পুলিশের ধর্ষণের মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ

0
20
Print Friendly, PDF & Email
police

গাজীপুর ডেস্কঃ গত ১৯ মার্চ ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার এএসআই আবদুর রহমানসহ ৩ জনকে তলব করেন হাইকোর্ট। পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার পুলিশের এএসআই আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।পুলিশের ধর্ষণের মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের নির্দেশ পাশাপাশি আগামী ২০ মে সিআইডিকে তদন্ত করে এ বিষয়ে প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। গত ১৯ মার্চ একটি ইংরেজি দৈনিকে ‘গার্ল গোজ থ্রু হরিফিক অ্যাবিউজ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে একইদিন আইন ও সালিশ  কেন্দ্র (আসক) দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি আবেদন করেন। ওই আবেদনে হাইকোর্ট ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পিরোজপুরের নাজিরপুর থানার এএসআই আবদুর রহমানসহ ৩ জনকে তলব করেন। ওই আদেশ অনুসারে পুলিশের হাতে আটক এএসআই আবদুর রহমান ও স্থানীয় মৌলভী মুজাহিদুল ইসলাম জাফরকে মঙ্গলবার হাইাকোর্টে হাজির করা হয়। এ ছাড়া অপর অভিযুক্ত বকশী এসএম দাসুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক অসীম মিস্ত্রিও মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আদালত প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মামলার তদন্ত সিআইডিতে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেন। আদালতে আসকের করা আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এম আমিন উদ্দিন ও আবু ওবায়দুর রহমান। আসামিপক্ষে ছিলেন শ. ম রেজাউল করিম। আইনজীবী এম আমিন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, পুলিশের এজাহারের সঙ্গে ভিকটিমের (ছাত্রী) দেওয়া জবানবন্দির সঙ্গে অমিল থাকায় আদালত সিআইডিকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পাশাপাশি পিরোজপুরের পুলিশ সুপারকেও তদন্ত তদারকি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, গত ১২ মার্চ নাজিরপুরের বকসী গ্রামে ১৩ বছরের মাদ্রসা ছাত্রী ও সমবয়সী ভ্যানচালককে প্রেম করার অভিযোগে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশের এএসআই আবদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কিশোর-কিশোরীকে বিবস্ত্র করে যৌন নির্যাতন করে এবং অশ্লীল ছবি তোলে। এ ছাড়া পরদিন ওই কিশোর-কিশোরীকে জোর করে বিয়েও দেওয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা এক সপ্তাহ পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনার পর অভিযুক্ত আবদুর রহমান ও মুজাহিদুল ইসলামকেও সম্প্রতি আটক করা হয়।
সূত্রঃ সমকাল

Facebook Comments