উপজেলা নির্বাচন শেষেই সরকার পতন আন্দোলন

0
20
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় জোটনেত্রী খালেদা জিয়া বলেছেন, উপজেলা নির্বাচন শেষেই আন্দোলন শুরু করা হবে। এবং এ সরকার বিদায় করে ১৯ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসবে। এবং পদ্মা সেতু হবে। এ সরকার অবৈধ সরকার।

শনিবার বিকেলে রাজবাড়ীর শহীদ আব্দুল আজিজ খুশি রেলওয়ে ময়দানে ১৯ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন তিনি।

দেশকে স্বাধীন সার্বভৌম রাখতে হলে আওয়ামী লীগ সরকারকে সরাতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রথমেই তিনি উপস্থিত জনসাধারণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এর আগে বেশ কয়েকবার সময় দিয়েও আসতে না পেরে দু:খপ্রকাশ করেন।

খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর গত তিনমাসে ৩০৪ জনকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। গুম করা হয়েছে অসংখ্য মানুষকে। এতগুরো মানুষকে হত্যা করার জন্য আওয়ামী লীগকে রক্তপিপাসু দল। এ সরকার জনগণের সম্পদ লুট করেছে।

খালেদা বলেন, জনসভার জন্য তাদের অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তার মানে এই অবৈধ সরকার গণতন্ত্র চায় না।  তাই আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না।

৫ মার্চ দশম জাতীয় নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে যায়নি এমনটি দাবি করে খালেদা বলেন, ১৫৩ টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরকার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচনের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে আওয়ামী লীগের লোকজন বসে থাকে। এই সরকারের অধীনে যে কোনো নির্বাচন হতে পারে না তার প্রমাণ আপনাদের নির্বাচনে না যাওয়া।

এসময় তিনি সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে কিনা জানতে চাইলে উপস্থিত অনেকেই ‘না’ সূচক জবাব দেন।

আওয়ামী লীগকে তিনি অবৈধ ও জোর করে ক্ষমতা জবরদখলকারী উল্লেখ করে বলেন, যদি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়া হয় তাহলে ১৯-দলকে কোনোভাবেই পরাজিত করতে পারবে না।

খালেদা জিয়া আরও বলেন, এই সরকার বহুদলীয় সরকারে বিশ্বাসী নয়। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ একদলীয় সরকার ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। এখনও সেই ধারায় ক্ষমতায় থাকতে চায়।

জেলা বিএনপি’র সভাপতি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, সাদেক খোকা, কর্নেল(অব.) অলি আহমেদ, আন্দালির রহমান পার্থ, কাজী জাফর আহমেদসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও ১৯ দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে রাজবাড়ীর সার্কিট হাউসে পৌঁছেন খালেদা জিয়া।

এদিকে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও ১৯ দলীয় জোট নেতা খালেদা জিয়ার দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ শুনতে ও তাকে একনজর দেখতে শনিবার সকাল থেকেই শহীদ আব্দুল আজিজ খুশি রেলওয়ে ময়দান জড়ো হতে থাকেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

উৎসুক সাধারণ মানুষ আশপাশের এলাকাগুলো থেকে পায়ে হেঁটে ও বিভিন্ন বাহনে করে জনসভাস্থলে উপস্থিত হন।

সকাল থেকেই রাজবাড়ীর জনসভাস্থলে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। দুপুর নাগাদ জনসভাস্থল কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়।

গত ৫ জানুয়ারির ‘প্রহসনের’ নির্বাচন বাতিল,গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ১৯ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা, হত্যা-গুম বন্ধ এবং অনতিবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে এবং আগামী দিনের আন্দোলনে খালেদার দিক নির্দেশনা দিতে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।

১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই খালেদা জিয়ার ঢাকার বাইরে প্রথম জনসভা।

Facebook Comments