গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ করলেন শিক্ষক!

0
23
Print Friendly, PDF & Email
pic-02 70891

গাজীপুর নিউজ ডেস্কঃ শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষা সফরে গিয়ে ছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের নাম নাছির উদ্দিন। তিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। এ ছাড়া সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমান ও কর্মচারী আবু সালেহর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগও পাওয়া গেছে। গত সোমবার উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে শিক্ষক নাছির উদ্দিনের যৌন হয়রানির নানা ঘটনা তুলে ধরেছেন ছাত্রীরা। ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছে আন্দোনলকারী শিক্ষার্থীরা।

ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে পাঁচ দিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছে তাঁরা। ফলে লোকপ্রশাসন বিভাগে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপক নাছির উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত, আতিকুর রহমানকে অপসারণ এবং আবু সালেহকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের দাবি জানান তাঁরা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রশ্রয় দেওয়ায় বিভাগীয় প্রধান আনোয়ারা বেগমকেও পদ থেকে অব্যাহতির দাবি জানায়।

গোপনে ছাত্রীদের ভিডিও ধারণ করলেন শিক্ষক!

লোকপ্রশাসন বিভাগের ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, ২০১৩ সালে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফরের সময় শিক্ষক নাছির উদ্দিন ছাত্রীদের গোপন ভিডিও ধারণ করেন। পরে এসব ভিডিও ও ছবি অন্যদের দেখতে দেন। শিক্ষা সফরে গিয়ে দুপুরে ছাত্রীরা যখন ঘুমিয়ে পড়তেন, তখন নাছির উদ্দিন তাঁদের কক্ষে উঁকি মারতেন। অনুমতি না নিয়েই ছাত্রীদের রুমে ঢুকে পড়তেন। এ ছাড়া ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন তিনি। এসব ঘটনা বিভাগীয় প্রধানের কাছে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন ছাত্রীরা।

ছাত্রীরা আরও জানান, গত ৩০ মার্চ লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষ দ্বিতীয় সেমিস্টারের এক ছাত্রী ওই বিভাগের কর্মচারী আবু সালেহ কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হন। বিভাগের অফিসের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ওই ছাত্রীর হাত ধরে টেনে নিয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিত করেন আবু সালেহ। পরে গত ৩১ মার্চ বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রী বিভাগীয় প্রধান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোনো ব্যবস্থাই নেননি তিনি। একইভাবে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতিকুর রহমানও ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করেন।

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা গত পাঁচ দিন ধরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, বিভাগের ক্লাস ও অফিসে তালা, অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন পালন করেছেন। আন্দোলনের ফলে ওই বিভাগে পাঁচ দিন ধরে কোনো ক্লাস হয়নি। গত সোমবার উপাচার্যকে তাঁরা দ্বিতীয় দফা স্মারকলিপি দিয়েছেন। আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে শিক্ষার্থীরা আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গতকালও আন্দোনলকারীরা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন। এতে ওই বিভাগের শিক্ষার্থী ছাড়াও ‘ইভ টিজিং ও যৌন হয়রানি নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি’র সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন।

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা আরো জানান, ‘আমরা বিভাগের শিক্ষকদের কাছে নিরাপদ নই। তাই আমাদের নিরাপত্তা চাই। বিশেষ করে শিক্ষক নাছির উদ্দিকে চাকরিচ্যুত না করলে আমরা নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছি না।’

তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল হক ভুঁইয়া বলেন, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য তদন্ত কমিটি গঠনের কাজ চলছে। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Facebook Comments
শেয়ার করুন