সহিংসতার মধ্যেই আজ শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

0
18
Print Friendly, PDF & Email
afgani

গাজীপুর নিউজ ডেস্কঃ সহিংসতার মধ্যেই আজ শুরু হচ্ছে আফগানিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সহিংসতা এবং ভোট কারচুপির ব্যাপক আশঙ্কার মধ্যেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন আফগানরা। এদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে শুক্রবার আফগান পুলিশের গুলিতে বার্তা সংস্থা এপি’র এক নারী ফটোসাংবাদিক নিহত এবং অপর এক নারী সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এই হামলার কারণ জানা যায়নি (তথ্যসূত্র: বিবিসি)। আফগানিস্তানের খোস্ত শহরে জেলা পুলিশ সদর দপ্তরের সামনে শুক্রবার সকালে বিদেশি সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের এই ঘটনা ঘটে। খোস্ত প্রদেশের পুলিশের উপ-প্রধান ইয়াকুব মান্দোজাই ঘাতককে সরাসরি পুলিশ হিসেবে উল্লেখ না করে জানিয়েছেন, ‘গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তি পুলিশের পোশাক পরা ছিল। তাকে পুলিশের জিম্মায় নেয়া হয়েছে।’ নিহত ফটো সাংবাদিকের নাম অ্যাঞ্জা নিড্রিংহাউস (৪৮)। অন্যদিকে এপি-র বিখ্যাত প্রতিবেদক ক্যাথি গ্যানোন (৬০) গুরুতর আহত হলেও শেষ পর্যন্ত জানা গেছে তার অবস্থা স্থিতিশীল। আফগানিস্তানের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের খবর সংগ্রহের জন্যই ওই দুই নারী সাংবাদিক দেশটি সফরে গিয়েছিলেন। যারা লড়ছেন নির্বাচনে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের জন্য শেষ পর্যন্ত ৮ জন প্রার্থী দাঁড়ালেও নিচের ৪ প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াইটি হবে বলে মনে করছেন দেশটির রাজনীতি পর্যবেক্ষকরা। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশিত হবে। যদি একজন প্রার্থীও ৫০ ভাগ ভোট না পায়, তবে ২৮ মে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ের নির্বাচন হবে।
জালমাই রসূল : প্রেসিডেন্ট কারজাইয়ের মেয়াদে তিন বছর ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নিজস্ব ক্যারিশমার ঘাটতি থাকলেও জালমাইয়ের সঙ্গে আছে কারজাইয়ের সমর্থন। এছাড়া জালমাইয়ের সঙ্গে রানিং মেট হিসেবে আছেন আফগানিস্তানের প্রথম নারী ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হাবিবা সারোবি। আশরাফ ঘানি আহমাদজাই : চলতি নির্বাচনে আশরাফ ঘানিকে আমেরিকার পছন্দের প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের সাবেক এই কর্মকর্তার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ সমাদর রয়েছে। তবে নিজ দেশে ২০০৯ সালে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য নির্বাচনে ৫ ভাগেরও কম ভোট পেয়েছেন। উজবেক নৃতাত্তি্বক গোষ্ঠীর অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা রশিদ দস্তুম ভাইস-প্রেসিডেন্ট পদে তার রানিং মেট। আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ : জালমাইয়ের মতোই তিনিও একজন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে আবদুল্লাহ আফগানিস্তানে পরিচিত তার কারজাই সরকারের দুর্নীতি ও তালেবান বিরোধিতার জন্য। তাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে তার জনপ্রিয়তা অপেক্ষাকৃত বেশি। আবদুল রাসুল সায়াফ : জাতিগতভাবে পশতুন আবদুল রাসুল সায়াফের সঙ্গে আমেরিকার কোনো বিশেষ বিরোধিতা না থাকলেও তাকে প্রেসিডেন্ট পদে না দেখলেই সম্ভবত খুশি হবে ওয়াশিংটন। নব্বইয়ের দশকে সোভিয়েতবিরোধী যুুদ্ধে সশস্ত্র যোদ্ধা ছিলেন তিনি। বর্তমানে পার্লামেন্ট সদস্য পদে থাকা এই নেতা তালেবানবিরোধী হলেও ওসামা বিন লাদেনের সঙ্গে এক সময় তার অনেক সখ্য ছিল বলে শোনা যায়। এছাড়া তার প্রতি সম্মান জানিয়ে দক্ষিণ ফিলিপাইনে একটি কট্টরপন্থী সশস্ত্র মুসলিম গোষ্ঠী নিজেদের দলের নাম রেখেছিল আবু সায়াফ।
সূত্রঃ যায় যায় দিন।

Facebook Comments