দুই আসামি বিদেশে নূর হোসেন ঢাকায়?

0
18
Print Friendly, PDF & Email
pic-30 79907

গাজীপুর২৪.কম নিউজ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি এবং সিদ্ধিরগঞ্জের গডফাদার বলে পরিচিতি পাওয়া নূর হোসেন এখনো অধরা। অপহরণের পর নজরুলের স্বজনরা নূর হোসেনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুললেও টনক নড়েনি প্রশাসনের। এখনো আটক করা যায়নি এক ডজন সহযোগীসহ নূর হোসেনকে। নজরুলের স্বজন ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দু-একজন আসামি দেশ ছেড়ে পালালেও নূর হোসেনসহ অন্য আসামিরা এখন দেশেই আছে। তাদের দাবি, ঢাকায় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে আছেন নূর হোসেন।
তবে ঢাকা রেঞ্জের পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক খন্দকার গোলাম ফারুক গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আসামিদের গ্রেপ্তারে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত তিনজনকে (গতকাল দুপুর) আটক করা হয়েছে। একজনের কাছ থেকে অ্যাডভোকেট চন্দন কুমারের মোবাইল ফোনের সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন সব আসামিকেই খোঁজা হচ্ছে। তবে কাকে আটক করা হলো, তা এখন তদন্তের স্বার্থে বলা যাবে না।’
তদন্তের স্বার্থের দোহাই দিলেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. মহিদ উদ্দিন খন্দকারও। ‘সব বলা যাবে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘নূর হোসেনকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তার বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।’
নূর হোসেনের সাম্রাজ্যে আঘাত হানতেই গেল এক সপ্তাহ : নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণের পর মামলায় আসামি করার এক সপ্তাহ পর গতকাল শিমরাইলের টেকপাড়ায় নূর হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ অভিযানে বাড়ি থেকে ১০-১২ জনকে আটক এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়। অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ কোনো আলামত ও আসামি পাওয়া গেছে কি না সে ব্যাপারে তথ্য দিতে নারাজ পুলিশ কর্মকর্তারা। এদিকে কাচপুর এলাকায় নূর হোসেনের দখলে থাকা বালুমহাল উদ্ধারের অভিযানও শুরু করেছে বিআইডাব্লিউটিএ। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে সিদ্ধিরগঞ্জের কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, মিডিয়ায় তোলপাড় শুরু হওয়ার কারণে এসব আইওয়াশ চলছে। তা না হলে বাড়ি তল্লাশি চালাতে কি সাত দিন লাগে? তাঁরা আরো বলেন, নূর হোসেন প্রশাসন ও দলীয় শীর্ষ পর্যায়ে টাকা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। তাই বড় বড় অপরাধ করেও ছিল ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। অপহরণ ঘটনার আগেই তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে ১৩টি মামলা ছিল। পুলিশ তো তাকে কখনো জিজ্ঞাসাও করেনি। এখনো নূর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগের চার-পাঁচজন নেতা। তাঁরা আরো বলেন, নূর হোসেন আওয়ামী লীগের অনেক প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। ফলে নূর হোসেন গা বাঁচিয়ে চলতে পারছেন।
প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে ঢাকায় নূর হোসেন : নিহত নজরুল ইসলামের শ্বশুর ও সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুই কোটি টাকা খরচ করে নূর হোসেন আমার জামাইকে হত্যা করেছে। প্রভাবশালী গডফাদারদের আশ্রয়ে আছে নূর হোসেন। সে প্রশাসনকে কিনে ফেলার কারণে এত বড় ঘটনা ঘটানোর পরও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’ শহীদুল ইসলাম আরো বলেন, ‘নূর হোসেন ঢাকায়ই আছে। আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা তাকে আশ্রয় দিয়েছেন বলে আমরা শুনেছি।

Facebook Comments
শেয়ার করুন