বিরোধীদলীয় নেতার আসনও জুটছে না কংগ্রেসের

0
19
Print Friendly, PDF & Email
pic-14 85286

গাজীপুর২৪.কম নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নির্বাচনে দেশ শাসনের ক্ষমতা হারানো তো আছেই, সেই সঙ্গে পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতার আসনটিও পাচ্ছে না কংগ্রেস। সংবিধান অনুযায়ী নূ্যনতম আসন না পাওয়ায় ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ পড়ল ভারতের প্রাচীন এই দলটির ওপর। গত ৩০ বছরের মধ্যে দেশটিতে এটাই হবে প্রথম বিরোধীদলীয় নেতাহীন পার্লামেন্ট।

আইন অনুযায়ী, প্রধান বিরোধী দল হতে গেলে কমপক্ষে ১০ শতাংশ আসন পেতে হবে। সে অনুযায়ী এবারের লোকসভা নির্বাচনে ৫৪৩টির মধ্যে অন্তত ৫৪টি আসন দরকার ছিল কংগ্রেসের। কিন্তু তারা পেয়েছে মাত্র ৪৪টি আসন। এ কারণে এবার ভারতীয় পার্লামেন্টে সাংবিধানিকভাবে প্রধান বিরোধীদল কিংবা বিরোধীদলীয় নেতা থাকছেন না।

ভারতে একজন মন্ত্রীর সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন বিরোধীদলীয় নেতা। এ ছাড়া বিভিন্ন মনোনয়ন কমিটির সদস্যপদও থাকে তাঁর। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মনোনয়নের ক্ষেত্রে কি পরিস্থিতি দাঁড়াবে, সেই প্রশ্ন ওঠেছে। এর উত্তরে দেশটির আইনবিশেষজ্ঞ সুবাশ কাশিয়াপ বলেন, ‘একটি সিদ্ধান্ত নিতেই হবে। সে ক্ষেত্রে বিরোধীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে- এমন দলের কাউকে মনোনয়ন কমিটিতে নেওয়া যেতে পারে।’

প্রধান বিরোধী দলহীন পার্লামেন্ট ভারতের ইতিহাসে এটিই প্রথম নয়। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতে পাঁচটি লোকসভা নির্বাচন হয়। এসব নির্বাচনে পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় কোনো নেতা ছিলেন না। ১৯৫২ সালের নির্বাচনে কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (সিপিআই) ছিল একমাত্র বিরোধীদল। ওই সময় ৪৮৯টির মধ্যে মাত্র ১৬টি আসন পায় তারা।

তবে পার্লামেন্টের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা আবার কংগ্রেসেরই। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারি করে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কংগ্রেস সরকার। ওই সময় বিরোধী দলগুলোকে প্রত্যাখ্যানের পাশাপাশি বিরোধী নেতাদের গণহারে গ্রেপ্তার করে সরকার। এর প্রভাবে ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে ভরাডুবি হয় কংগ্রেসের। তখন কংগ্রেসের নেতা ওয়াইবি চ্যাবন পার্লামেন্টের প্রথম বিরোধীদলীয় নেতা হন। কারণ, ওই নির্বাচনে নিজের আসনটিও হারিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস।

Facebook Comments
শেয়ার করুন