শ্রীপুরে সমকাল প্রতিনিধির নামে জিডি

7

শ্রীপুরের জৈনাবাজার এলাকার আল বারাকা হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার শিকার মাদরাসা ছাত্র সুমন মিয়াকে নিয়ে সমকালে পরপর দুইদিন দুটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর সোমবার রাতে সমকালের শ্রীপুর প্রতিনিধি ইজাজ আহমেদ মিলনের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন হাসপাতালের পরিচালক মাজেদুর রহমান। এই ঘটনায় ফেসবুকসহ সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের মধ্যে বইছে আলোচনা সমালোচনার ঝড়। জৈনাবাজার এলাকার সাধারণ মানুষ ও বিজ্ঞজনের বলছেন নিজেদের দোষ ঢাকার জন্যই ওই প্রতিবেদকের নামে সাধারণ ডয়েরি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
উপজেলার তেলিহাটী ইউনিয়নের জৈনা বাজার এলাকার আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা ও এতিমখানার হেফজ বিভাগের নজরানার শ্রেণীর ছাত্র সুমন গত ৬ ফেব্রুয়ারি শরীরে জ্বর নিয়ে আল বারাকা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার মো. আবদুস সালাম সুমনের শরীরে জ্বরের ইনজেকশন দেয়ার পরিবর্তে ভুল ইনজেকশন পুশ করে। ফলে হাসপাতালের ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার কারণে চা বিক্রেতা তাইজুদ্দিনের ছেলে সুমনের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পঁচন ধরেছে। দুই হাতের সব নখ আর পায়ের আঙ্গুল খসে পড়ছে । ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন তার হাত ও পায়ের সব গুলো আঙ্গুল কেটে ফেলতে হবে। শুধু তাই  নয় দুটো হাতও কেটে ফেলে দেয়া লাগতে পারে। হাসপাতালের সুমনের এই অপচিকিৎসা নিয়ে গত ১২ এপ্রিল সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় ‘ ভুল চিকিৎসা: জীর্ণ কুটিরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সুমন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিনই ইউএনও কার্যালয়ে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রকাশ্যে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সুমনের বাবার হাতে নগদ ১ লাখ টাকা তুলে দেন আল বারাকা হাসপাতালের লোকজন।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আল বারাকা হাসপাতালকে মাত্র ৫ শ  টাকা এবং অপচিকিৎসার ওষুধ সরবরাহকারী নূরু ফার্মেসীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও আজীজ হায়দার ভূঁইয়া। পর দিন সমকালের ১৯ পৃষ্ঠায় ‘ভুল চিকিৎসা: শ্রীপুরে আল বারাকা হাসাপাতালের এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ’ শিরোনামে আরো একটি সংবাদ ছাপা হয়। এর আগে ১১ এপ্রিল রাতে ইউওনও আজীজ হায়দার ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা পেয়ে হাসপাতালটিকে সিলগালা করে দেন। এই ঘটনা সমকালে প্রকাশের কারণে প্রতিনিধির নামে কল্পনাশ্রিত বর্ণনা দিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে মাজেদুর রহমান।
শ্রীপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন ‘ থানায় নবাগত অনাড়ি উপপরিদর্শক আল আমীন আমাকে না জানিয়ে অসত্য এই সাধারণ ডয়েরি গ্রহণ করেছে।’ নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে ওই পুলিশ অফিসার প্রভাবিত হয়ে ভিত্তিহীন এ জিডি গ্রহণ করেছেন। ঘটনানাটি তদন্ত করে আজ বুধবারের মধ্যে একজন অফিসারকে রির্পোট পেশ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ওসি। ওদিকে সমকালের প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অসত্য সাধারণ ডায়েরি করায় গতকাল দুপুরে শ্রীপুর প্রেসক্লাবে জরুরী এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মাস্টারের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরা। এছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। অন্যদিকে সাধারণ ডায়েরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সমালোচনার ঝড় বইছে।

Facebook Comments