এবার ওয়্যারলেস ডিভাইস তৈরি হবে গ্রাফিনে

0
7
Print Friendly, PDF & Email

 

 

 

গাজীপুর নিউজ ডেস্কঃ গ্রাফিন নিয়ে গবেষণা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা করা হচ্ছে গ্রাফিন প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন এক বিপ্লব নিয়ে আনতে সমর্থ হবে। ‘ওয়ান্ডার ম্যাটেরিয়াল’ নামেই অভিহিত করা হয়ে থাকে গ্রাফিনকে। এর আগে এই গ্রাফিন ব্যবহার করে সার্কিট তৈরি করা হলেও এবারে ওয়েফার-স্কেল গ্রাফিনের সহায়তায় এখনকার চাইতে অনেক উন্নততর ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট তৈরি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে আইবিএম’র একদল গবেষক। আর এই সার্কিটের মাধ্যমে দ্রুতগতির, সাশ্রয়ী এবং অনেক বেশি কর্মদক্ষ ওয়্যারলেস ডিভাইস তৈরি এখন সময়ের ব্যাপার বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। সম্প্রতি ন্যাচার কমিউনিকেশন জার্নালে এই গবেষণার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।

গ্রাফিনের যাত্রা শুরু মূলত ২০০৪ সালে। মাত্র এক অ্যাটম কার্বন স্তরের গ্রাফিন এর ইলেক্ট্রিক্যাল, অপটিক্যাল, মেকানিক্যাল এবং থার্মাল বৈশিষ্ট্যের কারণে সিলিনক চিপের বিকল্প হিসেবে শুরু থেকেই ভাবা হচ্ছিল গ্রাফিনের কথা। তবে এতদিন পর্যন্তও গ্রাফিন ব্যবহার করে বাস্তবসম্মত কোনো ডিভাইস তৈরি করা সম্ভব হয়নি। সেই কাজটিতেই সাফল্য এল আইবিএম গবেষকদের হাত ধরে। এ প্রসঙ্গে আইবিএম গবেষণা ইউনিটের ভৌত বিজ্ঞান বিভাগের পরিচালক সুপ্রতীক গুহ বলেন, ‘প্রচলিত সিলিকন চিপের বদলে এই প্রথমবারের মতো গ্রাফিনে তৈরি ডিভাইস ও সার্কিট তৈরি করা হয়েছে তারহীন যোগাযোগের উদ্দেশ্যে, যা একটি অভূতপূর্ব বিষয়।’ গবেষক দল জানিয়েছে, বর্তমান যুগে যে তারহীন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তার জন্য গ্রাফিন অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করার জন্য গ্রাফিন হবে অত্যন্ত কর্মদক্ষ।

এর আগে ২০১১ সালে আইবিএম গবেষকরা ব্রডব্যান্ড ফ্রিকোয়েন্সি মিক্সার ব্যবহার করে অ্যানালগ গ্রাফিন সার্কিট তৈরি করলেও সেটি ভালো কাজ করেনি। ন্যানোস্কেলের গ্রাফিন নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ফেব্রিকেশনের সময়েই ঝামেলা হয় বলেই গ্রাফিন নিয়ে কাজ করা সমস্যা ছিল। সেই থেকে গবেষণা করতে করতে এবারে তারা এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যাতে গ্রাফিনের ট্রানজিস্টরের মান অক্ষুন্ন থাকে। ফলে নতুন তৈরি সার্কিট আগের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার গুণ ভালো পারফরম্যান্স করেছে। এর মাধ্যমে গবেষকরা তারহীন পদ্ধতিতে টেক্সট ম্যাসেজ পাঠিয়েও প্রদর্শন করেছেন।

 

 

 

Facebook Comments
শেয়ার করুন