‘বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার বেড়েছে’

0
11
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রিপোর্টঃ ২০১৩ সালে বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হার ১৫ শতাংশ বেড়েছে। আর এই সংখ্যা বাড়ার পেছনে ইরাক ও ইরানের বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টির বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। বৈশ্বিক মৃত্যুদণ্ড পর্যালোচনা করে গোষ্ঠীটি দেখতে পায় ২০১২ সালের তুলনায় বিশ্বে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ১৫ শতাংশ বেড়েছে। অনুমান করা হয় বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় চীনে। কিন্তু দেশটিতে এ বিষয়ক প্রকৃত তথ্য কঠোরভাবে গোপন রাখা হয়। জানা তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে বিশ্বে মোট ৭৭৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আর ২০১২ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ৬৮২ জনের। ২০১৩ সালে ইরানে ৩৬৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। আর ইরাকে হয় ১৬৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল সলিল শেঠি বলেন, “মাত্র কয়েকটি দেশ কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে থাকে। তারা তা থেকে বিরত হচ্ছে না। অথচ ইতোমধ্যে মৃত্যুদণ্ড বিধান বিলোপে অনেকদূর অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।” ২০১৩ সালে বিশ্বের ২২টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া, কুয়েত, নাইজেরিয়া এবং ভিয়েতনামও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু করেছে। যদিও অনেক দেশই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে বিরত রয়েছে। ২০১৩ সালে এ বিষয়ে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই অগ্রগতি হয়েছে। ২০১২ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে এমন অনেক দেশই ২০১৩ সালে কোন মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি। এগুলোর মধ্যে গাম্বিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং পাকিস্তানও রয়েছে।

২০১৩ সালে বেলারুশ এ ধরনের দণ্ড কার্যকর থেকে বিরত থাকে। এরমধ্যদিয়ে ইউরোপ ও মধ্যএশিয়া ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে বিরত থাকার রেকর্ড অর্জন করল। শেঠি বলেন, “অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে একটু দীর্ঘ সময় লাগলেও মৃত্যুদণ্ড এক সময় অতীতের বিষয়ে পরিণত হবে।” যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে শিরশ্ছেদ, বৈদ্যুতিক শক, ফায়ারিং স্কোয়াড, ফাঁসি ও প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন রয়েছে। প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে ইরান, উত্তর কোরিয়া, সৌদি আরব ও সোমালিয়ায়। প্রাণঘাতী কোন অপরাধ ব্যতীত ডাকাতি, মাদক সংক্রান্ত ও অর্থনীতি বিষয়ক অপরাধ, বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ও ধর্মাবমাননার দায়েও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে।

Facebook Comments
শেয়ার করুন