কাপাসিয়ায় প্রাইভেট হাসপাতালে ভুয়া ডাক্তারের ছড়াছড়ি

0
22
Print Friendly, PDF & Email
kapasia-map

কাপাসিয়া উপজেলার সর্বত্র প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে চলছে চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা। সেবামূলক এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভুয়া ডাক্তারদের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ভুল চিকিৎসায় অনেকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত বুধবার জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এলাকাবাসী লিখিত আবেদন করেছেন। 

 

জানা যায়, গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অনেকেই ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করে আসছে। কোন কারণে মালিক পক্ষের সন্দেহ হলে তারা অন্যত্র চলে গিয়ে পুনরায় প্রতারণা শুরু করে।

 

বহুল আলোচিত ডা. মোঃ রমজান খান, ডা. মোঃ রফিকুল ইসলাম ও ডা. বিপ্লব কুমার রায় নামধারী ডাক্তাররা দীর্ঘদিন যাবত শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে নিজেদের এমবিবিএস পরিচয় দিচ্ছে। তারা সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রমজান খানসহ অন্যান্যরা দীর্ঘ প্রায় ৭/৮ বছর যাবত কাপাসিয়া বাসটার্মিনাল এলাকায় অবস্থিত জোবায়দা মেমোরিয়াল হাসপাতালে ডাক্তার পরিচয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। রোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মালিক পক্ষ বার বার তাদের ডাক্তারী সার্টিফিকেট দেখাতে বললেও তা দিতে ব্যর্থ হয়। সম্প্রতি তারা উপজেলার আমরাইদ বাজারে অবস্থিত আইডিয়াল ডায়াগনস্টিক হাসপাতালে এবং টোক আধূনিক হাসপাতালে পূর্বের ন্যয় রোগীদের সাথে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা এমবিবিএস ডাক্তার হিসেবে সনোলজিস্ট, কনসালটেন্ট ইত্যাদি পরিচয় দিয়ে ও রকমারী সাইনবোর্ড, প্যাড, কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করে রোগীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের প্রতারণামূলক আচরণে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী তাদের চ্যালেঞ্জ করে তাদের প্রকৃত পরিচয় জানতে চায়।

 

তারা নিজেদের গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করেছে বলে প্রচার করলেও রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং সার্টিফিকেট দেখাতে পারেননি। দীর্ঘদিন যাবত টালবাহানা করলে, গণস্বাস্থ্যে খোঁজ নিয়ে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে কয়েক জন হাসপাতাল মালিক জানান। এ ব্যাপারে গাজীপুর সিভিল সার্জন অফিস লিখিত অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে সূত্রে জানা যায়।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আঃ খালেক এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার এবং তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান। এ ব্যাপারে রমজান খান মোবাইল ফোনে জানান, যথাযথ কর্তৃপক্ষ তার পাসকৃত ডাক্তারী সার্টিফিকেট ও প্রমাণ চাইলে তিনি দেখাবেন এবং তার বিরুদ্ধে এসব ষড়যন্ত্র হচ্ছে। অভিযোগকারী এসএম জহির ও ইকবাল হোসেন বাবুল স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্রের অনুলিপি স্থানীয় সংসদ সদস্য, গাজীপুর জেলা প্রশাসক, কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কাপাসিয়া থানার অফিসার ইন-চার্জ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, টোক ইউনয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানগণকে বিষয় উল্লেখ করে অবহিত করা হয়েছে। এলাকাবাসী ভুয়া ডাক্তার ও প্রতারণামূলক চিকিৎসা সেবার হাত থেকে রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। 

Facebook Comments