জিতলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন-বাংলাদেশ

4
taigar

গাজীপুর নিউজ ডেস্কঃ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের যেমন ‘আম আদমি পার্টি’ হংকং ক্রিকেট টিমটাও তেমনি ‘আম আদমি দল’। অনেকটা খিচুড়ি পার্টি। যে দলের প্রথম একাদশে খেলা মাত্র দু’জন ক্রিকেটার হংকংয়ের, বাকি আটজন পাকিস্তানি, একজন ভারতীয়। ভদ্র ভাষায় বলা যায় বহুজাতিক দল। তারাই আজ বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ। চট্টগ্রাম জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শুরু হবে ম্যাচ। আইসিসি’র সহযোগী দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, নেপাল যদি ‘হাতি’ ‘ঘোড়া’ হয়, হংকং তবে ‘পিঁপড়ে’। অন্তত টি ২০ বিশ্বকাপের প্রথম দু’ম্যাচের পারফরম্যান্স তাই বলে। হংকং হেরেছে আফগানিস্তান ও নেপাল দুদলের কাছেই। আর টেস্ট খেলুড়ে অভিজ্ঞ বাংলাদেশ ওই দু’দলকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে। আজ হংকং ম্যাচের আগে তাই বাংলাদেশী ক্রিকেটপ্রেমীরা বলতেই পারেন, ‘হাতিঘোড়া গেল তল, পিঁপড়ে বলে কত জল।’ শক্তি- সামর্থ্যরে বিচারে টাইগারদের চেয়ে অনেক পিছিয়ে জেমি অ্যাটকিনসনের দল।
ক্রিকেট গৌরবময় অনিশ্চয়তার খেলা- কথাটা মাথায় রেখেও ম্যাচের ফলাফল নিয়ে কারও দুর্ভাবনায় থাকার কথা নয়। ধুঁকতে থাকা দুর্বল হংকংকে নিয়ে আজ সত্যিকারের ‘ফান’ ক্রিকেট খেলবেন সাকিব-তামিমরা, এমনটা আঁচ করতে পেরেই কি বিক্রি হয়ে গেল ম্যাচের সব টিকিট! দর্শক আগ্রহের কারণটা অবশ্যই অন্যখানে। আজ গ্র“প পর্বের শেষ ম্যাচ। হংকংয়ের বিপক্ষে জিতলেই গ্র“প চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ চলে যাবে সুপার টেনে। মাঠে উপস্থিত থেকে আনন্দঘন সেই মুহূর্তের সাক্ষী হতে চায় সবাই। কপালের ফেরে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাংলাদেশকে গ্র“প পর্বে খেলতে হচ্ছে নন-টেস্ট প্লেয়িং সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে। সুপার টেনে পৌঁছা মানে তো এই অবজ্ঞার একটা মোক্ষম জবাবও দেয়া! অবশ্য মাঠে হংকংয়ের খেলা দেখাটাও কম আনন্দের নয়! দলে পুরোদস্তুর পেশাদার ক্রিকেটার নেই কেউই। সবার মূল পেশা ভিন্ন। ক্রিকেটটা শৌখিনতা মাত্র! বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ শৌখিন ক্রিকেটারদের জন্য কতটা কঠিন তা অবশ্য হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে হংকং। টপাটপ ক্যাচ পড়ছে। স্লো বল খেলতে সে কি কসরত। ৪০ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুনীর দারের দুলকি চালের দৌড় দেখার মজাই আলাদা। দল যদি হয় হংকং, চিয়ার্স-গার্লদের আর কি দরকার!
প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা হংকংয়ের দুর্দশা ‘ফানি গেম’ ক্রিকেটের আরেক বিনোদন। প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে মাত্র ৬৯ রানে অলআউট এই খিচুড়ি দলটি। দ্বিতীয় ম্যাচে টেনেটুনে ১৫৩ রান করলেও আফগানিস্তান ৭ উইকেট হাতে রেখে ১৮ ওভারেই তা টপকে যায়। মানুষ তো আশা নিয়েই বাঁচে। হংকং অধিনায়ক জেমি অ্যাটকিনসনই বা তার ব্যতিক্রম হবেন কেন? তিনি আশাবাদী তার দল শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে, ‘সন্দেহ নেই বাংলাদেশ অনেক ভালো ও অভিজ্ঞ টেস্ট প্লেয়িং দল। প্রথম দু’ম্যাচে সহজ জয়ে তারা অনেক আত্মবিশ্বাসীও। কিন্তু শেষ ম্যাচে আমরা চমক দেখাতে চাই। ভালো কিছু করেই দেশে ফিরতে চায় পুরো দল।’ তবে হংকংকে নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দুর্ভাবনার লেশমাত্র নেই বাংলাদেশ দলে। তবে হালকাভাবেও নিচ্ছে না।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ওপেনার এনামুল হক বিজয়ের কথাতেই তা পরিষ্কার- ‘পরপর দুই ম্যাচে হেরেছে বলে হংকংকে হেলাফেলা করছি না। টি ২০-তে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। তবে বাংলাদেশ অনেক আত্মবিশ্বাসী। গ্র“প পর্বের শেষ ম্যাচটিও জিতে সুপার টেন নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য। সবার চোখ সেদিকেই নিবদ্ধ।’
মঙ্গলবার চট্টগ্রামে নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে দেখা গেছে ভিন্ন দৃশ্য। সন্ধ্যা না গড়াতেই শিশিরে আচ্ছন্ন চারদিক। এত শিশির পড়ছিল যে স্টেডিয়ামের দুই প্রান্তে বক্সের ভেতর থেকে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মাঠে বোলারদের অবস্থা আরও করুণ। বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমও ম্যাচ শেষে বলছিলেন, ‘টস জেতাতে ভালোই হয়েছে।’ না হলে ‘ডিউ’ বড় ফ্যাক্টর হতো। তবে কোনো ফ্যাক্টরই আজ বাধা হওয়ার কথা নয়, প্রতিপক্ষ যে খিচুড়ি পার্টি!

Facebook Comments