্থ সাশ্রয়ী হবে জানানো হয়। তবে কমিটির এমন সুপারিশের প্রায় দুই সপ্তাহ পরও এখন পর্যন্ত দরপত্রের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়নি। আর দরপত্রের তৃতীয় দফার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে।

Facebook Comments