লাগামহীন ঘোড় দৌড়

16
Horse Race

দিন দিন বদলে যাচ্ছে আমাদের চারপাশ। বদলে যাচ্ছে শিল্প-সাহিত্য, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও অন্যান্য সব বিষয়। পাল্টে যাচ্ছে মানুষের মন-মানসিকতা। লাগামহীন ঘোড়ার মতই দিন দিন পরিবর্তিত হচ্ছে সব। সকল ক্ষেত্রে ডিজিটালিক পদ্ধতির কারণে পরিবর্তন আসছে সব দিকে। ক্ষমতার পট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পড়লে এটা অনেক গ্রহণযোগ্যতা পেতো। ক্ষমতার লড়াইয়েও আসছে নতুন মাত্রা। যোগ হচ্ছে নব নব কৌশল। আমলাতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক পন্থার কারণে দেশটা চলে যাচ্ছে লাগামহীন ঘোড় দৌড়ের মত। ইচ্ছে করে মনের সব কথাগুলো খুলে বলি, কিন’ বাক স্বাধীনতা কতটুকু আছে তাও আছ প্রশ্নবিদ্ধ।

আগের দিনের মানুষের চলন-বলন, নীতি, নৈতিকতা, জ্ঞানগর্ভ ভাব সবই ছিল। বিচারের জন্য আদালতের আশ্রয় নিতে হতো না, গ্রামের মোড়লরাই সঠিক বিচার করতেন। আর বর্তমানে গ্রামের বিচারগুলো হয়ে গেছে যার আছে মাল, সেই বেসামাল, অর্থাৎ সে খুন করেও মাফ পেয়ে যায়। বর্তমানে আমাদের একটা পূঁজি আছে সেটা হচ্ছে নির্লজ্জের মত লাগামহীন বক্তৃতা। মাঠে ময়দানে, হাট-বাজারে নেতা-নেত্রীগণ মানুষ তথা জনগণের কল্যাণে কথার ফুলঝুরি দিয়ে ভুলিয়ে ভালিয়ে জনগণের মহা-মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে জিতে গিয়ে জনগণের কথা আর মনে থাকে না। সুবিশাল করিডোর, বিলাশ বহুল গাড়ী, বৃহৎ অট্টালিকার মধ্যেই তাদের সেবা থাকে সীমাবদ্ধ। অসীম আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতে হয় তীর্থের কাকের মত, চেয়ে থাকতে হয় আবার কবে আসবে নির্বাচন? আবার কবে প্রিয় নেতার মুখ দেখতে পাবে? আমাদের কথা বলবে, আমাদের কানে সান্তনার অভয় বাণী শোনাবে। বলবে আমি আছি সকল সময় আপনাদের পাশে, কোন ভয় নেই, যখন প্রয়োজন আমাকে ডাকবেন। কিন্তু…….। নিজের অর্থ, বিত্ত, বৈভব সব কিছুর জন্যই আজকাল সবাই রাজনীতি করে। এখন আর নেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, নেই বঙ্গতাজ তাজ উদ্দিন, নেই শহীদ জিয়া, আমাদের মাঝে নেই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বাংলার বাঘ শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মাওলানা ভাষানী, নেই এম. এ. জি. ওসমানি। এমন আরও অনেক নেতা ছিলেন যারা দেশ ও জনগণের জন্য ভাবতেন। এখন তো আর রাজনীতি নেই, এ যেন জনগণের স্বার্থে নয় নিজের স্বার্থে লাগামহীন ঘোড় দৌড়।

Facebook Comments