বিএনপির লংমার্চকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থায় আ. লীগ

0
18
Print Friendly, PDF & Email
awamibnp

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সতর্ক অবস্থায় আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল ঢাকা থেকে তিস্তা অভিমুখে বিএনপির লংমার্চকে কেন্দ্র করে। এই লংমার্চ কর্মসূচির রুটের ওপর ভিত্তি করে এটিকে ঘিরে অবস্থান নেবে বর্তমনা ক্ষমতাসীনরা। তাই সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে রুটের জেলার নেতাদের সঙ্গে। এরইমধ্যে দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে সতর্ক থাকার নির্দেশনা।

 

আওয়ামী লীগ আশঙ্কা করছে বিএনপির তিস্তা অভিমুখে লংমার্চকে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, এর আগে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন কর্মসূচিতে সংঘর্ষ বাধিয়ে সরকারের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা। এবার যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সেদিকে কড়া দৃষ্টি রাখবে ক্ষমতাসীনরা।

 

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনা সভায় বলেছেন, “আগামী ২২ ও ২৩ এপ্রিল তিস্তা অভিমুখে বিএনপির লংমার্চ নিয়ে যে আ্স্ফালন করছে তাতে মনে হয় শান্ত দেশে আবার নৈরাজ্য ফিরে আসবে। এই লংমার্চকে কেন্দ্র করে যদি কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।”

 

জানা গেছে, বিএনপির লং মার্চ কর্মসূচির প্রথম দিন পথসভা হবে ৪টি স্থানে। রাজধানীর উত্তরা, জয়দেবপুর, কোনাবাড়ি হয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পৌঁছার পর সেখানে প্রথম পথসভা হবে। এরপর টাঙ্গাইলে দ্বিতীয়, সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় তৃতীয় এবং বগুড়ায় চতুর্থ পথসভা শেষ করে সন্ধ্যায় রংপুরে পৌঁছাবে লং মার্চ। রাতে রংপুরে যাত্রা বিরতি করবেন নেতারা।

 

পরদিন সকালে রংপুরে সমাবেশের মধ্য দিয়ে ডালিয়া অভিমুখে যাত্রা শুরু করবে বিএনপি নেতারা। ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারেজের কাছে সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২দিনের এই লংমার্চ কর্মসূচি।

 

বিএনপির এই লংমার্চ কর্মসূচির রুটের ওপর ভিত্তি করে এটিকে ঘিরে অবস্থান নেবে সরকার ও আওয়ামী লীগ।

 

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে তিস্তা অভিমুখের জেলাগুলোর নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। বিএনপি নেতা-কর্মীরা কোনো ধরনের নৈরাজ্য চালালে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে নিয়ে তা মোকাবিলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

বিশেষ করে যেসব জায়গায় বিএনপি পথসভা করবে (গাজীপুরের কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায়) এসব থানা এবং জেলার নেতা-কর্মীদের স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

 

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে জানা যায়, বিএনপির এই লংমার্চ কর্মসূচির রাজনৈতিক রূপের ওপর নির্ভর করছে এটিকে ঘিরে সরকার বা আওয়ামী লীগ কোন ধরনের অবস্থান নেবে। তবে আন্দোলনের নামে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে দিবে না।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীল সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “বিএনপির এ কর্মসূচি জনগণের স্বার্থে নয়। এটি তাদের নতুন করে নৈরাজ্য করার একটি পাঁয়তারা। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করলে ভালো, না করলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।”

 

কারণ হিসেবে নাসিম বলেন, “যে নেত্রী ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যার চুক্তির কথাই ভুলে যায় তার মুখে তিস্তার পানির জন্য লংমার্চ করার কথা শোভা পায় না।”

 

এ বিষয়ে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, “বিএনপি তিস্তা অভিমুখে লং মার্চ করার কর্মসূচি দিয়েছেন। লং মার্চেও নামে কাউকে নৈরাজ্য করতে দেয়া হবে না। নৈরাজ্যকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে সরকার ও আওয়ামী লীগের প্রতিটি সদস্যকে সজাগ থাকতে হবে। জনগণ ও দেশবাসীর জানমাল রক্ষার জন্য সরকার সর্বদা সচেষ্ট থাকবে। কোনো ধরনের নৈরাজ্য সরকার বরদাস্ত করবে না।”

Facebook Comments