কালীগঞ্জে খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সাধু আন্তনির তীর্থোৎসব

0
18
Print Friendly, PDF & Email

কালীগঞ্জে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় পালিত হলো খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সাধু আন্তনির তীর্থোৎসব।

‘তারই জয়গানে মুখর ধরণী’ স্লোগানে গাজীপুরের কালীগঞ্জে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হলো খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের সাধু আন্তনির তীর্থোৎসব।

উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পানজোরা গ্রামে দুই দফায় খ্রিষ্টজাগ করা হয়। মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে গানে গানে মুখরিত হয়ে উঠে তীর্থ যাত্রীদের আগমনে।

শুক্রবার সকালে নাগরী ধর্ম পল্লী পালকীয় পরিষদের উদ্যোগে উপজেলার পানজোরা গ্রামে এই তীর্থোৎসবের আয়োজন করা হয়। তীর্থোৎসবের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বে কয়েক হাজার খ্রিষ্টধর্মাবলম্বী নর-নারী অংশ নেন।

তীর্থোৎসবের দ্বিতীয় পর্বে প্রার্থনায় যোগ দিয়ে খ্রিষ্টজাগের উদ্বোধন করেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আশরাফী মেহেদী হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি প্রমুখ।
 
পাদুয়ার সাধু আন্তনি ‘পৃথিবীর সাধু’ হিসেবে পরিচিত। সর্বজনপ্রিয় এই সাধু আন্তনি ছিলেন ঐশী জ্ঞানের আঁধার, মঙ্গলসমাচারের সুদক্ষ প্রচারক, নিঃস্ব আসহায় মানুষের বন্ধু, পাপীর মন পরিবর্তন, রোগীদের সুস্থতাকারী বহুগুণে গুনান্বিত এক মহান সিদ্ধ পুরুষ।

বিগত প্রায় আটশত বছর ঈশ্বর তাঁর এই নম্র ও বিনীত সেবকের মধ্য দিয়ে বক্তপ্রাণ মানুষকে অসংখ্য অনুগ্রহ দান করেন। তাই সাধারণ মানুষ আজও জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজনে তাঁর মধ্যস্ততা কামনা করেন। পনজোরাতে অবস্থিত সাধু আন্তনির তীর্থস্থানে আজও জাতী-ধর্ম-নির্বিশেষে মানুষ তাঁর মধ্যস্থতায় ঈশ্বরের অনুগ্রহ লাভের জন্য আসেন। সাধু আন্তনির অসংখ্য ভক্তের ভক্তির শ্রোতধারা যেন আরও শক্তি শালী হয়ে উঠে এ কামনা তীর্থোৎসবে আগম সাধু আন্তনি ভক্ত ও তীর্থ যাত্রীদের। 

সরেজমিনে দেখা যায়, আজ সকালে শীতের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে হাজার হাজার তীর্থ যাত্রীর আগমেন সময় বাড়তে থাকার সাথে সাথে জনসমুদ্রে পরিণত হয় নাগরী ধর্ম পল্লী পালকীয় পরিষদ প্রাঙ্গন।

তীর্থোৎসবটি শুধুমাত্র খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের হলেও উৎসবে অংশ নেয় বিভিন্ন জাতী ধর্মের হাজার হাজার নর-নারী।

দু’টি পর্বের তীর্থোৎসব প্রথম পর্ব সকাল ৭টায় ও দ্বিতীয় পর্ব সকাল ১০টায় আরতি আগমের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। পরস্পর আরতি শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শুরু হয় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বানী পাঠ ও উপাদেশ। খ্রীষ্ট প্রশাদ বিতরণ শেষে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী আর্শিবাদ জ্ঞাপন করেন।

প্রথম পর্বের তীর্থোৎসব প্রার্থনা পরিচালনা করেন- ঢাকার সহকারী বিশপ থিউটনিয়াস গমেজ এবং দ্বিতীয় পর্বে প্রার্থনা পরিচালনা করেন ঢাকার আর্চ বিশপ পেট্রিক ডি রোজারিও। ২ পর্বের প্রার্থনায় অংশ নেন কয়েক হাজার খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বী নর-নারী। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগত ফাদারসহ উপজেলার ৫টি মিশনের ফাদারগণ।

Facebook Comments